প্রচ্ছদ স্পটলাইট “নুজহাত চৌধুরীর প্রতি কেনো প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ভালোবাসা?”

“নুজহাত চৌধুরীর প্রতি কেনো প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ভালোবাসা?”

158

*প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাটা দিনই কাজের মধ্যে কাটা’ন। কখনও দেশের কাজ, কখনও দলের কাজ, কখনওবা দল ও দেশের কলাকৌশল নিয়ে বিশেষ বৈঠক, সব কিছুই সা’মাল দিতে হয় তাকে। তার সারাটা দিনই কেটে যায় এমন কিছু মানুষের সঙ্গে যারা সরকার কিংবা দলের সঙ্গে জড়িত। এমন অনেকেই আছেন যারা বিশেষ কার্যসি’দ্ধি করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভিড় জমান। স্বা’র্থ হা’সিল হয়ে গেলে কে’টে পড়েন।

*কিন্তু এসব রাজনীতি, স্বা’র্থ, তদ’বির, দে’ন-দরবারের বাইরেও প্রধানমন্ত্রীর নিজের একটা জগৎ আছে, স্নেহের কিছু মানুষ আছে। যারা প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের কেউ নন, আবার কাজের সঙ্গে সম্পর্কিতও কেউ নন। যাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে, হাসি ঠাট্টা করে, কিংবা স্বার্থহীন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে স্বস্তি পান প্রধানমন্ত্রী। যাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ভালোবাসা কাজ করে। এমন কয়েকজনকে নিয়েই আজকের প্রতিবেদন।

*রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা: রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা একজন রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী। তিনি প্রধানমন্ত্রীর ছোটবোন শেখ রেহানার সঙ্গে একই স্কুলে পড়তেন। সেই সূত্রে তাদের একটি পারিবারিক সখ্যতাও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বড় বোন ছোট বোনের। প্রধানমন্ত্রীর বিনোদনের একটি বড় উৎস হলো রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার গান। যে চ্যানেলেই বন্যার গান হোক না কেন, প্রধানমন্ত্রী সেসময় অবসরে থাকলে সে গান তিনি শুনবেনই। প্রধানমন্ত্রী বন্যার গানের সিডিগুলো নিজের কাছে রাখেন।

*একটু অবসর পেলেই সেই গানগুলো তিনি বারবার শোনেন। কিছুদিন আগে বন্যার এক লাইভ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ফোন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। বন্যাকেও প্রধানমন্ত্রী মাঝে মাঝে ডেকে নেন। তার গান শোনেন। রবীন্দ্র সঙ্গীত ও সঙ্গীতের বিভিন্ন দিক নিয়ে তার সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠেন। যে আড্ডাটা শুধুই নির্মল, সেখানে কোন চাওয়া পাওয়ার সম্পর্ক নেই।

*ডা. নুজহাত চৌধুরী: ডা. নুজহাত চৌধুরী শহীদ বুদ্ধিজীবি ডা. আলীম চৌধুরীর মেয়ে। তিনিও পেশায় চিকিৎসক এবং বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে চক্ষুবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপনা করেন। চিকিৎসক পরিচয়ের আড়ালে তার বড় পরিচয় হলো তিনি একাত্তরের শহীদদের সন্তানদের সংগঠন ‘প্রজন্ম একাত্তর’ এর অন্যতম নেতা। তিনি প্রধানমন্ত্রী খুবই স্নেহের পাত্র। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার মাঝে মাঝেই সাক্ষাৎ হয়। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তারা কথা বলেন।

*কিন্তু সে বিষয়গুলোর মধ্যে কোন স্বার্থ, দেন-দরবার বা কোন তদবির নেই। নুজহাত চৌধুরী কোন মন্ত্রী বা এমপিও নন। এ ধরনের দায়িত্ব গ্রহণে কখনও কোন আগ্রহ তার আছে বলে জানা যায় না। চিকিৎসা করেন, স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কথা বলেন। আর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার নানা বিষয় নিয়ে আলাপচারিতাও ভালই জমে।

*চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ: শাহাবুদ্দিন আহমেদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খুব প্রিয় শিল্পীদের মধ্যে একজন। প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে তাকে খুবই পছন্দ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শাহাবুদ্দিনের সম্পর্ক ভাইবোনের। প্যারিসপ্রবাসী এই শিল্পী প্রধানমন্ত্রী ডাক দিলেই ছুটে চলে আসেন। সম্প্রতি তিনি টাঙ্গাইলের কুমুদিনীর এক অনুষ্ঠানের জন্য তিনি বাংলাদেশের এসেছিলেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কিছু সময় কাটিয়েছিলেন। পরে গণভবনে এসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠেন।

*গণভবনের জন্য একটি নতুন ছবির পরিকল্পনাও তিনি করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার আলাপচারিতা হয় ছবি, চিত্রকলা, সর্বশেষ চিত্রকলার অবস্থা নিয়ে। অনেকেই হয়তো জানেন না, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন ভালো চিত্রবোদ্ধা। তিনি ভালো ছবি বোঝেন এবং গণভবনে ওঠার পর থেকে তিনি গণভবনকে সাজিয়েছেন নানারকম চিত্রকলার সমাহারে। শিল্পী শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক আবেগঘন এবং অনেক পুরনো। সেকারণেই তার সঙ্গে যখন প্রধানমন্ত্রীর সময় কাটে তখন স্বার্থের কোন বেড়াজাল থাকে না।

*এই তিনজন ছাড়াও আরও কিছু মানুষ আছে প্রধানমন্ত্রী যাদেরকে বিশেষ স্নেহ করেন একারণে যে, তারা তাকে ব্যবহার করবে না, তাকে ব্যবহার করে কোন কিছু হা’সিল করতে চাইবে না বা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুযোগে কোন অবৈ’ধ সুযোগ-সুবিধা নেবে না।