প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় “সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের ৪ বছর: দিন বদলেছে বিলুপ্ত ছিটমহলে”

“সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের ৪ বছর: দিন বদলেছে বিলুপ্ত ছিটমহলে”

17
সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের ৪ বছর: দিন বদলেছে বিলুপ্ত ছিটমহলে

*বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের চার বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে (১ আগষ্ট) বাস্তবায়ন হয় বাংলাদেশ ভারতের বহুল আলোচিত ছিটমহল বিনিময় চুক্তি। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে যোগ হয় ১১১ ভারতীয় ছিটমহলের ১৭ হাজার ১৬০ দশমিক ৬৩ একর জমি।
৬৮ বছরের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন ছিটমহলের বাসিন্দারা। এরই ধারাবাহিকতায় পঞ্চগড়ের তিন উপজেলার ৩৬টি ভারতীয় ছিটমহলের ২০ হাজারের বেশি বাসিন্দা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পান।

*এদিকে স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের চতুর্থ বর্ষপূর্তী উপলক্ষে বুধবার রাত ১২টা ১ মিনিটে পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিলুপ্ত গারাতি ছিটমহলের কলেজের শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে ৬৮ বছরের অবহেলা থেকে মুক্তির জন্য ৬৮টি মোমবাতি এবং চতুর্থ বর্ষপূর্তী উপলক্ষে চারটি মশাল প্রজ্জ্বলন করেন তারা।
এছাড়াও দিসবটি উদযাপনে আনন্দ র‌্যালি, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

*বিলুপ্ত কয়েকটি ছিটমহল সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগে স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের পর চার বছরে বদলে গেছে অবহেলিত এসব জনপদের জীবনযাত্রা। সরকারের নানামুখি উন্নয়নে আলোর জগতে প্রবেশ করেছেন বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দারা। তাদের ঘরে ঘরে এখন বিজলী বাতি, গড়ে উঠেছে নতুন নতুন স্কুল-কলেজ। প্রতিটি পরিবার ব্যবহার করছে স্যানিটারি ল্যাট্রিনসহ নলকূপ।

*সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন সুবিধাভোগিরা। সকাল হলেই শিশুরা দল বেঁধে ছুটছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। বেকার তরুণ-তরুণীদের কম্পিউটার শিক্ষার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা হচ্ছে।

*জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি উদ্যোগে চার বছরে বোদা, দেবীগঞ্জ এবং সদর উপজেলার বিলুপ্ত ৩৬টি ছিটমহলের প্রায় ২০ হাজার মানুষের ঘরে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। শিক্ষা বিস্তারে তিনটি কলেজসহ ২২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়েছে। তিনটি কমিউনিটি ক্লিনিক, ভূমিহীন ৮১টি পরিবারের জন্য তিনটি গুচ্ছগ্রাম। নির্মাণ করা হয়েছে মসজিদ ও মন্দির।

*কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির সহায়তা দেয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের সহায়তায় প্রতি সপ্তাহে স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে জমির মালিকানা হস্তান্তর করা হয়েছে। নাগরিকদের দেয়া হয়েছে স্মার্ট কার্ড।

*যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৬৮ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মাণ করা হয়েছে ১০২ কিলোমিটার পাকা সড়ক। গড়ে তোলা হয়েছে ডিজিটাল পোস্ট অফিস। বয়স্ক এবং বিধবা মহিলারা পাচ্ছেন মাসিক ভাতা। বেকার ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের দেয়া হচ্ছে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ। ফলে পাল্টে গেছে বিলুপ্ত ছিটমহলের দৃশ্যপট। দীর্ঘদিন অবহেলিত এবং নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীরা এখন আলোর জগতে প্রবেশ করেছেন।

*সদর উপজেলার বিলুপ্ত গারাতি ছিটমহলের সাবেক চেয়ারম্যান মফিজার রহমান বলেন, ‘ছিটমহল বিনিময়ের পর চার বছরে আমাদের এখানে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। শেখ হাসিনার কাছে আমাদের আর কোনো চাওয়া পাওয়া নেই। সর্বোপরি তিনি আমাদের বাংলাদেশের গর্বিত নাগরিকের মর্যাদা দিয়েছেন। তার এই ঋণ আমরা কখনও শোধ করতে পারব না।

*তিনি আরও বলেন, এখন শুধু এনটিআরসির শিক্ষক নিবন্ধনসহ শর্ত শিথিল করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার অপেক্ষায় আছি। এসব দাবিতে বুধবার আমরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি স্মারকলিপি দিয়েছি।

*জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ছিটমহল বিনিময়ের পর জেলার বিলুপ্ত ৩৬ ছিটমহলে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা,চিকিৎসা, যোগাযোগ ও প্রযুক্তিসহ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি কর্মসূচির আওয়তায় তাদের নানাভাবে সহায়তা করা হয়েছে।

*তিনি আরও বলেন, এখনও সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করা হয়। বিশেষ করে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এসব এলাকায় প্রতি সপ্তাহে ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্য ক্লিনিকের মাধ্যমে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিনের পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠিকে দেশের মূল স্রোতে অন্তর্ভূক্ত করতে সবরকম প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

*চার বছরে অভূতপূর্ব উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে স্থানীয় এমপি মো. মজাহারুল হক প্রধান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিলুপ্ত ছিটমহল উন্নয়নের তদারকি নিজেই করেছেন। এজন্য দীর্ঘদিন নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত এসব মানুষ বর্তমানে প্রতিবেশী বিভিন্ন এলাকার লোকজনের তুলনায় ভালো আছেন।