প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় “২১ আগস্ট আওয়ামী লীগই গ্রে’নেড হা’মলা করেছে: রিজভী”

“২১ আগস্ট আওয়ামী লীগই গ্রে’নেড হা’মলা করেছে: রিজভী”

122

*২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের জনসভায় গ্রে’নেড হা’মলা আওয়ামী লীগেরই পরিকল্পনা বলে জনমনে প্রশ্ন আছে বলে জেনেছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। এই ঘ’টনা নিয়ে ‘বস্তুনিষ্ঠ’ তদন্তও চেয়েছেন তিনি।
র’ক্তাক্ত এই হা’মলার ১৫ বছর পূর্তির দিন ক্ষমতাসীন দল যখন নানা কর্মসূচিতে নিহ’তদের স্মরণ করছে, সেদিন নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির মুখপাত্র এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

*বিএনপি আমলে হা’মলা হয়েছে বলেই তাতে বিএনপির সম্পৃক্ততার প্রমাণ হয় না বলেও মনে করেন দলটির মুখপাত্র। বলেন, ‘যে কোনো সরকারের আমলেই নানা ষড়’যন্ত্র হয়।’
‘আওয়ামী লীগের আমলে পিলখানা হ’ত্যাকাণ্ড হয়েছে না? তাহলে সেজন্য কি আওয়ামী লীগ দায়ী? নাইন ইলেভেনের যে ঘটনা ঘ’টলো সেখানে তো কেউ বলেনি যে যারা সরকারে ছিল তাদের কারণে হয়েছে। বিশ্বব্যাপী কত ধরনের হা’নাহানি, স’ন্ত্রাস-জ’ঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছে। এখন কোথা থেকে কী হয়েছে সেটা বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে বের করতে হবে।’

*২১ আগস্ট হাম’লার তদন্ত নিয়ে বিএনপি শাসনামলে যা হয়েছে, তা পরে হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ‘জজ মিয়া উপাখ্যান’ এখন তদন্তে হস্তক্ষেপের উদাহরণ হয়ে গেছে।
তবে শেখ হাসিনাকে হ’ত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা আওয়ামী লীগেরই ‘নীলনকশা’ কি না, এ নিয়ে জনমনে প্রশ্নও জেনেছেন রিজভী। আসামিদেরকে নির্যা’তন করে তারেক রহমানের নাম জড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তার।

*‘মনে হয়েছে এই ঘটনাটা টা’র্গেট করে নিয়ে যেতে হবে তারেক রহমানের দিকে। তাকে উদ্দেশ্যমূলক ফাঁ’সানোর জন্য তারা ক্ষমতায় এসে জো’র করে আসামিদের পি’টিয়ে হাতের নখ তু’লে স্বীকা’রোক্তি আ’দায় করেছে। তারপরও কিন্তু তারা ম্যাজিস্টেটের কাছে বলেছে যে জো’র করে ট’র্চার করে স্বীকা’রোক্তি আদা’য় করা হয়েছে। এরপর তো আর কোনো কথা থাকতে পারে না। এই বিভা’জন, বি’ভেদ সন্ত্রা’সের রাজনীতি তারাই সৃষ্টি করেছে। তাতে তো মনে হয় এ ঘটনা তাদেরই পরি’কল্পিত ছিল কিনা সেটা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।’

*এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি নেতা বলেন, ‘সবকিছু তাদের (আওয়ামী লীগ) হাতের মুঠোয়। তারা যা ইচ্ছে তাই করতে পারে। কিন্তু প্রকৃত সত্য ঘটনা সবাই জানে। এটা গভীর নী’লনকশার অংশ। এই নীলন’কশার সঙ্গে ক্ষমতাসীনরা জ’ড়িত কিনা সেটাই আজ স’ন্দেহ দেখা দিয়েছে।’
শেখ হাসিনাকে গ্রে’নেড ছু’ড়ে হ’ত্যা চেষ্টার এই ঘটনার সময় ক্ষমতায় ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট। হা’মলার পর পুলিশ নেতা-কর্মীদের পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো লা’ঠিপেটা করে হা’মলাকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অ’ভিযোগ আছে।

*আবার তদন্তের নামে প্রধান অভি’যুক্তদের বাঁচিয়ে নিরীহ জজ মিয়াকে ফাঁ’সানোর চেষ্টা ফাঁ’স হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। পরে অধিকতর তদন্তে আসা’মি হন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিণ্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন আসামি হন।
আওয়ামী লীগ শাসনামলে আরেক দফা অধিকতর তদন্তে আ’সামি হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, দলটির সে সময়ের সংসদ সদ্য শাহ কাজী মোফাজ্জল হাসান কায়কোবাদসহ মোট ৫২ জন।

*হা’মলার ১৪ বছর পর গত ১০ অক্টোবর দেওয়া রায়ে তারেক রহমান, কায়কোবাদসহ ১৮ জনের যাবজ্জীবন, বাবর, পিণ্টুসহ ১৯ জনের ফাঁসির আদেশ এসেছে। আরো ১১ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সা’জা হয়েছে।
বিচার চলাকালে জ’ঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হান্নান জবানবন্দিতে জানান, এই হামলার পরিকল্পনা হয়েছে জোট সরকারের আমলে প্রভা’বশালী হয়ে উঠা হাওয়া ভবনে। একাধিকবার বৈঠক হয়েছে তারেক রহমানের সঙ্গে এবং তিনি সাহায্য সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।

*তবে রিজভী বলেন, ‘অপ’রাধ করলে তারেক রহমান দেশ থেকে সরে যেতেন। কিন্তু তিনি তো দেশ থেকে কোথাও যাননি। খালেদা জিয়া শেষদিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য ল’ড়াই করেছেন। তার যে সংগ্রা’ম এ সংগ্রা’ম হচ্ছে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার সংগ্রা’ম। এটা সম্পূর্ণ চক্রা’ন্তের নী’লনকশা মাস্টা’রপ্ল্যান করেছে তারা, যারা ক্ষমতাসীন।’

*‘ডেঙ্গু রোগীর প্রকৃত সংখ্যা নিয়’ন্ত্রণ করছে সরকার’

*সরকার ডেঙ্গু আ’ক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা লুকাচ্ছে বলেও অভিযোগ বিএনপি নেতা। বলেন, ‘ সরকারের পক্ষ থেকে ডেঙ্গুতে আ’ক্রান্ত ব্যক্তির যে সংখ্যা প্রকাশ করা হচ্ছে সেটি প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে অনেক কম।’

*‘অনেক প্রাইভেট হাসপাতাল এবং হাসপাতালে ভর্তি না হতে পেরে যারা বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয় না। বাস্তব ঘটনা হচ্ছে, সরকার ডেঙ্গু মহা’মারীতে আ’ক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ নিয়ন্ত্র’ণ করছে।’

*ডেঙ্গু নিয়ে সরকারের প্রস্তুতির অভাব ছিল বলেও মনে করেন রিজভী। বলেনম ‘ডেঙ্গু মহা’মারিতে সারাদেশ আ’ক্রান্ত হওয়ার পরও সরকারের উচ্ছ্বা’স ও তা’মাশারও কোনো কমতি নেই। তাই আওয়ামী নেতা-মন্ত্রীদের ফটোসেশনে কাজ হবে না, ডেঙ্গু নিয়’ন্ত্রণে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা।’

*বর্তমানে দেশে নৈ’রাজ্য বলছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘ধ’র্ষণ ও ধর্ষ’ণচেষ্টার কারণে শিশু হ’ত্যার ঘটনা যেন প্রতিদিনের ভয়া’বহ সংবাদ পড়তে হচ্ছে মানুষকে। একেই বলে নৈরা’জ্য। বর্তমানে আমরা অরাজ’কতার চর’ম লগ্নে এসে দাঁড়িয়েছি। বাংলাদেশে এখন ঘা’তক ও মৃ’ত্যুরই সহাবস্থান। ঊর্ধ্বতন আদালতও বলেছে, বিচার না হওয়ার কারণে অপ’রাধের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। ন্যায়বিচারও এদেশ থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে।’
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন, প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সহ দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন, নির্বাহী সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।