প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত “টেকনাফে ‘ইসলামিক রোহিঙ্গা প্রজাতন্ত্র’ আন্দোলন শুরু হবে”

“টেকনাফে ‘ইসলামিক রোহিঙ্গা প্রজাতন্ত্র’ আন্দোলন শুরু হবে”

সুষুপ্ত পাঠক

95

*টেকনাফে রোহিঙ্গারা সম্ভবত ১৫ লাখ। সংখ্যাটা তাদের দ্রুত প্রজনন হারের কারণে অচিরেই স্থানীয়দের যোজন যোজন দূরে ফেলে দিবে। টেকনাফে এক সময় ‘ইসলামিক রোহিঙ্গা প্রজাতন্ত্র’ আন্দোলন শুরু হবে আমাদের জীবদ্দশাতেই। রোহিঙ্গাদের দুটি সংগঠন ‘রোহিঙ্গা রাজ্য’ ঘোষণা করতে আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারেটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) এবং আরাকান রোহিঙ্গা ইসলামিক ফ্রন্টের (আরিফ) বিদেশী অর্থ এবং অ’স্ত্রের ম’দতে পরিকল্পিতভাবে মিয়ানমারে প্রবেশ করে সা’ম্প্রদায়িক উশ’কানি দিয়ে, নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হা’মলা চা’লিয়ে সাধারণ রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অ’নুপ্রবেশে বা’ধ্য করছে।

*২০১২ সালে ‘রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ ও প্রত্যাবাসন আন্দোলন কমিটি’ নামের বাংলাদেশী সংগঠনটি এই দাবী জানায়। ২০০৯ সাল থেকে এই সংগঠন বক্সবাজার এবং আশেপাশের এলাকায় রোহিঙ্গাদের নিয়’ন্ত্রণে আন্দো’লন করে আসছে। ২০১২ সালে প্রথম আলোর কাছে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের বক্সবাজার জেলা সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল বারী একইভাবে বক্সবাজারকে দ’খল করে ‘রোহিঙ্গা’ রাজ্য বা’নানোর ষ’ড়যন্ত্রের অভিযোগ করেন। (সূত্র: প্রথম আলো, ২৩/০৬/২০১২)। যারা ভারত শাসিত কাশ্মিরের স্বাধীনতা চান, তারা নিশ্চয় তখন টেকনাফের ‘রোহিঙ্গাল্যান্ডের’ স্বাধীনতার পক্ষে থাকবেন আশা করি!

*রোহিঙ্গাদের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ বার্মিজরা কেন ক্ষু’ব্ধ, কেন বার্মিজদের সুশীল সমাজ কেউই রোহিঙ্গাদের পক্ষে নেই সেটা সম্ভবত এতদিনে বাংলাদেশীরা বুঝতে পারছে। মুসলমান বলে আদর আপ্যায়ন করে যারা নিজেদের ঘরের উঠোনে ঘর করে দিয়েছিলো, তাদেরকেই রোহিঙ্গারা এখন উ’চ্ছেদ করে দিচ্ছে। রোহিঙ্গাদের এতখানি স’হিংস চরিত্র যে স্থানীয় ছেলেপুলে মা’র খেয়ে আসলেও বাবা-মা বিচার চাইতে সা’হস পায় না। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া যাবে এমন চিন্তা থেকে তাদের ঢালাও আশ্রয় দেয়া হয়েছিলো। তাদের সঙ্গে একবেলা ভাগাভাগি করে খাওয়ার কথা সরকার থেকে বলা হয়েছিলো। যারা ‘মোহাজির রোহিঙ্গা’ মেয়েদের বিয়ে করে মদিনার আনসারদের পদাঙ্ক অনুসারণ করতে বলেছিলো তারাও রোহিঙ্গা নারীদের সংখ্যাগরিষ্ঠ এইডস আ’ক্রান্ত দেখে চুপসে গেছে।

*সব মিলিয়ে আপাতত দেশে রোহিঙ্গা প্রেম শূন্য কোঠায়। এতে রোহিঙ্গাদের কিছু আসে যাবে না। রোহিঙ্গাদের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা এনজিওগুলো তাদের কোটি কোটি টাকা হা’তিয়ে নেয়া ব্যবসার জন্যই রোহিঙ্গাদের জিইয়ে রাখবে যে কোন মূল্যে। রোহিঙ্গাদের নেতা-মাদবর হয় তাদের মসজিদের ইমামরা। চরম ধ’র্মান্ধ এই জাতির কন্ট্রোল ইসলামিক চর’মপন্থিদের হাতে। বাংলাদেশের টেকনাফ কেটে ইসলামিক একটি রাষ্ট্র তৈরির চিন্তা কতখানি বাস্তবসম্মত সেই বিতর্কের চাইতে বেশি জরুরি এরকম চিন্তাধারী টেকনাফে এখন কতজন? কারণ টেকনাফে আগামীদিনে এরাই বড় ধরনের অশা’ন্তির কারণ হয়ে উঠবে।

*একটা জিনিস খেয়াল করলাম, শুরুতে যে সব মানবতাবাদীরা রোহিঙ্গাদের জন্য বর্ডার খুলে দিতে বলেছিলেন ঢালাওভাবে, যারা বলেছিলেন খারাপ হোক, ই’তর হোক, তবু মানবতার খাতিরে এদের আশ্রয় দেয়া উচিত- সেই মানবতাবাদীদের কিন্তু এখন রোহিঙ্গারা ফিরতে না চাওয়ার প্রেক্ষাপটে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ইনাদের কাছ থেকে এখন সমাধান জানতে চাই, রোহিঙ্গারা যেহেতু ফিরতে চাইছে না, গতকাল তারা চার দফা শর্ত আরোপ করেছে, যেগুলো না মানলে তারা বার্মায় ফিরে যাবে না- এখন তাহলে করণীয় কি? এই চার শর্তগুলো হচ্ছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নাগরিকত্ব দেওয়া, জমিজমা ও ভিটেমাটির দ’খল এবং সেদেশের ক্যাম্পে যে এক লাখ ২৮ হাজার রোহিঙ্গাকে রাখা হয়েছে; তাদের বাসস্থানে ফিরিয়ে দিতে হবে ইত্যাদি।

*এগুলো আসলে কোন শর্তই নয়। কারণ এগুলো নিশ্চিত করাটা কিভাবে নিশ্চিত হবে যদি সেখানে আগে নাই গেলো তারা? বার্মাতে যাওয়ার পরই নিরাপত্তা রিশ্চিত কিনা জানা যাবে। আসল কথা হচ্ছে রোহিঙ্গারা কোনদিনই বাংলাদেশ ছাড়বে না। ভারতের দেওবন্দ হুজুররা ভারত ভাগ চায়নি কারণ তারা মনে করত অখণ্ড ভারত থাকলে ইসলামি রাষ্ট্র গড়তে সুবিধা হবে, নয়ত কিয়ামত পর্যন্ত জি’হাদ করলেও ভারতকে দারুল ইসলাম করা যাবে না।

*রোহিঙ্গারাও জানে আরাকানে বার্মীজদের সঙ্গে থেকে আজীবন জি’হাদ করলেও রোহিঙ্গা ইসলামিক খিলাফত প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না। বরং বাংলাদেশে থাকলে টেকনাফ হবে রোহিঙ্গাদের। যেদিন তারা টেকনাফে ৯০ শতাংশ হবে সেদিন ৯০ ভাগের হুং’কার কেমন হবে সেটা তো চরমোনাই পীর আহমদ শফীর হুং’কার থেকেই আমরা জানি। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হেফাজত ইসলামের জি’হাদের দাওয়াতী কার্যক্রম জারি আছে। ‘মুসলিম বিশ্ব’ চাইবে না টেকনাফ থেকে রোহিঙ্গারা চলে যাক। সব মিলিয়ে সমস্যা বাংলাদেশের জন্য জটিল।

*এত জটিলতার কি আছে, থাক না একটা জনগোষ্ঠি বাংলাদেশে। রাষ্ট্র সীমান্ত এইসব তো আমরা নিজেরা বানিয়েছি আর মানুষকে খন্ডিত করে রেখেছি এগুলি দিয়ে। এইসব তো আমিও কতবার লিখেছি। রোহিঙ্গারা থাকলে কি এমন ক্ষ’তি হবে? যদি আমরা বিগত দশ বছরের কথা ধরি, এই সময়ে ইউরোপে ধর্ষ’ণের শিকার হয়েছে অসংখ্য নারী, যাদের সকলেই মিডলইস্ট থেকে আসা মুসলিম ধর্ষ’কদের শি’কার হয়েছিলো। দলবদ্ধ হয়ে কোন নারীকে শ্লীল’তাহানির আরব কালচারের নাম ‘তাহ’রুশ’। এই তাহ’রুশের শি’কার হয়েছে ইউরোপীয়ান নারীরা একদল মধ্যপাচ্য মুসলিম যুবকদের হাতে।

*সমস্যা হচ্ছে মুসলিম ও ইসলাম প্রায়ই আলাদা করা অসম্ভব। পৃথিবীতে এই ধর্মীয় সম্প্রদায় যতখানি তার ধর্মীয় পরিচয়কে ফলাও করে অন্যরা তা নয়। ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল আফগান তূর্কি শাসনের নাম হয়েছে ‘মুসলিম শাসন’। এসব শাসনে ইসলাম প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে এসেছে। কখনো জিজিয়া, কখনো দারুল ইসলাম রূপে। রোহিঙ্গা বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ রোহিঙ্গা সলিডারেটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) এবং আরাকান রোহিঙ্গা ইসলামিক ফ্রন্টের (আরিফ) নামের দুটো জ’ঙ্গি সংগঠন ইসলামিক রোহিঙ্গা রাজ্য গঠন করতেই গঠন করা হয়েছে। কেন কেবল মাত্র স্বাধীনতাকামী দল তারা গঠন করল না?

*শ্রীলংকায় তামিলদের স্বাধীনতা আন্দোলনে তো তাদের ধর্মীয় রাজ্য গঠনের শর্ত ছিলো না। এই কারণেই বললাম মুসলমান আর ইসলাম প্রায়শই আলাদা করা সম্ভব নয়। এ জন্যই পৃথিবীর যে প্রান্তেরই মুসলিমরা সংখ্যায় বেশি হবে সেখানেই তারা নিজেদের জন্য আলাদা শরিয়তী শাসন চায়। ভারতের কাশ্মিরে ৩৭০ উঠিয়ে সব জাতি ধর্ম সম্প্রদায়ের কাশ্মিরে বসবাসের অনুমোদন এই চিন্তা থেকেই যে করা হয়নি তা বলা যাচ্ছে না। ইউরোপ আমেরিকাতে যেখানেই মুসলমান সংখ্যায় বেড়ে গেছে ওমনি তারা ইসলামিক চেহারা নিয়ে হাজির হয়েছে।

*বেলজিয়াম, ইংলেন্ড সবখানেই ইসলামি চেহারায় হাজির হয়েছে মুসলিম কমিউনিটি। এটাই সমস্যা। এ জন্যই মুসলিমদের প্রতি সবাই বি’রাগ বি’দ্বেষপূর্ণ। পথেঘাটে নামাজ পড়ে, চলন্ত ট্রেনে বাসে নামাজ পড়ে মানুষের মনযোগ আলাদাভাবে নজর কাড়তে এদের আচরণ দৃষ্টিক’টু। সৌদি আরব মুসলিম বিশ্বে মসজিদ করতে টাকা দেয় আর উটের মাংস কুরআন পাঠায় বিনামূল্যে। তবু এরা একজন সিরিয়ানকেও আশ্রয় দেয়নি। দেয়নি কারণ তারা জানে জি’হাদী মানসিতার মুসলমান সৌদি রাজতেন্ত্রর বিরুদ্ধে চলমান বিরোধী গ্রুপগুলোর পক্ষে কাজ করবে না- তার কোন গ্যারান্টি নেই। যেমন রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে এসে ইসলামিক গ্রুপগুলোর আঙ্গুল হে’লনে চলছে। সবাই সবার ভালো বুঝলেও বাংলাদেশ বুঝেনি মুসলিম জাতীয়তাবাদী জনগণের আবেগ আর নোবেল পাওয়ার আশায়!

সুষুপ্ত পাঠক: ব্লগার।