প্রচ্ছদ আইন-আদালত “মেয়েকে ট্যাবলেট খাইয়ে জো’র করে জবা’নবন্দি নেওয়া হয়: মিন্নির মা”

“মেয়েকে ট্যাবলেট খাইয়ে জো’র করে জবা’নবন্দি নেওয়া হয়: মিন্নির মা”

41

*আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির মা জিনাত জাহান বলেছেন, আমার মেয়েকে রি’মান্ডের নামে আ’টকে রেখে রাতভর পুলিশের লিখে দেওয়া জবা’নবন্দি মুখস্থ করানো হয়। মিন্নিকে ট্যাবলেট মেশানো পানি খাইয়ে জো’র করে স্বীকা’রোক্তিমূলক জবা’নবন্দি নেওয়া হয়েছে। সেই জবা’নবন্দি না দিলে মা-বাবাকে আ’টক করে নি’র্যাতন করা হবে বলেও হু’মকি দেয় রিতা নামের একজন এএসআই। পুলিশি নি’র্যাতন ও ভ’য়ে আমার মেয়ে আদালতে পুলিশের লিখে দেওয়া জ’বানবন্দি প্রদান করেছে।

*সোমবার সন্ধ্যায় বরগুনা পৌর শহরের নয়াকাটা মাইঠা এলাকার বাসভবনে এসব কথা বলেন জিনাত জাহান। তার মেয়ে মিন্নি বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হ’ত্যা মামলায় প্রধান সাক্ষী।

*জিনাত জাহান বলেন, আমার মেয়েকে তিনদিন পুলিশ না খাইয়ে রেখেছে। পানি খেতে চাইলেও তাকে দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে ট্যাবলেট মিশানো পানি মিন্নিকে খেতে দেওয়া হয়। পুলিশের লেখা জবা’নবন্দি মুখস্থ করানোর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখে। বারবার অ’জ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেও পুলিশের মন গলেনি। পুলিশ আমার মেয়েকে বলতে বলে, তুমি আদালতে বলবা, আমার স্বামী তো ভালো না, তাই হালকা পাতলা মাইর দেওয়ার কথা বলেছি। তাহলে তোমার শা’স্তি কম হবে। পুলিশের শিখিয়ে দেওয়া কথা অনুযায়ী মিন্নি আদালতে এরকম স্বী’কারোক্তি প্রদান করে।

*তিনি আরও বলেন, আমার মেয়েকে আসামি শ’নাক্ত করার কথা বলে বরগুনার পুলিশ লাইনসের একটি কক্ষে নিয়ে আ’টকে রেখে ১০-১২ ঘণ্টা মা’নসিক ও শারীরিক নি’র্যাতন করা হয়। ৪ আগস্ট আমরা মিন্নির সঙ্গে জেলা কারাগারে দেখা করতে গেলে আমাদের কাছে সেই নি’র্যাতনের বর্ণনা দেয় মিন্নি।

*জিনাত জাহান বলেন, আমার মেয়ে জ’বানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার মাথায় অ’স্ত্র ঠে’কিয়ে নয়ন বন্ডের মতো গু’লি করে মে’রে ফে’লার হুম’কি দেওয়া হয়। রিফাত ও রিশানকে আমার মেয়ের সামনে এনে বলতে বলে, বল তোদের সঙ্গে মিন্নিও জড়িত ছিল। পুলিশের চা’পে ও শারী’রিক নি’র্যাতনের একপর্যায়ে তারা তা বলতে বা’ধ্য হয় এবং মিন্নি এই ঘটনায় জড়িত ছিল বলে আদালতে স্বী’কারোক্তিমূলক জবা’নবন্দি প্রদান করে।

সম্পাদক/এসটি