প্রচ্ছদ রাজনীতি ১৪ দলের সিনিয়রদের মান ভাঙানোর উদ্যোগ নিচ্ছে আ’লীগ

১৪ দলের সিনিয়রদের মান ভাঙানোর উদ্যোগ নিচ্ছে আ’লীগ

89
১৪ দলের সিনিয়রদের মান ভাঙানোর উদ্যোগ নিচ্ছে আ'লীগ

*আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা দীর্ঘদিন ধরেই নীরব। শুধু আওয়ামী লীগ নয়, ১৪ দলের সিনিয়র নেতারাও নীরব। ডেঙ্গু পরিস্থিতি, বন্যা পরিস্থিতি এবং গুজব স’ন্ত্রাসে ১১ বছরের মাথায় এসে সরকার প্রথমবারের মত সংকটে পড়েছে, অস্বস্তিতে পড়েছে। এই অস্বস্তি আরও বেড়েছে প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতির কারণে। লন্ডনে চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন দেশে না থাকায় নানারকম গুজব এবং অস্বস্তিকর পরিস্থিতি ডালপালা মেলছে। এরকম পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করছে যে, সিনিয়র নেতারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।

*এখন যারা মন্ত্রী রয়েছেন তাঁরা কর্মঠ, ভালো কিন্তু এদের মধ্যে কমই পাবলিক ফিগার। সাধারণ মানুষ তাঁদেরকে চিনে না। তাঁরা এলাকাভিত্তিক রাজনীতি করেছেন। এরা কেউই জাতীয় পর্যায়ের নেতা না। যার জন্য তাদের কথা বা তাদের পদক্ষেপগুলো সাধারণ মানুষের কাছে হৃদয়গ্রাহী হয়ে উঠছে না। আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা স্বীকার করেছেন যে, রাজনৈতিক নেতাদের যেরকম পাবলিক ফিগার হওয়া উচিত এখনকার অনেক মন্ত্রীই সেরকম নয়। সেজন্য সাধারণ মানুষের তাদের প্রতি আস্থা নাই। সাধারণ মানুষ একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর উপর আস্থায় ভর করে আছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ মনে করে যে, প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি দলে যারা হেভিওয়েট, যারা পাবলিক ফিগার তাদের এই সংকটে আওয়ামী লীগের পাশে দাঁড়ানো উচিৎ এবং আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলা প্রয়োজন। তাদের আলাদা ইমেজ রয়েছে।

*আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, সিনিয়র নেতারা অভিমান করে সবকিছু থেকে নিজেদের গুটিয়ে রেখেছেন। শুধু আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা না। ১৪ দলের যেসমস্ত সিনিয়র নেতারা যারা পাবলিক ফিগার, তাদেরকেও এই সময়ে সরকারের পক্ষে সম্পৃক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে।

*আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলের একাধিক সিনিয়র নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি তাদেরকে আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা এবং নেতৃত্ব গ্রহণ করে পরামর্শ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। তার ডাকে সাড়া দিয়ে বেগম মতিয়া চৌধুরী গতকাল আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয় থেকে শুরু হওয়া পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তবে অন্য দুই নেতা তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু এবং মো. নাসিম এখনো সম্পৃক্ত হননি। মো. নাসিম ইতিমধ্যে নিজ উদ্যোগে কয়েকটি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন এবং ডেঙ্গু সম্পর্কে বিভিন্ন রকম বার্তা দিয়েছেন। তাকে দলীয় কাঠামোর মধ্যে এনে সম্পৃক্ত করার জন্য দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

*এছাড়াও ১৪ দলের যেসমস্ত হেভিওয়েট নেতা রয়েছেন; যেমন রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু , দীলিপ বড়ুয়াদেরকেও সরকারের পক্ষে সক্রিয় করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, ১৪ দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করা হবে। এটা যেহেতু জাতীয় সমস্যা, জাতীয় দুর্যোগ। এটা মোকাবিলা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী সকল সমমনা রাজনৈতিক দলকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ মনে করছে, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর থেকে যে মান অভিমান চলছিলো সরকারের সিনিয়র নেতা এবং ১৪ দলের সঙ্গে সেই মান অভিমান গুছিয়ে ফেলার ক্ষেত্রে ডেঙ্গু পরিস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

*যোগাযোগ করা হলে রাশেদ খান মেনন বলেছেন যে, ১৪ দলের বৈঠকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। আবার আমরা খুব শীঘ্রই ১৪ দলের একটি বৈঠক ডাকবো। তিনি মনে করেন যে, ডেঙ্গু মোকাবিলায় দুই সিটি কর্পোরেশনের ব্যর্থতা রয়েছে। সরকার এখন ডেঙ্গু মোকাবিলা নিয়ে যে তৎপরতা দেখাচ্ছে তার সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত থাকতে চান। একইভাবে হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সকলের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেছেন, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর যারা ১৪ দলকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিল তারা এখন বুঝতে পেরেছে যে, সম্মিলিত শক্তির বিকল্প কিছু নেই।

*আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্র বলছে, তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমুসহ ১৪ দলের সিনিয়র নেতারা সক্রিয় হলে সরকার বিরোধী যে গুজব এবং বিভিন্ন রকমের প্রপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে সেগুলো দ্রুতই কমে যাবে। নেতাকর্মীরা মনোবল পাবে। তারা চাঙ্গা হবে এবং সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ফলে ডেঙ্গু, বন্যা পরিস্থিতি এবং গুজব সন্ত্রাস থেকে দেশকে মুক্ত করা সম্ভব হবে।