প্রচ্ছদ রাজনীতি “ঐক্যফ্রন্ট ছেড়ে অলির জোটে মধু সন্ধানে মান্না!”

“ঐক্যফ্রন্ট ছেড়ে অলির জোটে মধু সন্ধানে মান্না!”

33
ঐক্যফ্রন্ট ছেড়ে অলির জোটে মধু সন্ধানে মান্না!

*বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আসার কোনো ঘোষণা না দিলেও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব) অলি আহমদ সমমনা কয়েকটি দল নিয়ে গঠন করেছেন নতুন জোট জাতীয় মুক্তি মঞ্চ। এই জোটের শক্তি বাড়াতে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে তিনি পাশে চাইছেন। জাতীয় মুক্তি মঞ্চে যুক্ত হতে অলির আহ্বানে মান্না ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

*বিএনপিকে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম উদ্যোক্তা মাহমুদুর রহমান মান্না। ভোটের আগে ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে ব্যাপক দৌড়’ঝাঁপ করলেও নির্বাচনে জোটের ভরাডুবির পর তাকে আর তৎপর হতে দেখা যায়নি। এদিকে একই দিন শুক্রবার (২ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন অলি ও মান্না।

*সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন মাহমুদুর রহমান মান্না। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হওয়ার পর থেকে তাকে জোটের হয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে দেখা গেছে। ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিতদের সংসদে যোগ দেওয়া নিয়ে ক্ষু’ব্ধ মান্না এবার নিজ সংগঠন নাগরিক ঐক্যের ব্যানারে তিনি একাই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মান্না কথা বলবেন বলে জানালেও অনেকেই মনে করছেন, অলির নতুন জোট জাতীয় মুক্তি মঞ্চে যুক্ত হওয়ার ঘোষণাও আসতে পারে। একই দিন বিকালে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। এতে অলি আহমেদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিসহ সাম্প্রতিক সময়ের নানা ইস্যু তুলে ধরবেন। আলাদাভাবে ভিন্ন সময়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হলেও বিশ্লেষকরা মনে করেন, দুটি সংবাদ সম্মেলনের মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে।

*২০ দলের কর্মকাণ্ডে অনেকটাই হতাশ অলি আহমেদ ওই জোট ছাড়ার ঘোষণা না দিলেও বর্তমানে তিনি জাতীয় মুক্তিমঞ্চ নিয়েই বেশি তৎপর। এই জোটকে শক্তিশালি করতে সম্প্রতি অলি আহমেদ ফোন করে মান্নাকে তার জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। পরে নতুন জোটের উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা ও নীতি সম্পর্কে জানাতে গত মঙ্গলবার ( ৩০ জুলাই ) তার প্রতিনিধি হিসেবে এলডিপির যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিমকে মান্নার করা কাছে পাঠান। তাদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনাও হয়েছে। এসময় মান্নার মনোভাব ইতিবাচক দেখা গেলেও জাতীয় মুক্তিমঞ্চে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেননি বলে জানান এলডিপি যুগ্ম মহাসচিব ।

*নাগরিক ঐক্যের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, অলি আহমেদের জামায়াত প্রীতি আর তার জোটে শফিউল আলম প্রধানের বিতর্কিত ব্যাক্তির দল গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) শরীক থাকায় তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি মান্না। তবে নীতিগতভাবে একটা জায়গায় অলি আর মান্না একমত। তারা দুজনেই মনে করেন, বিদ্যমান পরিস্থিতি বিএনপিকে ছাড়া কোনো জোটের পক্ষেই জনগণের সামনে আলদা ভাবমূর্তি গড়া সম্ভব নয়। তাই বিএনপিকে সঙ্গে রেখেই এগিয়ে যেতে হবে।

*খালেদা জিয়ার মুক্তি বা নতুন নির্বাচন-উভয় ইস্যুতে বিএনপির নেতৃত্বেই সামনে এগুতে হবে। অলি ও মান্নার এই মতের মিলই তাদের একই প্লাটফর্মে দাঁড় করাতে পারে।
মাহমুদুর রহমান মান্নার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অলি আহমদ সাহেবও বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ চান। আমিও চাই। তা ছাড়া আমি মনে করি, দেশে এখন যা ঘটেছে তাতে সরকার আছে কি না, এটা স’ন্দেহ। তাই সবার কথা বলা উচিত।

*প্রসঙ্গত, ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা অলি আহমদ গত ২৭ জুন এক সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ‘জাতীয় মুক্ত মঞ্চ’ নামের আলাদা একটি প্ল্যাটফর্মের ঘোষণা দেন মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিমের নেতৃত্বাধীন কল্যাণ পার্টি এবং প্রয়াত শফিউল আলম প্রধানের নেতৃত্বাধীন জাগপাও ওই মঞ্চে যোগ দিয়েছে। তবে মুক্ত মঞ্চের ওই নেতারা একই সঙ্গে এও ঘোষণা দিয়েছেন যে তাঁরা বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটেও আছেন।

*অলি আহমেদের এই কৌশল পছন্দ করেছেন মান্না। তিনিও ঠিক একই কৌশলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে থেকে বা ফ্রন্ট না ভেঙে পৃথকভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন শুরু করছেন। কারণ হলো, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কার্যত এখন অনেকটাই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ফ্রন্টের কোনো বৈঠক হচ্ছে না। ‘একলা চলো নীতি’তে অবস্থান নিয়ে বিএনপি বর্তমানে এককভাবে কর্মসূচি পালন শুরু করেছে। যে কারণে ক্ষু’ব্ধ হয়ে ফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন দল গণফোরামও সাম্প্রতিককালে এককভাবেই কর্মসূচি পালন শুরু করেছে।

*গত ২২ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল বলেছেন, ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল নির্বাচনকে সামনে রেখে। এখন জনগণের ঐক্য দরকার। রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকায় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ গত ৮ জুলাই ফ্রন্ট ছেড়ে চলে গেছে। ফ্রন্টের আরেক নেতা জেএসডির সভাপতি আ স ম রব চিকিৎসার জন্য এখন দেশের বাইরে আছেন। সব মিলিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘদিন বৈঠক ও তৎপরতা না থাকায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে ২০ দলীয় জোটও।