প্রচ্ছদ জীবন-যাপন “ঘুমন্ত বাবার খু’নী ৩ মেয়েকে সমর্থন জানাচ্ছে লাখো মানুষ”

“ঘুমন্ত বাবার খু’নী ৩ মেয়েকে সমর্থন জানাচ্ছে লাখো মানুষ”

148

*তিন কিশোরী বোন মিলে নৃ’শংসভাবে হ’ত্যা করেছিলেন ঘুমন্ত বাবাকে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারও করেছে। অথচ হ’ত্যাকারী এই তিন বোনেরই মুক্তি দাবি করছে লাখ লাখ মানুষ। রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে এমনটাই ঘ’টছে। তিন বোনের মুক্তির দাবিতে তিন লাখের বেশি মানুষ আবেদন পত্রে স্বাক্ষর করেছেন।

*তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, বাবার হাতে বহু বছর ধরে শা’রীরিক ও মানসিক নি’র্যাতনের শি’কার হচ্ছিলেন হ’ত্যার দায়ে অভিযুক্ত এই তিন বোন। মস্কোতে একটি ফ্ল্যাটে মেয়ে ক্রেস্টিনা (১৯), অ্যাঞ্জেলিনা (১৮) এবং মারিয়ার (১৭) সঙ্গে বসবাস করতেন ৫৭ বছর বয়সী বাবা মিখাইল খাচাতুরইয়ান। ২০১৮ সালের ২৭ জুলাই সন্ধ্যায় মিখাইল একে একে তিনজনকে নিজের ঘরে ডেকে পাঠান। ঘরবাড়ি ঠিকঠাক পরিষ্কার না করার জন্য তিনজনের সঙ্গেই তিনি ভীষণ রা’গারাগি করেন। শাস্তি হিসেবে তাদের ওপর পিপার গ্যাসও স্প্রে’ করেন। এর কিছুক্ষণ পর ঘুমিয়ে যান মিখাইল। আর তখনই তিন মেয়ে একটি ছু’রি, হা’তুড়ি এবং পিপার স্প্রে’ নিয়ে ঝাঁ’পিয়ে প’ড়েন ঘুমন্ত বাবার ওপর। সব আক্রো’শ ঝে’ড়ে হিং’স্রভাবে আ’ঘাত করে হ’ত্যা করেন বাবাকে।

*ময়নাতদন্তে, মিখাইলের দেহে ৩০টিরও বেশি ছুরি’কাঘাতের ক্ষ’ত পাওয়া যায়। এর মধ্যে মারা’ত্মক আঘা’ত ছিল মাথা, ঘাড় ও বুকে। বাবাকে নৃ’শংসভাবে হ’ত্যার পর তিন বোন মিলে পুলিশকে ফোন করেন এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর আ’ত্মসমর্পণ করেন। এরপর শুরু হয় মামলার তদন্ত। ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে ভ’য়াবহ নি’র্যাতন ও নি’পীড়নের ইতিহাস।

*তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, তিন বছরের বেশি সময় ধরে বাবা মিখাইল খাচাতুরইয়ান তার মেয়েদেরকে মার’ধর ও নানাভাবে নি’র্যাতন করতেন। তাদেরকে ঘরে আ’টকে রাখতেন। এমনকি যৌ’ন নিপী’ড়নও চালাতেন। তিন মেয়ের কাউকেই লোকজনের সাথে মিশতে দেওয়া হতো না। ফ্ল্যাটের ভেতর আ’টক অবস্থায় প্রতিনিয়ত নিপী’ড়নের শি’কার হতে হতে তাদের মধ্যে পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস সিনড্রোম (পিটিএসডি) দেখা দিয়েছিল।

*মিখাইল তার স্ত্রীর ওপরও একইভাবে নি’র্মম নির্যা’তন চা’লাতেন। নির্যা’তনে অ’তিষ্ঠ হয়ে অরেলিয়া ডুনডুক পুলিশের কাছে গিয়েছিলেন। তাকে বাঁ’চাতে প্রতিবেশীরাও গিয়েছিলেন পুলিশের কাছে সাহায্য চাইতে। তারাও মিখাইলকে খুব ভ’য় পেতেন। কিন্তু কোনোবারই পুলিশ তাদেরকে কোনো সাহায্য করেনি। ২০১৫ সালে অরেলিয়াকে মিখাইল বাসা থেকে বের করে দেন। তারপর থেকে মেয়েদের সঙ্গে চেষ্টা করেও আর যোগাযোগ করতে পারেননি অরেলিয়া। মেয়েদের সঙ্গে সবরকম সম্পর্ক রাখা তার জন্য নি’ষিদ্ধ ছিল।

*রুশ পুলিশ সাধারণত পারিবারিক নির্যা’তনের ঘটনাগুলোকে ‘পারিবারিক বিষয়’ হিসেবে ধরে নেয়। নির্যাত’নকারীকে তেমন কোনো শা’স্তিই পেতে হয় না। এ কারণেই স্ত্রীর ওপর অ’ত্যাচার চা’লিয়েও বেঁ’চে যাচ্ছিলেন মিখাইল। কিন্তু তিন মেয়ের ওপর তার অ’ত্যাচারের ইতিহাস সামনে আসার পর ক্ষে’পে ওঠে রাশিয়ার জনগণ।

*ঘটনার প্রথম থেকেই মামলাটি পুরো রাশিয়ায় সাড়া ফেলে দিয়েছিল। এসব তথ্য প্রকাশের পর মানবাধিকার কর্মীরাও মেয়েদের পক্ষে লেগে যান। তারা যুক্তি দেখান, এই তিন বোন অ’পরাধী নন, বরং অপ’রাধের শি’কার। নিপী’ড়ক বাবার কাছ থেকে রে’হাই পাবার কোনো উপায় না পেয়ে বছরের পর বছর নি’র্যাতন স’ইছিলেন তারা। ঘটনাটা অনুধাবন করতে পেরে রুশবাসী ওই তিন বোনের পক্ষেই দাঁড়াচ্ছে।

*তবে রাষ্ট্রপক্ষ বলছে ভিন্ন কথা। তাদের অভিযোগ, অ্যাঞ্জেলিনা হা’তুড়ি, মারিয়া ছু’রি এবং ক্রেস্টিনা পিপার স্প্রে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হা’মলা চা’লিয়েছিলেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিন বোনকে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারা’দণ্ড ভো’গ করতে হতে পারে। আর আসামিপক্ষের আইনজীবী বলছেন, হ’ত্যাকাণ্ডটি মূলত আ’ত্মরক্ষার্থে ঘটা’নো হয়েছে। রাশিয়ার দণ্ডবিধিতে শুধু তাৎক্ষণিক স’হিংসতার ক্ষেত্রে আ’ত্মরক্ষা নয়, টানা নি’র্যাতন বা অপ’রাধের শি’কারের ক্ষেত্রেও পা’ল্টা হা’মলাকে আত্ম’রক্ষা হিসেবে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।

*উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, জিম্মি অবস্থায় নি’র্যাতনের শি’কার ব্যক্তি নি’র্যাতনকারীকে হ’ত্যা করলে সেটি ‘আ’ত্মরক্ষার্থে হ’ত্যা’। আর এই আইনের পরিপ্রেক্ষিতেই তিন বোনের আইনজীবী দাবি করছেন, বছরের পর বছর টানা অ’পরাধের শি’কার হয়ে এ কাজ করেছেন তারা। তাই তাদেরকে মুক্তি দেয়া উচিত। শেষপর্যন্ত কী ঘটে সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।