প্রচ্ছদ জীবন-যাপন “রোহিঙ্গা নারীরা যেভাবে জড়িয়ে পড়ছে যৌ’ন ব্যবসায়”

“রোহিঙ্গা নারীরা যেভাবে জড়িয়ে পড়ছে যৌ’ন ব্যবসায়”

157

*মিয়ানমার থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা রো’হিঙ্গা নারীদের মধ্যে একটি বড় অংশ যৌ’ন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে। দেশীয় দালাল চক্রের সহায়তায় এই হার ক্রমশই বাড়ছে। এরাই আবার ভালো কাজ ও থাকা খাওয়ার প্রলো’ভনে রো’হিঙ্গা নারীদের বিদেশে পা’চারে পাঁয়তারা চালাচ্ছে। রো’হিঙ্গা ক্যাম্পসহ সারাদেশে সক্রিয় এ চক্রটি। খবর ডয়চে ভেলে।

*গত জুন মাসে কক্সবাজার থেকে পা’চারের সময় অন্তত ২১ জন নারীকে উদ্ধার করা হয়৷ মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে চাকরি দেয়ার কথা বলে পাচার করা হচ্ছিল তাদের৷ এর আগে ১৪মে উদ্ধার করা হয় ১৭ জন নারীকে৷ তাদের দলে ১৬ জন শিশু ও একজন পুরুষও ছিলেন৷ উদ্ধারের পর তাদের ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়৷ শুধু কক্সবাজার নয়, বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকা থেকেও রোহিঙ্গা নারীদের উদ্ধার করা হচ্ছে৷

*গত ২০ জুলাই রাজধানী ঢাকা থেকে দুই রো’হিঙ্গা নারীকে উদ্ধার করে র‌্যাব৷ এ সময় দা’লাল চক্রের সদস্যদেরও আ’টক করা হয়৷ জানা যায়, ওই দুই নারীকে বাংলাদেশি পাসপোর্টের মাধ্যমে বিদেশে পা’চারের চেষ্টা করছিল দা’লাররা৷

*কক্সবাজারে যৌ’নকর্মীদের নিয়ে কাজ করে ‘নোঙর’ নামে একটি স্থানীয় এনজিও৷ তারা এইচআইভি নিয়ে কাজ করলেও রো’হিঙ্গা নারীদের যৌ’ন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে৷ প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক দিদারুল আলম রাশেদ বলেন, ‘‘স্থানীয় দালা’ল চক্র ছাড়াও আগেই বাংলাদেশে আসা রো’হিঙ্গাদের অনেকে এ গোষ্ঠিটির নারীদের নানা উপায়ে যৌ’ন ব্যবসায় বাধ্য করছে৷ হতদরিদ্র অবস্থার সুযোগ নিয়ে এ কাজ করছে তারা৷”

*তিনি বলেন, ‘‘চাকরির নামে বিদেশে যাদের পাচার করা হয় তাদের আসলে যৌ’ন ব্যবসায় নিয়োজিত করা হয়৷ পাচারের সময় অনেক রো’হিঙ্গা নারী উদ্ধার করা হয়েছে৷ আর এ থেকেই বোঝা যায় যে, কি পরিমান রোহিঙ্গ নারী পা’চার হয়েছে৷ চাকরি ছাড়ায়ও বিয়ের প্র’লোভন দেখিয়ে রোহিঙ্গা নারীদের যৌ’ন ব্যবসায় নিয়োজিত করা হয়৷ অনেক রো’হিঙ্গা নারী এখানে আসার পর ক্যাম্পের বাইরে থেকেই তাদের যৌ’ন ব্যবসায় বাধ্য করা হয়৷ তাদের শুধু কক্সবাজার এলাকায় নয় দেশের অন্যান্য এলাকায় পরিচয় পাল্টে যৌ’ন ব্যবসায় বাধ্য করা হচ্ছে৷”

*ঠিক কতজন রো’হিঙ্গা নারী যৌ’ন ব্যবসায় জড়িয়েছে তা সঠিকভাবে বলা না গেলেও তাদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বলে জানান তিনি৷ তিনি বলেন, ‘‘বাড়ার কারণ হলো রোহিঙ্গা ক্যাম্প সুরক্ষিত নয়৷ আর ক্যাম্পের মধ্যেই যৌ’ন ব্যবসার দা’লালদের নেটওয়ার্ক৷’

*কক্সবাজার এলাকার হোটেল ছাড়াও দা’লালরা যৌ’ন ব্যবসার জন্য বাসা ও বিভিন্ন রেস্ট হাউজও ব্যববহার করে৷ তবে, রো’হিঙ্গা নারীদের যৌ’ন ব্যবসায় নিয়োজিত হওয়ার বিষয়ে কোন তথ্য নেই স্থানীয় প্রশাসনের কাছে৷ কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন অবশ্য দাবি করেন, ‘‘রোহিঙ্গা নারীরা যে যৌ’ন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে সে তথ্য আমাদের কাছে নেই৷ তবে ক্যাম্পের ভিতরে তারা যৌ’ন হ’য়রানির শিকার হন এমন অভিযোগ আমরা পাই৷”

*যৌ’ন ব্যবসার ব্যাপারে পুলিশের নজরদারি আছে বলে জানান তিনি৷ কক্সবাজার জেলা সমাজ সেবা দপ্তরের উপ পরিচালক প্রীতম চৌধুরী বলেন, ‘‘রোহিঙ্গা নারীরা যৌ’ন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছেন এমন তথ্য এবং অভিযোগ আমরা শুনি৷ তবে আমরা ক্যাম্পের শিশুদের নিয়ে কাজ করি, নারীদের নিয়ে নয়৷