প্রচ্ছদ খেলা ক্রিকেট “মাশরাফীকে জো’র করে অবসরে পাঠাতে চায় বিসিবি”

“মাশরাফীকে জো’র করে অবসরে পাঠাতে চায় বিসিবি”

35

*বিশ্বকাপের আগে থেকেই মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার অবসর নিয়ে জো’রালো আলোচনার সূত্রপাত হয়েছিল। তবে বিশ্বকাপে মাশরাফীর পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তাদের মতে, বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল এই অধিনায়কের সময় এসেছে বিদায় বলার, দলে নতুনদের সুযোগ দেয়ার।

*যদিও মাশরাফী নিজের অবসর ভাবনাকে পাশ কাটিয়ে গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, প্রথম কথা হচ্ছে ক্রিকেট আমি খেলবো। আরও দেড় বছর খেলার সামর্থ্য আমার আছে। যখন আমি ক্রিকেট খেলা প্রথম শুরু করেছি, তখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট চিন্তা করে তা করিনি। আমি যখন টি-২০ ছেড়েছি তা হুট করেই ছেড়েছি। এটাও (ওয়ানডে) আমি হুট করেই ছাড়বো এটা নিশ্চিত। কারণ আমার সিদ্ধান্তগুলো এরকমই হয়। ভেবে চিন্তে এটা হবে না।

*বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে ক্রিকেটভিত্তিক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে ৩৫ বছর বয়সী মাশরাফী বলেছিলেন, এটা অবশ্যই আমার শেষ বিশ্বকাপ, তবে এই টুর্নামেন্টের পরেই অবসরে যাচ্ছি না আমি। এখনই আমি এই ব্যাপারটি নিয়ে ভাবতে চাইছি না; বিশেষ করে টুর্নামেন্ট যখন এগিয়ে চলছে। মানুষ এই সময়টাতে বেশ আবেগী হয়ে পড়ে।
ক্রিকইনফোকে অবশ্য তিনি আরও বলেছিলেন, বোর্ড (বিসিবি) থেকে কোনো নির্দেশনা এলে আমি অবশ্যই অবসরের কথা ভেবে দেখবো।

*প্রায় একই সময়ে বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটির সদস্য এবং মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস গণমাধ্যমকে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, তারা বল মাশরাফীর কোর্টেই ছেড়ে দিয়েছে। তিনি বলেছিলেন, সে (মাশরাফী) খুব ভালো মতো দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাই আমরা এই মুহূর্তে কিছুই ভাবছি না। সে নেতৃত্ব চালিয়ে যাবে নাকি যাবেন না, বিষয়টা আমরা পুরোপুরি তার উপর ছেড়ে দিচ্ছি।

*যদিও অবসর ইস্যুতে মাশরাফীর কোর্ট থেকে এখন বল কেড়ে নেয়ার পায়তারা বিসিবি এখন ভালোভাবেই করছে এবং তাকে অবসর নিতে বাধ্য করার জন্য একরকম উঠে পড়ে লেগেছে, তা এখন অনেকটাই দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
গত শনিবার (১৭ আগস্ট) টাইগারদের নতুন হেড কোচের নাম ঘোষণার পর আরেকটি কারণে বিসিবি কার্যালয় সরব হয়ে উঠেছিল, সেটি হলো মাশরাফীর আগমন এবং বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে তার অবসর প্রসঙ্গে বৈঠক।

*মাশরাফীকে বিসিবি রীতিমতো প্রস্তাব দিয়ে ফেলেছে, ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি বিদায়ী ওয়ানডে ম্যাচ খেলেই যেন তিনি অবসরে যান। তবে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পছন্দ করা ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক বোর্ডের এমন প্রস্তাবে একেবারেই রাজি হননি। তাহলে কী ছিল তার প্রতিক্রিয়া?
বিসিবি সভাপতি সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে বলেন, মাশরাফীর সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা হয়েছে। অবসরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আরও দুই মাস সময় চেয়েছেন মাশরাফী। আমরা সম্মানের সঙ্গেই ক্রিকেটারদের বিদায় দিতে চাই। তবে ঠিক কখন বিদায় নিতে হবে এটা ক্রিকেটারদেরও জানতে হবে।

*বোর্ড সভাপতির শেষের কথাটির অবশ্যই যুক্তি রয়েছে। বিদায় নেয়ার বিষয়টি অবশ্যই একজন ক্রিকেটারকে জানতে হবে। তবে নিজের অবসর নিয়ে মাশরাফী সর্বশেষ গত ১৯ জুলাই সংবাদ সম্মেলনে যা বলেছিলেন তা একনজরে দেখে নিন। তিনি বলেছিলেন, এটা (অবসর) যে যার মতো করে চিন্তা করে। আমার কথা যদি বলেন, তাহলে আমি এটা নিয়ে এখনো চিন্তা করিনি।

*তিনি আরও বলেছিলেন, আপনাদের কাছে এটা (অবসর) একটা নিউজ, আমার কাছে হয়তো বা ওটা না। আমার কাছে অনেক কিছু। আমার কাছে খেলাটা ছাড়া অনেক কিছু, বড় একটা ব্যাপার। আর তাই অবশ্যই আমাকে একটু সময় নিয়ে চিন্তা করতে হবে।

*অবসরের বিষয়ে একজন খেলোয়াড়ের অবশ্যই স্বাধীনভাবে চিন্তা করাটা তার অধিকারের ভেতরেই পড়ে। নড়াইল এক্সপ্রেসের অবসর নিয়ে তাহলে বোর্ড কেন একটি নির্দিষ্ট ম্যাচ খেলার প্রস্তাব দিয়ে সেই স্বাধীনতা হরণের প্রচেষ্টায় লিপ্ত হতে যাচ্ছে, তা এখনো বোধগম্য নয়। ক্রিকেট মাঠ ও মাঠের বাইরে মাশরাফী যে একজন পরিপক্ক ও মেধাবী ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম, তা নিয়ে ক্রিকেট বোদ্ধা থেকে শুরু করে অনেকেরই জানা। তবে কী তার বিদায় নেয়ার বিষয়ে শুধুমাত্র একটি মাত্র টুর্নামেন্টে (বিশ্বকাপ) পারফরম্যান্সকেই বিসিবি বিবেচনায় নিয়ে বসে আছে? নাকি টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে যেভাবে একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করে মাশরাফীর বিদায়ের মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল এবারও তা করা হচ্ছে?

*গত ১০ জুলাই ইংল্যান্ডে বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমকে নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন, মাশরাফী আমাদের অধিনায়কই ছিল। বিশ্বকাপে সে ভালো নাও করতে পারে এটা আমরা আগেই জানতাম। এমন কন্ডিশনে সে বল হাতে ভালো করবে এটা আমি আশাও করিনি। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনের পিচ থেকে মাশরাফির সুবিধা পাওয়ার কোনো উপায় নেই! ওখানকার ফ্ল্যাট উইকেট, বাউন্সি, পেসও কম। সেদিক থেকে আমি বলবো সে চেষ্টা করেছে।

*এমনিতে ইনজুরি তার সবসময়ের সঙ্গী হলেও তা নিয়েই দিব্যি ক্যারিয়ার চালিয়ে যাচ্ছেন টাইগারদের ওয়ানডে অধিনায়ক। তবে বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকেই তা অতি মাত্রায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় বিশ্বমঞ্চে ছিলেন না নিজের চেনা ছন্দে, তাই দুর্ভাগ্যজনকভাবে দল তার কাছ থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স পায়নি। ফলে বোর্ড সভাপতির এমন কন্ডিশনে সে বল হাতে ভালো করবে এটা আমি আশাও করিনি- এমন জাতীয় মন্তব্য অবশ্যই অগ্রহণযোগ্য।

*বিশ্বকাপ চলাকালীন মাশরাফী বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ার প্রশ্ন আসলে আমার কাছে মনে হয় অবসরের সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়ে পরিবারকে প্রাধান্য দেয়া উচিৎ। তাদের সঙ্গে আলোচনার একটা ব্যাপার আছে। ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গেও আলোচনার ব্যাপার আছে। বোর্ড আমাকে সরাসরি কিছু বললেও সেটাও চিন্তায় আনতে হবে। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আমি নিজেই তা বিবেচনা করবো।

*এখন তাহলে দুই মাস সময় নেয়া মাশরাফী কোন পথে হাঁটবেন? নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অবসরে যাবেন নাকি বিসিবির চাপে? নাকি তার কথা অনুযায়ী পরিবারকে প্রাধান্য দিয়ে বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করেই নিজে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন? সব প্রশ্নের উত্তর আসলে দেবেন কেবলই মাশরাফী।