প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য “২১ আগস্ট যেভাবে ষড়’যন্ত্রের জা’ল বিছিয়েছিলো খালেদা-তারেক”

“২১ আগস্ট যেভাবে ষড়’যন্ত্রের জা’ল বিছিয়েছিলো খালেদা-তারেক”

879

*২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রা’সবিরোধী শোভাযাত্রায় নজিরবিহীন হা’মলা হয়। যু’দ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা আর্জেস গ্রে’নেড ছুড়ে এবং পরে গু’লি চা’লিয়ে সে সময়ের বিরোধীদলীয় নেতাকে হ’ত্যার চেষ্টা করা হয়। তাকে নেতা-কর্মীরা মানবব’র্ম বানিয়ে রক্ষা করেন। তবে প্রা’ণ হারান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২২ জন। আ’হত হয় অগণিত মানুষ।

*সে সময় ক্ষমতায় ছিল বিএনপি এবং তারা সে সময় এই হামলার জন্য আওয়ামী লীগকেই দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছে। হাম’লার পরবর্তী ঘটনা বাদ দিয়ে শুধু আগের কয়েকটি ঘ’টনার দিকে দৃষ্টি দিলেও সাধারণ চোখে প্রমাণ হয় খালেদা জিয়া-তারেক এই ঘটনার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

*প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খালেদা জিয়ার একটি উক্তিই স্মরণ করা যাক। তিনি সে সময় হাস্যরস করে বলেছিলেন, ‘হাসিনা- সে প্রধানমন্ত্রী হওয়া দূরের কথা, বিরোধীদলের নেতাও হতে পারবে না। আর আওয়ামী লীগ ১০০ বছর ক্ষমতায় যেতে পারবে না।’ তারপরেই কিন্তু এই হা’মলা।

*খুব স্বাভাবিকভাবে এটা যেকোনো মানুষের কাছে উপলব্ধি হবে যে, শেখ হাসিনাকে তো মা’রতেই পারবে, আওয়ামী লীগকেও নিশ্চি’হ্ন করে দেবে যেন এই আওয়ামী লীগ আর শত বছরেও আওয়ামী লীগ যেন ক্ষমতায় যেতে না পারে।

*তাছাড়া যখন এই ধরনের সমাবেশ বা শোভাযাত্রা হয় তখন দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের দিয়ে স্বেচ্ছাসেবী দল করা হয়। নিরা’পত্তা নিশ্চিত করতে তারা আশপাশের ছাদে অবস্থান নেয়। কিন্তু ২১ আগস্টের সেই সমাবেশে এই নেতা-কর্মীদের কোনো ভবনে উঠতে দেয়নি পুলিশ।

*হাম’লার পর পুলিশের ভূমিকাও খালি চোখে দেখে অবাক হয়েছে সবাই। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা যখন আ’হত অবস্থায় পড়ে কা’তরাচ্ছে, সেই দিন অন্য যারা নেতা কর্মী আছে- তারা যখন ছুটে আসল সাহায্য করতে, তখন ওই অবস্থায় টিয়া’রসেল মা’রা হলো, লাঠি’চার্জ করা হলো।

*সেদিন ওই এলাকায় কাজ করা রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের একজন কর্মকর্তাকে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে শাসানো হয়েছিল বলে জানা যায়। সে (গোয়েন্দা কর্মকর্তা) পুলিশ হেডকোয়ার্টারে ফোন করে, সে জানতে চায় এটা কী হচ্ছে, কেন হচ্ছে, তাকে ধ’মক দিয়ে বলা হয়, তোমার ওখানে কী কাজ, তুমি এখান থেকে স’রো।
যে সমস্ত পুলিশ কর্মকর্তা একটু সাহায্য করতে চেষ্টা করেছে, তাদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে, বিএনপির পক্ষ থেকে তি’রস্কার করা হয়েছে। তাদেরকে স’রে যেতে বলা হয়েছে।’

*বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে সভা-সমাবেশ করতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পুলিশের সব সময় ঘি’রে থাকা, দলীয় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়া’তে না দিলেও সেদিন পুলিশ নির্বিঘ্নে তাদেরকে আসতে দেয়ার মধ্যেও চ’ক্রান্ত ছিল বলেই মনে করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বিশেষজ্ঞরা।
ঠা’ট্টা, তামা’শা করেছে বিএনপি সরকার। হাম’লার পর তার এ নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে গেলে তা করতে দেয়া হয়নি।

*ওই বছর ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে আরও একটি হ’ত্যা চেষ্টা হয়েছিল বলে পরে জানতে পেরেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেটি উল্লেখ করে তারেক রহমানের শ্বশুর বাড়িতে রাতের আঁধারে কিছু ‘ষ’ড়যন্ত্র’ এর কথা প্রধানমন্ত্রী তার এক বক্তব্যে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারেক জিয়া তখন শ্বশুর বাড়িতেই থাকে। সে প্রায় নয় মাস ওখানেই ছিল। তারপর ১ আগস্ট চলে যায় কিন্তু ওই বাড়িতে আবার আসে।’
‘গভীর রাতে ওখানে একটা গাড়ি আসে এবং সেখান থেকে কিছু বড় বড় পেটি নামায় ১২টার দিকে এবং আড়াইটা তিনটার দিকে বোরকা পরা কিছু লোক জিপে করে এসে পেটিগুলো নিয়ে চলে যায়।’

*‘এই খবরটা পড়ে আমার সাথে জাফরউল্লাহ সাহেব ছিলেন, তাকে বললাম, ‘জাফর ভাই, আমার কাছে একটা খবর আসছে, তো ওই বাড়িটায় কী হচ্ছে? মাহবুব সাহেবের স্ত্রী (তারেক রহমানের শাশুড়ি) কোথায়? ওখানে বসে কিছু একটা কনস্পিরেসি হচ্ছে। একটু খোঁজ নেন।’
‘ওনি বললেন, কালকে র‌্যালিটা আছে, র‌্যালিটা শেষ হোক, তারপরে আমি খবর নেব। তারপরে র‌্যালিতে যা ঘটার তাই ঘটল।’