প্রচ্ছদ রাজনীতি “এবার বিএনপি ভাঙ্গার মিশনে নামলেন অলি?”

“এবার বিএনপি ভাঙ্গার মিশনে নামলেন অলি?”

34

*বিএনপির সন্দেহের তীর এখন এলডিপির কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীরবিক্রম এর দিকে। বিএনপির নেতারা এখন পুরোপুরিই বিপরীতমুখী অবস্থানে দেখছেন তাকে। বিএনপি নিবার্হী কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গলকে দলে টেনে তাকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করায় অলির উপর বেশ চটেছে বিএনপির শীর্ষ নেতারা। জোটে থাকাবস্থায় কিভাবে একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকে দলে নিয়ে উচ্চ পদ দেয়া হয় তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। কর্নেল অলির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে তিক্ষ্ন নজর রাখছে বিএনপির হাইকমান্ড। সরকারের কোন গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে তিনি কাজ করছেন কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে অলির বিরুদ্ধে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির গত বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে কথা হয়। তবে সে কথা বেশিদূর এগোয়নি।

*এক সময় এই সেনা কর্মকর্তা সেনাবাহিনীতে চাকরির মেয়াদ থাকার পরও ইস্তফা দিয়ে যোগ দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দলে। ছিলেন জিয়ার ঘনিষ্ঠ সহচর। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপিতেও পার করেছেন দীর্ঘ সময়। বিএনপির আমলে মন্ত্রীও ছিলেন। বর্তমানে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে থাকলেও নিজেই শরীক কয়েকটি দল নিয়ে গঠন করেছেন জাতীয় মুক্তি মঞ্চ।

*এই জাতীয় মুক্তি মঞ্চ গঠন নিয়েই মূলত বিএনপির সাথে কর্নেল অলির টানাপোড়েন শুরু হয়। বিএনপির চলমান কর্মসূচির বিরুদ্ধে মুক্তিমঞ্চ থেকে পৃথক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে রয়েছেন এলডিপির চেয়ারম্যান। কর্নেল অলি আহমেদের এহেন কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির নেতারা নানা হিসেব-কষছেন। তবে আপাতত অলির সাথে যারা গাঁটছাড়া বেঁধেছেন তারাও অলির কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট। বিএনপির বিপরীতে আরেকটি মঞ্চ কতটুকু যুক্তিসঙ্গত সেটি নিয়েও রীতিমত প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

*শরীকরাই বলছে, বিএনপি ভাঙ্গার অব্যর্থ মিশন নিয়ে নেমেছেন অলি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মুক্ত থাকাকালে কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে দলে ফেরানোর একটি প্রক্রিয়া হলেও তারেক রহমানের বিরোধিতায় বেগম খালেদা জিয়া পিছু হটেন। তাই দলে ফেরার প্রস্তুতিটাও সেসময় ভেস্তে যায়। তবে ২০ দলীয় জোটে থেকে জাতীয় মুক্তি মঞ্চ নামের মঞ্চ করে তাতে জামায়াতে ইসলামী, কল্যাণ পার্টি, জাগপা ও খেলাফত মজলিসসহ বেশ কিছু দলকে কাছে টেনে অনেকটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে বিএনপিকে। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, তার কর্মকাণ্ডের উপর আমরা নজর রাখছি।