প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য “সুযোগ্য নেতৃত্বের দৃঢ়তায় যেভাবে সফল হয়েছে আ.লীগ”

“সুযোগ্য নেতৃত্বের দৃঢ়তায় যেভাবে সফল হয়েছে আ.লীগ”

34

*আজ একুশে আগস্ট। আজ সেই ভ’য়াল দিন; সেই ন্য’ক্কারজনক, পা’শবিক হা’মলার দিন; যে দিনের বেদনা কখনো মুছে যাওয়ার নয়। ২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়া’বহ গ্রে’নেড হা’মলা ও হ’ত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। হৃদ’য়বিদারক এ ঘটনায় দলটির তৎকালীন মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ নেতাকর্মী ঘট’নাস্থলেই প্রা’ণ হারান। শো’কাবহ ২১ আগস্ট উপলক্ষে গতকাল বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া আজ স্বেচ্ছায় র’ক্তদানসহ বেশকিছু কর্মসূচি পালন করবে ক্ষমতাসীন দলটি।

*২১ আগস্ট ষ’ড়যন্ত্রকারীদের গ্রে’নেড হাম’লায় ভাগ্যক্রমে বেঁ’চে যান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালে বিরোধীদলীয় নেতা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাকে লক্ষ্য করে গ্রে’নেড নি’ক্ষেপ করার সময় হা’মলাকারী জ’ঙ্গি পড়ে যাওয়ায় তা ল’ক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এ সময় দলের নেতাকর্মীরা মা’নবঢাল তৈরি করে র’ক্ষা করেন শেখ হাসিনাকে। মূলত আওয়ামী লীগকে নে’তৃত্বশূন্য করতেই সেদিন ব’র্বরতম এ হা’মলা চা’লানো হয়; কিন্তু হা’মলাকারীদের সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি। বরং উল্টোটা হয়েছে। সেই ঘটনার পর আরও দৃঢ়তার সঙ্গে দলের হাল ধরেন শেখ হাসিনা।

*পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসীন হয় তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। আর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফের সরকারের নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। সেই শুরু। এরপর অনুষ্ঠিত তিনবারের জাতীয় নির্বাচনে টানা জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ এবং রেকর্ড টানা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। আর বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন তো সারাবিশ্বের জন্য ইতোমধ্যে এক অনন্য নজির গড়েছে; নেতা হিসেবে শেখ হাসিনাও আদায় করে নিয়েছেন বিশ্বনেতাদের সমীহ। আওয়ামী লীগ আজ নেতৃত্বশূন্য নয়, বরং নেতৃত্বগুণেই শত বা’ধা-বি’পত্তি উজিয়ে এগিয়ে চলছে।

*ভ’য়াল সেই হা’মলার পর পেরিয়ে গেছে ১৫ বছর। এর মধ্যে এ হা’মলার ঘট’নায় হওয়া মামলার বিচার নিম্নআদালতে শেষ হয়েছে। এখন হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায়। শুনানি শুরু করতে হলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন মামলাটির ‘পেপারবুক’ অর্থাৎ মামলার এফআইআর, নিম্নআদালতের রায়ের কপিসহ যাবতীয় তথ্যসংবলিত নথি। পেপারবুক তৈরির কাজ শুরু করেছে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন। এটি প্রস্তুত হলেই এ মামলা তাড়াতাড়ি শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে- জানিয়েছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

*২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রা’সবিরোধী শান্তি সমাবেশে একটি ট্রাকের ওপর গড়ে তোলা মঞ্চে শেখ হাসিনা বক্তব্য দিচ্ছিলেন। তার বক্তব্যের শেষপর্যায়ে হরকাতুল জি’হাদের প্রশি’ক্ষিত জ’ঙ্গিরা আ’কস্মিক গ্রে’নেড হাম’লা শুরু করে। একের পর এক গ্রে’নেড বি’স্ফোরণে ঘটনাস্থলে মা’রাত্মক বি’শৃঙ্খলা, গ্রে’নেডের স্প্লি’ন্টারে গু’রুতর আ’হত নেতাকর্মীদের আহা’জারিতে এক বে’দনাবিধুর ভ’য়ার্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। দিনের আলো মুছে গিয়ে চারদিক ধোঁ’য়ায় আ’চ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ঢাকার তৎকালীন মেয়র মোহাম্মদ হানিফ, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত দেহর’ক্ষীসহ আওয়ামী নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে এক মান’বঢাল তৈরি করে শেখ হাসিনাকে র’ক্ষা করেন। শেখ হাসিনা ওইদিন প্রাণে র’ক্ষা পেলেও তার শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। হামলায় আহত মেয়র হানিফের পরবর্তীকালে মস্তিষ্কে র’ক্তক্ষরণজনিত অ’স্ত্রোপচার করার কথা ছিল; কিন্তু গ্রে’নেডের স্প্লি’ন্টার তার শরীরে থাকার কারণে অ’স্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি ব্যাংকক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা’রা যান।

*জানা গেছে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের এ হ’ত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত প্রকৃত অপ’রাধীদের গ্রেপ্তার না করে জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে হা’মলার ঘ’টনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয়। এমনকি ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত ৫টি গ্রে’নেড ধ্বং’স করে দিয়ে হা’মলার প্রমাণ ন’ষ্ট করারও চেষ্টা করেছিল বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন তখনকার সরকার। মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে শুধু জজ মিয়া নয়; ভবঘুরে, ছাত্র, আওয়ামী লীগের এক কর্মীসহ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে তাদের হা’মলাকারী হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা চালায়।

*পরবর্তীকালে সে’নাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অনুকূল পরিস্থিতিতে তখনকার সরকার ২১ আগস্ট গ্রে’নেড হা’মলার মামলাটির নতুন করে ত’দন্ত শুরু করে। এর পরই বেরিয়ে আসতে থাকে হামলার পরিকল্পনাকারী, হা’মলায় সরাসরি জড়িত জ’ঙ্গিসহ অন্যদের নামধাম। গ্রেপ্তার হন জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুুস সালাম পিন্টু। তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ অন্যরা। নাম বেরিয়ে আসে তারেক রহমানসহ গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদেরও।

*২০০৭ সালের ২২ আগস্ট মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফজলুল কবীর। তিনি ১০ মাস ১৭ দিন তদন্ত শেষে আদালতে প্রথম চা’র্জশিট দাখিল করেন। ২০০৮ সালের ১১ জুন দ’ণ্ডবিধি আইনে একটি এবং বি’স্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি চা’র্জশিট আদালতে দাখিল করেন তিনি। ওই চা’র্জশিটে জোট সরকারের সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু ও নি’ষিদ্ধ জ’ঙ্গি সংগঠন হরতাতুল জি’হাদের একাংশের আমির মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। অথচ আগের তদন্তকারীরা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু ও মুফতি হান্নানসহ হামলায় সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়া কোনো জ’ঙ্গিকেই গ্রে’প্তার দেখাননি মামলায়। সব জেনেশুনেও তারা জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে জ’ঙ্গিদের আড়ালের পাঁয়তারা করেন।

*মামলাটিতে চার্জশিট হওয়ার পর ২০০৮ সালের ২৯ অক্টোবর ঢাকার এক নম্বর দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক মাসদার হোসেন আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। এরপর ট্রাইব্যুনাল ওই বছরের ২৯ অক্টোবর থেকে ৯ জুন পর্যন্ত মামলার বাদী এসআই শরীফ ফারুক আহমেদসহ ৬১ জনের সাক্ষ্য নেন। এর পর ২০০৯ সালের ২৫ জুন থেকে ট্রাইব্যুনাল কার্যক্রম শুরু করেন। ওইদিনই রাষ্ট্রপক্ষে প্রধান প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান মামলা দুটি অধিকতর তদন্তের আবেদন করেন। ওই ঘটনায় ব্যবহার হওয়া আর্জেস গ্রেনে’ডের উৎস ও যোগানদাতা এবং ম’দদদাতাদের খুঁ’জে বের করতে অধিকতর তদন্তের প্রয়োজন বলে আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন। শুনানি শেষে একই বছরের ৩ আগস্ট দ্রুতবিচার ট্রাই’ব্যুনালের তৎকালীন বিচারক মাসদার হোসেন রাষ্ট্রপক্ষে অধিকতর তদন্তের আবেদন মঞ্জুর করেন।

*মামলা দুটি অধিকতর তদন্তের আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দ তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ হন। তিনি ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট থেকে ২০১১ সালের ২ জুলাই পর্যন্ত ১ বছর ১০ মাস ২০ দিন তদন্ত করেন। তিনি তদন্তকালে ১৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করেন। যাদের মধ্যে ৩ আসামি আদালতে স্বীকা’রোক্তি দেন। এ ছাড়া কারা’গারে থাকা মুফতি আবদুল হান্নান নিজেই আবেদন দিয়ে দ্বিতীয় স্বীকা’রোক্তি দেন। এই তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ৩ জুলাই বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে সম্পূরক চা’র্জশিট দাখিল করেন।

*গত বছরের ১০ অক্টোবর ২১ আগস্টের গ্রে’নেড হা’মলা মামলায় রায় দেন বিচারিক আদালত। ওই রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃ’ত্যুদণ্ড এবং বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যা’বজ্জীবন কা’রাদণ্ডের আ’দেশ দেওয়া হয়।

*গতকাল মঙ্গলবার এ ব্যাপারে অ্যাটর্নি জেনরেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা পেপারবুকের জন্য অপেক্ষা করছি। পেপারবুক তৈরি হওয়ার পরই এ মামলার তাড়াতাড়ি শুনানির পদক্ষেপ নেব।’ পেপারবুক তৈরি হতে কতদিন লাগবে- এমন প্রশ্নে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এটা কি বলা সম্ভব?’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পেপারবুক তাড়াতাড়ি করার জন্য আমরা কোনো তাগাদা দিতে পারি না। এটার কোনো নিয়ম নেই। পেপারবুক তৈরি হওয়ার পর আদালতের কাছে তড়াতাড়ি শুনানির জন্য প্রার্থনা করতে পারি। তাই পেপারবুক তৈরি হলে এ ব্যাপারে তাড়াতাড়ি শুনানি করতে আদালতে দরখাস্ত দেব।’

*এ ব্যাপারে হাইকোর্টের স্পেশাল অফিসার মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘একুশে আগস্টের মামলায় পেপারবুক তৈরির কাজ চলছে। এ জন্য ডে’থ রেফারেন্স শাখার দুই মুদ্রাক্ষরিক মামলার সব নথি টাইপের কাজে সার্বক্ষণিক নিযুক্ত রয়েছেন। এটা সম্পন্ন হলেই পেপারবুক ছাপানোর জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

*জানা গেছে, পেপারবুক প্রস্তুত হলে মামলাটি শুনানির জন্য প্রস্তুত বলে ধরে নেওয়া হয়। তখন প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেবেন। তার পর ওই নির্ধারিত বেঞ্চে শুনানি হবে। এর পর হাইকোর্টে এ মামলার বিচার শেষ হলে সংক্ষু’ব্ধরা আপিল বিভাগে আপিল করতে পারবেন। আপিল বিভাগেই হবে এ মামলার চূড়ান্ত ফয়সালা। আর আপিল বিভাগে এ মামলার বিচার শেষ হতে এখনো কত বছর লাগতে পারে তা নিশ্চিত করে কেউই বলতে পারছেন না। তবে রাষ্ট্রপক্ষ তাড়াতাড়ি শুনানির বিশেষ উদ্যোগ নিলে আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যেই আপিল বিভাগেও এ মামলার বিচার শেষ করা সম্ভব বলে মনে করেন অনেকে। আর বিশেষ উদ্যোগ না নিলে এখনো ৫-৭ বছর, এমনকি ১০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করা লাগতে পারে।

*জানা গেছে, গত বছরের ১০ অক্টোবর ২১ আগস্টের গ্রে’নেড হা’মলার ঘট’নায় দায়েরকৃত দুটি মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে ‘ডাবল’ মৃ’ত্যুদণ্ড দেন ঢাকার দ্রুত বি’চার ট্রাইব্যুনাল-১। একই অপরাধে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে ‘ডাবল’ যাব’জ্জীবন সা’জা দেওয়া হয়। এসব আসামির মধ্যে ১৮ জনই পলা’তক রয়েছেন।

*রায়ে বলা হয়- হরকাতুল জি’হাদ (হুজি) নেতা মুফতি আবদুল হান্নান ও তার সহযোগীরা গ্রে’নেড হাম’লার কিছুদিন আগে বনানীর হাওয়া ভবনে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে এক বৈঠকে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের হ’ত্যা করার সহযোগিতা চায় জ’ঙ্গিরা। তারেক রহমান উপস্থিত সবার সামনে জ’ঙ্গিদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। আর ওই হাম’লার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল শেখ হাসিনাকে হ’ত্যা করে তার দলকে নেতৃত্বশূন্য করা। গত বছর ডিসেম্বরে পূর্ণাঙ্গ এই রায় প্রকাশ করা হয়।

*আইন অনুযায়ী ফৌজদারি মামলায় দায়রা আদালত যখন আসামিদের মৃ’ত্যুদণ্ড দেন তখন ওই দণ্ড কার্যকরের জন্য হাইকোর্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত মৃ’ত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করলেই ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ৩৭৪ ধারা মোতাবেক ওই মামলার সব নথি হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেন। যা ‘ডে’থ রেফারেন্স’ মামলা হিসেবে হাইকোর্টে এন্ট্রি হয়। ওই নথি আসার পর হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করে। পেপারবুক প্রস্তুত হলে মামলাটি শুনানির জন্য বেঞ্চে পাঠানো হয়।

*এ ছাড়া প্রকাশিত রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর মৃ’ত্যুদণ্ড ও যাব’জ্জীবন দ’ণ্ডপ্রাপ্ত কারাব’ন্দি আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন। আপিলে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাজার রায় বা’তিল চেয়েছেন দণ্ডি’তরা। দণ্ডি’তদের মধ্যে মৃ’ত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ১৭ আসামি ৩৪টি এবং যা’বজ্জীবন দ’ণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি ১৪টি আপিল দায়ের করেছেন বলে ফৌজদারি আপিল শাখা সূত্র জানিয়েছে। এখন ডে’থ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল একসঙ্গেই শুনানি হবে। তবে তারেক রহমানসহ যাব’জ্জীবন দ’ণ্ডপ্রাপ্ত ১৯ আসামির সাজা বৃদ্ধি চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ কোনো আপিল আবেদন করেনি। সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে এ ধরনের আপিল করতে হয়।

*এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গতকাল অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘একুশে আগস্টের এই ষ’ড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত যাদের যাব’জ্জীবন কারা’দণ্ড হয়েছে, তাদের সাজা বৃদ্ধির ব্যাপারে আপিল করার কোনো নির্দেশনা আমাদের দেওয়া হয়নি। এ কারণে অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস থেকে কোনো আপিলও করা হয়নি।’