প্রচ্ছদ রাজনীতি “যে কারণে সেপ্টেম্বরে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ছে”

“যে কারণে সেপ্টেম্বরে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ছে”

183

*আগস্টের পরই মন্ত্রিসভায় আরেকবার রদবদল হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে সরকারের নীতি নির্ধারণী মহল থেকে। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে দলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। সাত মাস বয়সী সরকার তৃতীয় মেয়াদে নানা রকম অস্বস্তির মধ্য দিয়ে সময় পার করছে। সাম্প্রতিক সময় ডেঙ্গু ইস্যু এবং গুজব সন্ত্রা’সে সরকার প্রথমবারের মতো চাপের মুখে পড়েছে বলে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে। এরকম পরিস্থিতিতে ২০ দিন পর দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী আজ সারাদিনই সরকারের বিভিন্ন নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

*সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী ঢাকার দুই মেয়রসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদেরকে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য পরামর্শ এবং নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, ঈদের ছুটি শুরু হয়ে গেছে। তারপরই জাতীয় শোক দিবস। এই দীর্ঘ ছুটিতে অনেক রকম নাশ’কতা এবং ষড়’যন্ত্রের আশংকা করছে সরকার। এই সময়টা যেন নির্বিঘ্নে কাটে সেজন্য প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন নির্দেশনা দিচ্ছেন।

*এই নির্দেশনার ফাঁকে ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মনে করছেন, সরকারের আকার বড় হয়েছে। বাজেট বেড়েছে। বিপুল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হয়েছে। এই অবস্থায় মন্ত্রিসভার অবয়ব বড় হওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অন্তত তিনজন সরকারের নীতি নির্ধারকের কাছে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার স্বল্পতার কথা উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পরিধি অত্যন্ত বড় এবং কর্মকাণ্ড ব্যাপক হওয়ায় একজন মন্ত্রীর পক্ষে এই সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব নয়। বরং সঙ্গে একজন প্রতিমন্ত্রী থাকা উচিত এমন মন্তব্য প্রধানমন্ত্রী করেছেন বলে জানা গেছে। এটা সরকারের একজন দায়িত্বশীল নীতি নির্ধারক বলেছেন। এতে স্পষ্টতই মন্ত্রিসভার অবয়ব বড় করার ব্যাপারে এটা একটা সুস্পষ্ট ইঙ্গিত।

*সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, স্থানীয় স্থাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের একক মন্ত্রীর কর্তৃত্বে দেশ চলছে। এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের একজন মন্ত্রী রয়েছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দুজনকে ভাগ করে একজনকে স্থানীয় সরকার বিভাগের দায়িত্ব এবং অন্যজনকে পল্লী উন্নয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একজন মন্ত্রী থেকে অতীতে যে পরিমাণ কর্মকাণ্ড ঘটতো, গত দশ বছরে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত হয়েছে। সরকারের অবয়ব কর্মকাণ্ড অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় একক একজন ব্যাক্তির পক্ষে মন্ত্রিসভার সবকিছু পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না বলেই বিভিন্ন মহল মনে করছেন।

*বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে যে অস্বস্তিকর অবস্থা তৈরী হয়েছিল। এমন পরিস্থিতি তৈরী হতো না যদি ওই মন্ত্রণালয়ে একজন প্রতিমন্ত্রী থাকতেন। একইভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে একজন প্রতিমন্ত্রী প্রয়োজন বলে মনে করছেন সরকারের একাধিক নীতি নির্ধারকরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার জন্য মন্ত্রিসভার কলেবর বাড়িয়ে অপেক্ষাকৃত তরুণদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার একটি কৌশল সরকার বিবেচনা করছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

*সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগস্টে সরকার মন্ত্রিসভার রদবদল করবে না বরং এই সময়ে যে পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে সে পরিস্থিতিগুলো মোকাবিলা করে সময় ব্যায় করবে। সেপ্টেম্বর নাগাদ মন্ত্রিসভার রদবদল বিবেচনা করা হবে। সেক্ষত্রে সরকারের কাজে গতি আনা এবং মন্ত্রণালয়ের কাজগুলো যেন সুষ্ঠুভাবে হয় সেদিকটা বিবেচনায় নেওয়া হবে।