প্রচ্ছদ আইন-আদালত “পুলিশ যেভাবে মিন্নির ওপর শা’রীরিক নি’র্যাতন করেছে”

“পুলিশ যেভাবে মিন্নির ওপর শা’রীরিক নি’র্যাতন করেছে”

137

*বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হ’ত্যা মামলায় প্রধান সাক্ষী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে প্রচ’ণ্ডভাবে শা’রীরিক নি’র্যাতন করেই আসামি হিসেবে স্বীকারোক্তিমূলক জ’বানবন্দি দিতে বা’ধ্য করা হয়েছে। গতকাল মা, বোনসহ পরিবারের সদস্যরা কারাগারে সাক্ষাৎ করতে গেলে মিন্নি তাদের কাছে এমন অভি’যোগ করেন। পরিবারের সদস্যদের কাছে এএসআই রিতার নেতৃত্বে নি’র্যাতন চালানোর বর্ণনাও দিয়েছেন নি’হত রিফাত শরীফের স্ত্রী মিন্নি।

*মেয়ের মুখ থেকে শোনা নি’র্যাতনের ঘটনা সাংবাদিকদের বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মিন্নির মা জিনাত জাহান। এ সময় মিন্নির মা জানান, মিন্নির বাবাকে আত্মীয় স্বজনদের বাড়ি গিয়ে পুলিশ খুঁজছে। নিজেদের নিরা’পত্তাহীনতার কথাও সাংবাদিকদের জানান মিন্নির মা। মিন্নির সঙ্গে সাক্ষাতের পর তার পরিবারের সদস্যরা জেল গেটে সাংবাদিকদের জানান, রবিবার কারাগারে পরিদর্শনে এসে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ মিন্নির খোঁজখবর নেন। পুলিশ কীভাবে নি’র্যাতন চালিয়েছে, জেলা প্রশাসকের কাছে মিন্নি তা তুলে ধরেছেন।

*মিন্নির মা জিনাত জাহান মনি সাংবাদিকদের বলেন, আমার মেয়ে আমাকে বলেছে, ১৬ জুলাই পুলিশ মিন্নিকে বাড়ি থেকে নিয়ে এসে ১২-১৩ ঘণ্টা শা’রীরিক ও মানসিক নি’র্যাতন চালায়। পুলিশ লাইনে একটি কক্ষে এএসআই রিতার নেতৃত্বে ৪-৫ জন পুলিশ তাকে শারীরিক নি’র্যাতন করেছে, মার’ধর করেছে। এ সময় পানি পান করতে চাইলে তাকে পানিও পান করতে দেওয়া হয়নি। মিন্নির বরাত দিয়ে তার মা জানায়, গ্রেফতার দেখানোর পরে রাতে পানির সঙ্গে ই’য়াবা ট্যাবলেট মিশিয়ে তাকে পানি খেতে দেওয়া হয় বলে মিন্নি আমাদের বলেছে। একটি সাদা কাগজে লিখিত বক্তব্য দিয়ে তাকে মুখস্থ করতে পুলিশ বার বার চা’প দিয়েছে। যতক্ষণ মুখস্থ বলতে না পেরেছে ততক্ষণ পর্যন্ত রিতা ও তার সহযোগীরা তাকে নি’র্যাতন করে। পুলিশ মিন্নিকে ভ’য় দেখিয়ে বলে লিখিত বক্তব্য আদালতে না বললে তার বাবা-মা ও চাচাদের ধরে আনা হবে।

*গত ২৬ জুন রিফাতকে প্রকাশ্য সড়কে কু’পিয়ে হ’ত্যা করা হয়। সে সময় স্বামীকে বাঁচাতে মিন্নির চেষ্টার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরদিন রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ ১২ জনকে আসামি করে যে মামলাটি করেন, তাতে মিন্নিকে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছিল। সম্প্রতি মিন্নির শ্বশুর তার ছেলের হ’ত্যাকান্ডে পত্রবধূর জড়িত থাকার অ’ভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করলে আলোচনা নতুন দিকে মোড় নেয়।

*শ্বশুর অভিযোগ তোলার পর মিন্নি তা অস্বীকার করে বলেছিলেন, ষ’ড়যন্ত্রকারীদের প্র’রোচনায় পড়ে তাকে জড়িয়ে বা’নোয়াট কথা বলা হচ্ছে। এরপর গত ১৬ জুলাই মিন্নিকে বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয় জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে। দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। রি’মান্ডে নিয়ে পুলিশ মিন্নির স্বী’কারোক্তিমূলক জ’বানবন্দি আদায় করলেও, নি’র্যাতন করে সেই জ’বানবন্দি দিতে পুলিশ বাধ্য করেছে উল্লেখ করে তা প্রত্যাহার চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন মিন্নি।