প্রচ্ছদ খেলা ক্রিকেট বিপিএল-এর ৭ম আসর: সাকিবকে নিয়েই যত কাণ্ড

বিপিএল-এর ৭ম আসর: সাকিবকে নিয়েই যত কাণ্ড

116
বিপিএল-এর ৭ম আসর: সাকিবকে নিয়েই যত কাণ্ড

*হঠাৎ করে নতুন নিয়মের বাস্তবায়ন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল এবং সৃষ্টি হয়েছে ঝামেলার। গঠনতন্ত্রের ৩.১ ধারা মেনে গভর্নিং কাউন্সিল চাইছে, ৬ ডিসেম্বর সপ্তম আসর শুরুর আগে দ্বিতীয় চক্রের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করতে। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর এ নিয়ে আপত্তি নেই। কিন্তু প্রশ্ন তুলেছে, ফেব্রুয়ারিতে ষষ্ঠ আসর শেষ হওয়ার পর কেন নতুন চক্র নবায়ন করেনি।

*ছয় আসরের প্রথম চক্রের সময় শেষ বলে ক্রিকেটার ও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সব ধরনের চুক্তিকে অবৈধ বলেছে বিপিএল। এজন্য বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের সঙ্গে রংপুর রাইডার্সের চুক্তিকে অবৈধ বলেছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। বিপিএলের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি রংপুর। শুধু সাকিব নন, বিপিএলের ভাষ্যে অনুযায়ী মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবালের চুক্তিও অবৈধ।

*ফেব্রুয়ারিতে আসর শেষ হওয়ার পর পাঁচ মাস পেরিয়েছে। হাতে পর্যাপ্ত সময় পেয়েও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল নতুন চক্র নিয়ে খুব বেশি এগোয়নি। যখনই ঢাকা ডায়নামাইটস ছেড়ে সাকিব নাম লিখেন রংপুরে, তখনই তেড়েফুরে নতুন চক্রের বাস্তবায়নে নেমে পড়ে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সাকিব ঢাকা না ছাড়তেন, তাহলে বিষয়টি নিয়ে এতটা মেতে উঠতো না গভর্নিং কাউন্সিল।

*২০১২ সালে বিপিএলের শুরু। নিয়ম অনুযায়ী প্রথম চক্রে চার আসর ছিল। সেটা শেষ হয়েছে ষষ্ঠ আসর দিয়ে। গভর্নিং কাউন্সিল চাইছে এবার ৮টি দল নিয়ে বিপিএল আয়োজন করতে। গত দুই বছর ধরে ৭টি দল খেলছে। চিটাগং ভাইকিংসের ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘ডিবিবিএল গ্রুপ নতুন করে দল চালাতে আগ্রহী নয়। তাই নতুন করে তিনটি কোম্পানি আগ্রহী হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজি হতে। এছাড়াও নতুন আরও একটি দলের জন্য নতুন করে দরপত্র চেয়েছে বিসিবি। পুরনো চক্র শেষ হওয়ায় নতুন চক্রে ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

*সে ক্ষেত্রে রংপুর রাইডার্সকে ই-মেইল করে সপ্তম আসরের প্রস্তুতি নিতেও বলা হয়েছিল। এমনকি ব্যাংক গ্যারান্টির বিষয়েও বলেছিল বারবার। সেসব মেনেই রংপুরের ফ্র্যাঞ্চাইজি থাকা নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়নি। তাই শক্তিশালী দল গঠন করতেই সাকিবকে দলভুক্ত করে। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে দলভুক্ত করায় রংপুর রাইডার্স কি কোনো ভুল করেছে? ২০১২ সালে বিপিএল শুরুর পর থেকেই প্রতি আসরেই সৃষ্টি ঝামেলার। সর্বশেষ তিন আসরে নিয়মের পরিবর্তন করেছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। ২০১৬ সালের চার নম্বর আসরে প্রথমবার নিয়মের পরিবর্তন করে। সেবার গভর্নিং কাউন্সিল উন্মুক্ত করে দিয়েছিল ‘আইকন ক্রিকেটারদের দল-বদল। সে হিসেবে আইকন ক্রিকেটাররা সবাই দল পাল্টে ছিল।

*মুশফিকুর রহিম প্রতি আসরেই দল পাল্টেছে। এবার চিটাগং ভাইকিংস থেকে নাম লিখেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সে। গতবার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে চ্যাম্পিয়ন করার নায়ক তামিম ইকবাল নাম লিখেছেন খুলনা টাইটান্সে। ২০১৭ সালের পঞ্চম আসরে ফের নিয়ম পাল্টায় গভর্নিং কাউন্সিল। নতুন নিয়মে চার স্থানীয় ক্রিকেটারকে রেখে দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয় পুরনো ফ্র্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে। ২০১৮ সালের ষষ্ঠ আসরে ফের নতুন নিয়ম করে গভর্নিং কাউন্সিল। দেশি ও বিদেশি চার ক্রিকেটারকে পুরনো দল রেখে দেওয়ার আইন করেছিল গভর্নিং কাউন্সিল।

*ফি বছর নিয়মের পরিবর্তন হচ্ছে, এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। নতুন চক্রে বারবার নিয়মের যাতে পরিবর্তন না হয়, সেটাই চাইছেন ক্লাবগুলো। বারবার নিয়মের পরিবর্তন হচ্ছে বলেই সৃষ্টি হচ্ছে ঝামেলার।