প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য “বাংলাদেশের যা কিছু গড়ে উঠেছিল বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে”

“বাংলাদেশের যা কিছু গড়ে উঠেছিল বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে”

24
বাংলাদেশের যা কিছু গড়ে উঠেছিল বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে

*বঙ্গবন্ধু নামটি মানে যার হাত ধরে স্বাধীন বাংলাদেশের পথচলা, একটি স্বাধীন দেশের শুরু মানেই আমরা জাতি হিসেবে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখা। কিন্তু শুধু দেশটি জন্মালে তো হলো না, সেই দেশকে শক্তিশালী করে তুলতে আমৃত্যু লড়ে গেছেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা আর মনোবলে জাতি মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। তিনি হাজার হাজার বছরের পরাধীন বাঙালি জাতিকে দান করেছেন মুক্তির অমিয় সুধা। তিনিই প্রথম গণমানুষকে দেশপ্রেমে দীক্ষিত করে তুলেছেন। তাঁর নেতৃত্বের প্রতি আপামর জনগণের আস্থা ছিল প্রবল।
তার হাত ধরে এই স্বাধীন দেশে যাত্রা শুরু করেছিল অসংখ্য কর্মসূচি, সংগঠন, জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ। সেগুলোর কিয়দংশ নিয়ে থাকছে আজকের আলোচনা-

*বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি: ১৯৭৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু জাতীয় আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সংগতি রেখে বাংলাদেশকে শিল্প-সংস্কৃতিবদ্ধ সৃজনশীল মানবিক বাংলাদেশ গঠন এবং বাঙালির হাজার বছরের কৃষ্টি-সংস্কৃতি-ঐতিহ্য ধরে রেখে আরো সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশি শিল্পকলা একাডেমি গঠন করেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতি বিকাশের একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান। প্রাচীন এই প্রতিষ্ঠানটি আজও সমানভাবে বাঁচিয়ে রেখেছে আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি, আর তাতে মিশে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর ছোঁয়া।

*ইসলামিক ফাউন্ডেশন গঠন: ইসলামের যথার্থ শিক্ষা ও মর্মবাণী সঠিকভাবে ব্যাপক পরিমাণ জনগোষ্ঠীর মাঝে প্রচার-প্রসারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তারই বাস্তবায়নে ১৯৭৫ সালের ২২ মার্চ প্রতিষ্ঠা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ইসলামী আদর্শের যথাযথ প্রকাশ তথা ইসলামের উদার মানবতাবাদী চেতনা বিকাশের লক্ষ্যে একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠা ছিল জাতির পিতার সুদূরপ্রসারী চিন্তার এক অমিত সম্ভাবনাময় ফসল।

*হজে পাঠানো: ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগে সৌদি আরবে মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বে ছয় সহস্রাধিক বাংলাদেশি মুসলমানকে হজ্ব পালনে প্রেরণ করা হয়।
বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী চুক্তি: ১৯৭২ সালের ১৯ মার্চ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পাদিত হয় ‘২৫ বছর মেয়াদি’ বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রীচুক্তি।
শিক্ষা কমিশন গঠন: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠন ও শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেন।

*যমুনা সেতু: ১৯৭৩ সালের ১৮-২৪ অক্টোবর জাপান সফরকালে জাপানের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী কাকুই তানাকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে যমুনা বহুমুখী সেতু নির্মাণের সূচনা করেন।
বিভিন্ন সংস্থার সদস্যপদ গ্রহণ: জাতিসংঘের বেশিরভাগ সংস্থা বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সদস্যপদ লাভ হয় বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই।

*বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পুনর্গঠন: স্বাধীনতা অর্জনের পরপরই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে একটি আধুনিক সুসজ্জিত বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ; ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের ১৩৬তম সদস্যপদ লাভ ও ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণ প্রদান।