প্রচ্ছদ রাজনীতি “২১ আগস্ট শামীম ওসমানের স্ত্রীকে ফোনে কি বলেছিলেন জয়?”

“২১ আগস্ট শামীম ওসমানের স্ত্রীকে ফোনে কি বলেছিলেন জয়?”

759

*২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রে’নেড হাম’লার পর শামীম ওসমানের স্ত্রী সালমা ওসমান লিপিকে ফোন দিয়েছিলেন শেখ হাসিনার সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়। ২১ আগস্ট গ্রে’নেড হা’মলায় নি’হতদের স্মরণ সভায় এসে তিনি বলেন, ‘২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আমি দেশে ছিলাম না। আমি কানাডায় ছিলাম। আসলে আমাদেরকে থাকতে দেয়া হয়নি। ২১ আগস্টের আমার বাসার ল্যান্ডফোনে ফোন আসে। ফোন করেছিলেন সজিব ওয়াজেদ জয়।’

*ফোন ধরার পর আমাকে ভাবি ডেকে বললেন, ‘ভাবি ঢাকায় আর একটি কেয়া’মত হয়ে গেছে। মাকে আবার মা’রতে চে’ষ্টা করা হয়েছে। বো’মা হা’মলা হয়েছে। অনেক মানুষ নি’হত হয়েছে। আইভী চাচী মৃ’ত্যুর সঙ্গে পা’ঞ্জা লড়ছে।’
আমি বললাম আপা কেমন আছে? উত্তরে জয় বললেন, ‘মা ভালো আছে।’
গতকাল বুধবার ২১ আগস্ট গ্রে’নেড হা’মলায় নিহ’তদের স্মরণসভায় এ ব’র্ণনা দেন সালমা ওসমান লিপি। এ সময় তিনি ১৬ জুন নারায়ণগঞ্জে সংঘ’টিত বো’মা হা’মলার অভিজ্ঞতাও বর্ণ’না করেন তিনি।

*লিপি ওসমান বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলে আমি সেখানেই বসে পড়ি। আমার মাথায় তখন ঘু’রছিল নারায়ণগঞ্জের ১৬ জুনের বো’মা হা’মলার ঘ’টনা। আমি উপস্থিত হয়েছিলাম সেই র’ক্তাক্ত স্থানে যেখানে পড়েছিল নি’হত মানুষগুলো। আমি যখন নারায়ণগঞ্জ খানপুর হাসপাতাল দিয়ে হাঁটছিলাম কারো হাতের অংশ কারো আঙ্গুল কারো পা স’রিয়ে দিয়ে রাস্তা করে দেয়া হচ্ছিল। আমার স্যান্ডেলের সোল র’ক্তের নিচে ডুবে যাচ্ছিল। আমি সেই নৃ’শংসতা দেখেছি।

*আধা ঘণ্টার জন্য জানতাম আমি বিধবা হয়েছি। আধা ঘণ্টার জন্য জানতাম শামীম সাহেব ছি’ন্ন-বি’চ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। আমি মেইন রোড দিয়ে দৌড়াচ্ছিলাম। আমাকে কেউ একজন রিকশায় তুলে আমার বাবার বাড়িতে নিয়ে গেল। আমি তার নাম জানি না। সেখানে গিয়ে আমি অজ্ঞা’ন হয়ে যাই। আধাঘণ্টা পরে আমি জানতে পারি শামীম সাহেব বেঁ’চে আছেন তিনি হাসপাতালে আছেন। কিন্তু আমাদের অনেকে নাই।

*সিএমইচে গিয়ে যখন পৌঁছালাম তার আগে প্রধানমন্ত্রীর (তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী) সঙ্গে আমার ফোনে কথা হলো। প্রধানমন্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন শামীম কেমন আছে? আমি বললাম, ‘আমি হাসপাতালে গিয়ে দেখেছি শ্বাস নিচ্ছে কিন্তু হাত পা আছে কি না আমি দেখিনি।’ তিনি শুধু আমাকে এই কথা বললেন যে ‘শামীমকে নিয়ে ঢাকায় রওনা হও। যারা এই হা’মলা করেছে তারা আবার করবে। থেকো না নারায়ণগঞ্জে, তোমার আশেপাশে কারা আছে তাকে দাও আমি ফোনে বলে দিচ্ছি।’ আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল ভিপি বাদল ভাই তাকে দিলাম। তিনি ওনাকে নির্দেশ দিলেন। আমরা রাতেই সিএমএইচে চলে গেছি।’

*উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার বিকালে নারায়নগঞ্জ সদর উপজেলা মিলনায়তনে ২১ আগস্ট গ্রে’নেড হা’মলায় নিহ’তদের স্মরণে মিলাদ, দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন লিপি ওসমান। অনুষ্ঠানে এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিক, নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা সংস্থার কর্মকর্তা বারী সাহেদ, সোনারগাঁ উপজেলা মহিলা সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার, পরিচালক সদস্য প্রফেসর ডা. শিরিন বেগম, নাসিক নারী কাউন্সিলর শারমীন হাবিব বিন্নী, ইসরাত জাহান স্মৃতি প্রমুখ।