প্রচ্ছদ বিশ্ব “এবার বেলুচিস্তানকে স্বাধীন করে দিচ্ছেন ইমরান খান?”

“এবার বেলুচিস্তানকে স্বাধীন করে দিচ্ছেন ইমরান খান?”

693

*ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল কাশ্মিরের সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিল করলো দিল্লি। কাশ্মিরকে দু`ভাগ করার কথাও জানিয়েছে তারা। সেখানকার শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করেছে সরকার। স্কুল-কলেজও বন্ধ করে দিয়েছে তারা। মুসলিমপ্রধান এই অঞ্চলটিতে মোদি সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করছেন দেশটির শীর্ষ নেতাদের একাংশ। কিন্তু আশ্চর্শজনক বিষয় হলো, মুসলিমপ্রধান এবং ভারতবিরোধী দেশগুলোর অধিকাংশ নেতাই এ বিষয়ে একেবারেই চুপ।

*তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মুহাম্মাদ কাশ্মিরিদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। কিন্তু সৌদি আরবের বাদশাহ কিংবা যুবরাজ কাশ্মিরিদের হয়ে এখন পর্যন্ত একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ভারতের সমালোচনা করেছেন কিন্তু সেটা যথেষ্ট নয় বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এমনকী ভারতের ঘোর শত্রু হিসেবে পরিচিত চীনও কাশ্মির নিয়ে টু শব্দটি করছে না। কাশ্মির নিয়ে রাষ্ট্রনায়কদের এমন নীরব থাকার কারণটা কী?

*বিশ্লেষকরা বলছেন, মুসলিম বিশ্ব এবং ভারত বিরোধী হিসেবে পরিচিতদের নিজেদের হাতেই রয়েছে অপরাধীর হা’তকড়া। এ কারণে ভারত সরকারের বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলার অধিকার হারিয়েছেন তারা। কাশ্মির নিয়ে পাকিস্তানের যতটা সরব হওয়ার কথা ছিল ততটা হচ্ছে না তারা। কারণ কাশ্মিরের স্বাধীনতার ব্যাপারে কথা বললে বেলুচিস্তান ও পশতুদের স্বাধীনতার ব্যাপারটি সামনে চলে আসবে। পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহৎ নৃ-গোষ্ঠী হচ্ছে পশতুরা। অন্যদিকে বেলুচিস্তান হচ্ছে পাকিস্তানের প্রায় অর্ধেক। দীর্ঘদিন যাবত পাকিস্তানের সেনাবাহিনী দ্বারা নি’ষ্পেষিত হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করে স্বাধীনতার জন্য ল’ড়াই করছে বেলুচ ও পশতুরা। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর হাতে লেগে আছে মুসলিম হ’ত্যার র’ক্ত। কাশ্মিরের নিয়ে আলোচনা করতে গেলে পাকিস্তানকে দেশের অর্ধেক ছেড়ে দিতে হবে বেলুচ ও পশতুদের কাছে।

*অন্যদিকে, কাশ্মির প্রশ্নে চীনের চুপ থাকার প্রধান কারণ হিসেবে উইঘুর সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করছেন বিশ্লেষকরা। চীনে প্রায় ২০ লাখ উইঘুর মুসলিম কন্সেন্ট্রেশন ক্যাম্পে বন্দি। তাদের ওপর চীনের নির্যাতন চালানোর অভিযোগ আছে। তাছাড়া অন্য দেশের ব্যাপারে চীনের মাথা ঘামাবার নজির খুব কমই আছে। এসব কারণে কাশ্মির নিয়েও তারা কিছুই বলছে না।

*কাশ্মির ইস্যুতে সৌদি আরবও একেবারেই চুপ। অবশ্য কাশ্মিরে মুসলিমদের অধিকার রক্ষায় তারা সরব হবে এমন আশা তেমন কেউই করেনি। কারণ ইয়েমেনে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করে হাজার হাজার মুসলিম হ’ত্যার উৎসবে মেতেছে তারা। এখন সে ইরানের সঙ্গেও যু’দ্ধে জড়াতে চাইছে সৌদি। ফিলিস্তিন প্রশ্নেও তারা নিশ্চুপ। এখন হুট করে কাশ্মিরের মুসলিমদের অধিকার আদায়ে তাদের সরব হবার তেমন কোনো কারণই নেই।