প্রচ্ছদ শিক্ষাঙ্গন “পাবিপ্রবি’তে খাস কামরার সন্ধান, ছাত্রীদের যৌ’ন হয়’রানির অভিযোগ”

“পাবিপ্রবি’তে খাস কামরার সন্ধান, ছাত্রীদের যৌ’ন হয়’রানির অভিযোগ”

132

*পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সভাপতির কক্ষে গো’পন খাস কামরার সন্ধা’ন পেয়ে বি’ক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুরে ওই বিভাগের বর্তমান ও সাবেক সভাপতির বি’রুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের যৌ’ন নির্যা’তনের অভিযোগ তুলে বি’ক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই কামরার খাটসহ আসবাবপত্র বের করে দেয়। ঘট’নার সুষ্ঠু ত’দন্ত সাপেক্ষে অভি’যুক্ত শিক্ষকদের বি’রুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

*বিক্ষু’ব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বর্তমান সভাপতি আমিরুল ইসলাম ও সাবেক সভাপতি ড. কামরুজ্জামান বিভিন্ন সময়ে বিভাগের নারী শিক্ষার্থীদের প্র’লোভন ও ভ’য়ভীতি দেখিয়ে যৌ’ন নি’র্যাতন করে ওই কক্ষে। বিষয়টি ওপেন সি’ক্রেট হলেও সামাজিক সম্মান ও শিক্ষা জীবনের কথা ভেবে ভুক্তভোগীরা লিখিত অভি’যোগ করতে সা’হস পায়নি। সম্প্রতি ওই কক্ষে খা’ট পেতে খাস কামরা তৈরির বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীরা বি’ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে।

*মঙ্গলবার দুপুরে শিক্ষার্থীরা ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সভাপতির কক্ষে গিয়ে চ্যালেঞ্জ করলে ওই গোপন খাস কামরায় সুসজ্জিত বিছানার সন্ধান মেলে। এ সময় শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কামরা থেকে ত’ড়িঘড়ি করে খা’টসহ আসবাবপত্র বের করে দেয়।
তবে শিক্ষার্থীরা অভি’যোগ করেন, ওই বিভাগের বর্তমান ও সাবেক সভাপতি নিয়মিত ও সান্ধ্যকালীন কোর্সের নারী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময়ে জো’রপূর্বক তাদের ওই কক্ষে ডে’কে নিতেন। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্যম্পাসে কানা’ঘুষা হলেও কোন তোয়াক্কা না তারা তাদের অ’পকর্ম চালিয়ে যান।

*পাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদ চৌধুরী আসিফ বলেন, শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময়ে অভি’যোগ করেছেন ওই দুই শিক্ষকের অ’পকর্মের কথা। বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও আজ অফিস কক্ষে এ ধরনের সুসজ্জিত খাস কামরার কি প্রয়োজন তা আমার বোধগম্য নয়। নারী শিক্ষার্থীদের যৌ’ন হে’নস্থার মতো স্পর্শকা’তর বিষয়ের অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত শিক্ষকদের বিচার দাবি করছি।

*তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সভাপতি ড. আমিরুল ইসলাম বলেন, নৈশ ও নিয়মিত কোর্সের ক্লাশ নেওয়ার জন্যে ক্যম্পাসে শিক্ষকদের দীর্ঘসময় অবস্থান করার কারণে পূর্বের সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি সা’পেক্ষে বিশ্রা’ম কক্ষ তৈরি করেন। যা শুধুমাত্র বিশ্রামের জন্যেই ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

*ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সাবেক সভাপতি ড. কামরুজ্জামান বলেন, প্রশ্নপত্র প্রনয়ণসহ বিভিন্ন গোপন কাজের জন্যে কক্ষটি তৈরি করা হয়েছিল। কখনোই কোন নারী শিক্ষার্থী যৌ’ন হে’নস্থার অভিযোগ করেনি। অভ্যন্তরীণ শিক্ষক রাজনীতির কারণে ছাত্রদের দিয়ে মি’থ্যা অ’ভিযোগ করা হচ্ছে। তবে অন্যান্য বিভাগে এ ধরনের খা’স কামরা না থাকলেও ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রয়োজনীয়তা জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

*এ বিষয়ে পাবিপ্রবির প্রক্টর ড. প্রীতম কুমার দাস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় নীতিমালায় বিভাগীয় সভাপতির কক্ষে এ ধরনের খাট বিছানোর সুযোগ আছে কিনা আমার জানা নেই। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কথিত ওই খা’স কা’মরা থেকে আমরা খাটসহ আসবাবপত্র বের করে দিয়েছি। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ত’দন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
খাস কামরার বিষয়ে জানতে পাবিপ্রবি ভিসি ড. রোস্তম আলীর সাথে কথা বলার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করে পরবর্তীতে ফোন ব’ন্ধ করে দেন।