প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত “কাশ্মির ইস্যুতে কেন চরমোনাই পীর শহীদ হতে চায়?”

“কাশ্মির ইস্যুতে কেন চরমোনাই পীর শহীদ হতে চায়?”

সুষুপ্ত পাঠক

202

*বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ জামাত শিবির, মুসলিম ব্রাদারহুড, জ’ঙ্গি সা’ম্প্রদায়িক মুসলিম জাতীয়তাবাদী ঘরনার- এটা টের পাওয়া যায় নিউজ সাইটগুলোর ফেইসবুক পেইজের কমেন্ট সেকশনে গেলে। আরো একটা জায়গায় গেলে সেটা টের পাবেন, নওমুসলিম ভট্টাচার্জিয়ার ফেইসবুক ওয়ালে গেলে।

*পদবিতে ব্রাহ্মণ এই লোকটা ধার্মীক মুসলিম মেয়েকে কোন রীতিতে বিয়ে করেছেন, ইসলাম মতে নাকি সেক্যুলার ম্যারেজ রেজিস্টার করে- তা জানা দরকার। কারণ সেক্যুলার ব্যবস্থার কঠোর সমালোচক এই ব্যক্তি মুসলিম না হলে তার বিয়েকে ইসলাম বৈধ বলবে না। দ্বিতীয়ত নিজ পরিচয় অক্ষুণ্ন রেখে বিয়ে করতে চাইলে অবশ্যই তাকে সেক্যুলার ব্যবস্থার ম্যারেজ রেজিস্টার করতে হয়েছিলো। অথচ লোকটা সেক্যুলারদের ব্যঙ্গ করে বলছে ‘সেকুলাঙ্গার’। এর অর্থ হচ্ছে, লোকটি হয় ভণ্ড না হয় নওমুসলিম!

*যাই হোক, এই ভট্টাচার্জিয়া মহাশয় আমার ১৫ আগষ্ট উপলক্ষ্যে লেখা একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। ভারতীয় সে’নাবাহিনী ১৯৭৫ সালে ১৫ আগষ্ট পর্যন্ত থাকলে সদ্য জন্ম নেয়া সেক্যুলার বাংলাদেশকে নিয়ে পাকিস্তান-আমেরিকা ও আরব ব্রাদারহুডদের চক্রান্ত যে ভোঁতা হত- এমনটাই আমার মতামত। বঙ্গবন্ধু সোভিয়েত-ভারত বলয়ে থাকলে হয়ত বাংলাদেশের ইতিহাস আজ অন্যভাবে লেখা হত। আজকে আহমদ শফী আর চরমোনাই পীরদের মত মাধ্যপাচ্যের দালা’লদের হুমকিতে এদেশকে থমকে যেতে হতো না।

*মনে রাখতে হবে, ১৫ আগষ্ট ঘটানো হয়েছিলো বাংলাদেশকে পাকিস্তান চেতনায় ফেরত নেয়ার জন্য। বাংলাদেশ ওআইসিতে যোগদান করায় সোভিয়েত-ভারত ক্ষু’ব্ধ হয়েছিলো। বাংলাদেশ দ্রুত মুসলিম বিশ্বে নিজেকে ইসলামী ভাবধারার প্রমাণ করতে মরিয়া হতে গিয়ে ভারত সংস্পর্শ ত্যাগ করতে গিয়ে দেশের অভ্যন্তরে পরাজিত ইসলামিক শক্তি যা আন্তর্জাতিক মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতিনিধিত্ব করে তাদের আসর জমাতে সহজ হয়েছিলো। জাসদসহ কমিউনিস্টদের অন্ধ এন্টি ইন্ডিয়ান অবস্থান পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছিলো। ১৫ আগষ্ট ঘটার পর দেশে জাসদ ক্ষমতায় যেতে পারেনি। ক্ষমতায় গেছে ইসলামিক ব্রাদারহুড শক্তি। এতেই বুঝা যায় জাসদ অন্ধকারের খেলার কথা জানত না। জাসদের খেলা ছিলো ক্ষমতা পরিবর্তনের। কিন্তু পর্দার আড়ালে চলছিলো আদর্শের খেলা। সেই খেলায় কেউ ক্ষমতায় যেতে চায়নি।

*খন্দরকার মোশতাক হোক বা জিয়াউর রহমান, যে কেউ বসুক- অবশ্যই বাংলাদেশকে আরেকটি ছোট পাকিস্তান হতে হবে- এটাই ছিলো খেলার ছক। সেক্ষেত্রে কর্ণেল তাহের বা খালেদ মোশাররফ থেকে মুশতাক বা জিয়া ছিলেন বিশ্বস্ত ও নিজেদের কাছের লোক। বঙ্গবন্ধু কি তখন আন্তর্জাতিকভাবে নিঃসঙ্গ ছিলেন না? ভারত-সোভিয়েত থেকে তিনি দুরত্বে। যে আরবদের ভাই বলে কাছে টানতে চেয়েছিলেন, সেই ভাইরা ১৫ আগষ্ট হ’ত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছিলো- সেক্যুলার বাংলাদেশ নয়, তাদের কাম্য ইসলামিক বাংলাদেশ।

*আমার পোস্টে গালির বন্যা বয়ে যাবার কারণ ভট্টাচার্জিয়ার ইসলামিক ব্রাদারহুড, জ’ঙ্গি সা’ম্প্রদায়িক মুসলিম জাতীয়তাবাদী ফলোয়ারদের লে’লিয়ে দেয়া হয়েছে। ভট্টাচার্জিয়া মুসলিম জাতীয়তাবাদকে অনলাইনে প্রচার করতে পেইড এজেন্ট নাকি আদর্শিক কর্মী সেটা জানি না। তবে আমি আসল জায়গায় হাত দেয়াতে যে সবাই ক্ষু’ব্ধ সেটা বুঝতে কষ্ট হয়নি। বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মুসলিম জাতীয়তাবাদের প্রাণভোমরা হচ্ছে “ভারত ভীতি”। ভারত দ’খল করে ফেলবে, ভারত ইসলামের বিরুদ্ধে ষ’ড়যন্ত্র করছে, ভারত মুসলমানদের ঈমান নষ্ট করতে সিনেমা নাটক টিভি চ্যানেল বানায় বাংলাদেশ পাকিস্তানীদের টার্গেট করে। ভারত প্রতিনিয়ত মুসলমানদের বিরুদ্ধে চ’ক্রান্ত করছে- এটা না বলে পাকিস্তানের কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারে না।

*বাংলাদেশের মুসলিম জাতীয়তাবাদ ও ইসলামিক আন্দোলন হোঁ’চট খাবে যদি ভারতকে টার্গেট না করা হয়। উইঘুরে চীন ইসলাম ধর্মকে নি’ষিদ্ধ ঘোষণা করার পর কেউ কেন চীন দূতাবাস ঘে’রাও করে না কিন্তু কাশ্মির ইস্যুতে কেন চরমোনাই পীর শহীদ হতে চায়? এই যে উ’শকানি এ্রখানেই ভ্রা’ন্ত মুসলিম জাতীয়তাবাদের ফলস মূল্যবোধ বেরিয়ে আসে। এবার ঈদে রেকর্ড সংখ্যক বাংলাদেশী বেড়াতে ভারত গেছে। ভারতের ভিসার জন্য দীর্ঘ লাইন এদেশের ভারত জু’জুর সম্পূর্ণ বিপরীত দৃশ্য। প্রতিদিনের জীবনে যখন মুসলিম জাতীয়তাবাদ মা’র খাচ্ছে, তখন কাশ্মির ইস্যুতে মাঠ গ’রম না করলে পাবলিক তো নিজেকে আর মুসলিম বলে পরিচয়ই দিবে না! এই ভ’য়ে হুজুর থেকে মডারেট- সবাই ভারত কেন্দ্রিক কিছু পেলেই উঠেপড়ে লাগছে। আমার পোস্টটা বাংলাদেশের মুসলিম জাতীয়তাবাদীদের আঁতুরঘরে আ’ঘাত হা’নে বলে কিছু বাংলাদেশী ইনবক্সে জানালেন।…