প্রচ্ছদ রাজনীতি “পুরানো হিসাব নিতে ডেঙ্গুতে শরিকরা পাশে নেই আওয়ামী লীগের”

“পুরানো হিসাব নিতে ডেঙ্গুতে শরিকরা পাশে নেই আওয়ামী লীগের”

23

*ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে জন মানুষের উদ্যোগ এবং উৎকন্ঠা ক্রমশই বাড়ছে। এই সময় স্পষ্টতই আওয়ামী লীগ বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার উদ্যোগ নিয়েছে। আওয়ামী লীগের তিনদিনের কর্মসূচি শেষ হয়েছে আজ। আওয়ামী লীগ সারাদেশে পাড়া মহল্লায় ডেঙ্গু মোকাবিলায় নিজেদের সংগঠিত করছে। কিন্তু ডেঙ্গু মোকাবিলায় আওয়ামী লীগের পাশে নেই তার শরিকরা। ১৪ দল ইতিমধ্যেই ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের সমালোচনা করেছে। জাতীয় পার্টি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে।

*জাতীয় পার্টি মনে করছে যে, সরকার যথাযথভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারেনি। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন যে, সরকারের যেভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা উচিত ছিল সেভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে। জাতীয় পার্টি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দল। সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে কাজ করছে। জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের মহাজোটের শরিক হলেও বর্তমান কাঠামোতে জাতীয় পার্টি সরকারের বিরোধীতা করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রধান শরিক ১৪ দলের কেউই আওয়ামী লীগের পাশে নেই। ১৪ দল এনিয়ে সরকারবে সমালোচনা করছে এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ডেঙ্গু মোকাবিলার জন্য আজ পর্যন্ত ১৪ দলের কোন সভা অনুষ্ঠিত হয়নি এবং সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণের কোন উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়নি। ১৪ দলের সমন্বয়ে মোহাম্মদ নাসিম ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করেছিলেন। ডেঙ্গু মোকাবিলা করবেন বলে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেও থেমে গেছেন।

*একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই ডেঙ্গু মোকাবেলায় ১৪ দলকে মাঠে নামাতে চেষ্টা করেও মোহাম্মদ নাসিম সেটি পারেননি। ১৪ দলের শরিকরা বলছেন যে, পুরনো হিসাব নিকাশ মিটাতে হবে। ১৪ দলের একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতা বলেছেন যে, বিপদে পড়লেই শরিকদেরকে খোঁজ করা হয় আর ভালো সময়ে শরিকদেরকে ছুড়ে ফেলা দেয়া হয় এই নীতি থেকে আওয়ামী লীগকে সরে আসতে হবে। আর এই নীতি গ্রহণ করলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে শরিকরা কখনোই থাকবে না।

*উল্লেখ্য যে, ১৪ দলের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা রাশেদ খান মেনন ডেঙ্গু মোকাবেলায় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে দুই মেয়রের দুর্নীতির অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেছেন। ডেঙ্গু নিয়ে হাসানুল হক ইনুর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি অনেকদিন ধরেই নীরব। কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই তিনি দৃশ্যমান নন। চৌদ্দ দলের আরেক শরিক দলের দিলীপ বড়ুয়াকেও কোন কর্মকাণ্ডের মধ্যে দেখা যায়নি।

*উল্লেখ্য যে, ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ একলা চলো নীতি গ্রহণ করেছিল। এই একলা চলো নীতির অংশ হিসেবেই শরিকদেরকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করেনি। সেখান থেকে শরিকদের সঙ্গে টানাপোড়েন শুরু হয়। এরপর শরিকরা বহুবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহ দেখালেও আওয়ামী লীগের কারও কারও আপত্তির মুখে সেই উদ্যোগ এগুয়নি। এখন আওয়ামী লীগ যখন ডেঙ্গু, বন্যা এবং গু’জব নিয়ে প্রথমবারের মত কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে সেইসময় শরিকরাও আওয়ামী লীগের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। বরং এই সমস্ত বিপর্যয়গুলো মোকাবেলার জন্য মাঠে আওয়ামী লীগ একা।

*তবে আওয়ামী লীগের নেতা ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের শরিকরা সবসময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিল এবং এখনও আছে। যদি আওয়ামী লীগ মনে করে শরিকদেরকে একাট্টা করতে হবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই শরিকদেরকে পাশে পাওয়া যাবে।‘ কিন্তু মাঠের বাস্তবতা বলছে, শরিকরা এখন আগের মত ডাক দিলেই ছুটে যাবেন এমন পরিস্থিতি নেই। বরং শরিকরা এখন ডেঙ্গু এবং অন্যান্য ইস্যুতে সমালোচনা করে সরকারকে পরিশুদ্ধ করতে চাইছে। কিন্তু এই পরিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়ায় সরকারের ক্ষতি হবে না লাভ হবে সেটা বিবেচনা করছেন না শরিকরা। যারফলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের মিত্র ১৪দলের সম্পর্কের টানাপোড়েন ডেঙ্গু ইস্যুতে প্রকাশ পেতে শুরু করেছে।