প্রচ্ছদ বিনোদন “হঠাৎ তারকাখ্যাতিতে ভারসা’ম্যহীন নোবেল বিতর্কিত নোবেল”

“হঠাৎ তারকাখ্যাতিতে ভারসা’ম্যহীন নোবেল বিতর্কিত নোবেল”

55

*ওপার বাংলার জনপ্রিয় রিয়েলেটি শো সারেগামাপা’য় দ্বিতীয় রানারআপ হয়ে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন বাংলাদেশের তরুণ সংগীতশিল্পী মাঈনুল আহসান নোবেল। কিন্তু প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই তুমুল সমালোচনার মধ্যে পড়েছেন তিনি। সাম্প্রতিককালে নোবেলের মুখ নিঃসৃত কথাগুলো উদ্দেশ্যপ্র’ণোদিত, নাকি কেবলই ছেলেমানুষী সে নিয়েও আলোচনা হচ্ছে বিস্তর।

*কয়েকদিন আগে সামনে আসা নোবেলের সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’র চেয়ে প্রিন্স মাহমুদের কথা ও সুরে জেমসের গাওয়া ‘বাংলাদেশ’ গানটিকে বেশি পছন্দের বলে উল্লেখ করেন। আর এটি নিয়ে দেশব্যাপী ওঠে সমালোচনার ঝড়। মুহূর্তেই সেই বিতর্কেও উ’ত্তাপ এ বাংলা ছাড়িয়ে পৌঁছে যায় ওপার বাংলাতেও। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ‘আমার সোনার বাংলা’ নিয়ে নোবেলের এমন মন্তব্য মানতে পারছে না দুই বাংলা। বাংলাদেশি মিডিয়ার আলোচনা-সমালোচনার রেশ থাকতে থাকতেই ভারতের জি নিউজ মিডিয়ার বাংলা সংস্করণ শিরোনাম করেছে, ‘জাতীয় সংগীত হিসেবে রবীন্দ্রনাথের গান না-পছন্দ নোবেলের’।

*সংবাদে লেখা হয়েছে, ‘নোবেল মনে করেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গাওয়া জাতীয় সংগীত রূপক অর্থে অনেক কিছু বুঝিয়ে দেয় ঠিকই, কিন্তু প্রিন্স মাহমুদের এ গান তার চেয়ে অনেক বেশি করে বাংলাদেশের মানুষের আবেগকে তুলে ধরে। এমনকি, প্রিন্স মাহমুদের এ গানকে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত করার দাবিতে এক সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিলও করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন নোবেল।’

*কলকাতার নিউজ১৮ শিরোনাম করেছে, ‘বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত নিয়ে রবীন্দ্রনাথকে অপমান, নতুন বিতর্কে নোবেল’। তারা লিখেছে, ‘সারেগামাপা’র দৌলতে বাংলাদেশের নোবেল এখন এপার বাংলাতেও চর্চিত নাম। এমনকি, সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘ভিঞ্চি দা’ ছবিতেও বড়সড় ব্রেক পেয়েছেন নোবেল। ওপার বাংলার সঙ্গে সঙ্গে, তার গানে মুগ্ধ হয়েছেন এপার বাংলার অসংখ্য মানুষও। সেই নোবেলই এবার ফাউল করে বসলেন একটি সাক্ষাৎকারে। সারেগামার মঞ্চে বহুবারই প্রিন্স মাহমুদের সুর ও কথায় জেমসের গাওয়া গান করতে দেখা গেছে নোবেলকে। জেমসের কণ্ঠে গাওয়া ‘বাংলাদেশ’ গানটিও গেয়েছিলেন নোবেল। আর সেই ‘বাংলাদেশ’ গানটিকেই জাতীয় সংগীতের মর্যাদা দেওয়ার ইঙ্গিত দেন বলে বিত’র্ক উঠেছে নোবেলের বিরুদ্ধে। কেবল গণমাধ্যমই নয়, বাংলাদেশি তারকাদের পর নোবেল বিতর্কে মুখ খুলেছেন কলকাতার তারকারাও।

*কলকাতার জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ইমন চক্রবর্তী এক ফেসবুক পোস্টে নোবেলকে সামনে পেলে মারধরের ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন। সাক্ষাৎকারটি দেখার পর নোবেলকে ‘চাব’কাতে’ ইচ্ছা করছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন তিনি। তিনি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন, ‘সরি টু সে একে সামনে পেলে চাব’কাতাম।’ নোবেলকে নিয়ে এ সমালোচনার ঢেউ একটু দেরিতে হলেও কানে পৌঁছায় সারেগামাপা’র অন্যতম বিচারক শ্রীকান্ত আচার্যের কানে। তিনিও নোবেলের এমন অর্বাচী’ন মন্তব্যে অবাক হয়েছেন।

*এ বিষয়ে শ্রীকান্ত আচার্য বলেন, ভালো গায় ছেলেটা। ওকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। ও হঠাৎ করে এমন মন্তব্য কেন করল ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে কথা বলার আগে ওর আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত ছিল। হুটহাট মুখে যা আসে তা বলে দিলে তা নোবেলের জন্যই ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আবার অনেকে মনে করছেন নোবেল ইচ্ছে করেই এ বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। তাদের মতে, নয় মাসের রিয়েলিটি শো’র কল্যাণে গান শিখতে পারুন আর না পারুন পাবলিসিটিটা বেশ ভালো শিখেছেন নোবেল।

*এ কারণেই নেটিজেনদের অনেকের দাবি, এসবই নোবেলের পাবলিসিটির কৌশল। সম্প্রতি নোবেল মন্তব্য করেন, ডুয়েট গান গাইতে চান না তিনি। শুধু তাই নয়, নিজের ব্যান্ড দল ছাড়া অন্য সংগীত শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করা নিয়েও আপ’ত্তি রয়েছে তার। একই সঙ্গে প্লে­-ব্যাকে নিজের ব্যান্ড ছাড়া অন্যদের সঙ্গে কাজ করতেও রাজি নন তিনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশি সিনেমায় আমি আমার ব্যান্ডদল নিয়েই গাইব। কারণ আমার গায়কির ধরন এবং মিউজিকের জন্য ‘নোবেলম্যান’-এর চেয়ে বেটার আউটপুট অন্য কেউ দিতে পারবে বলে মনে হয় না।

*দ্বৈতকণ্ঠে গাওয়ার বিষয়ে নোবেল বলেন, যদি লেডি গাগা হয় তাহলে তার সঙ্গে ডুয়েট গাইতে পারি। উপমহাদেশে আমার প্রিয় শ্রেয়া ঘোষাল, তার সঙ্গেও গাইতে পারি।’ নোবেলের এ মন্তব্য আরও বড় ঝ’ড় তোলে। হঠাৎ করে তারকাখ্যাতি পেয়ে যাওয়ায় নোবেল নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না বলে মনে করছেন অনেকেই। এদিকে জাতীয় সংগীত নিয়ে নোবেলের মন্তব্য সংক্রান্ত বিতর্কে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন বাংলাদেশ গানটির গীতিকার ও সুরকার প্রিন্স মাহমুদ। বিস্তারিত আলোচনায় না গিয়ে প্রিন্স মাহমুদ ফেসবুকে লিখেছেন ‘জাতীয় সংগীত আমাদের অস্তিত্বের নাম।’ বোঝাই যাচ্ছে এ বিতর্কে নিজেকে একদমই জড়াতে রাজি নন প্রিন্স মাহমুদ। কিন্তু নোবেল কেন বারবার বিত’র্কের কারণ হচ্ছেন, ভাবার বিষয় সেটাই।

সম্পাদক/এসটি