প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত “কাবাঘরে হাজিদের পকেট কাটতে পকেটমার চক্র ও ইব্রাহিম নবী”

“কাবাঘরে হাজিদের পকেট কাটতে পকেটমার চক্র ও ইব্রাহিম নবী”

সুষুপ্ত পাঠক

71

*নবী হযরত ইব্রাহিম সমীপে-
পর সমাচার এই যে, অদ্য সৌদি সরকার আফ্রিকার কঙ্গো দেশের নাগরিকদের এ বছর হজ করতে সৌদি আরব প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাস মহামারি লাগায় সেই ভাইরাস কঙ্গোর হাজি সাহেবদের মাধ্যমে ইসলামের জন্মভূমি সৌদি আরবে যাতে প্রবেশ করতে না পারে- এটা তারজন্য সতর্কমূলক ব্যবস্থা।

*এ কেমন কথা নবী সাহেব! ইবোলার মত একটা ভাইরাস আপনার আল্লাহ ঠেকাতে সক্ষম নন? আপনি না দেব-দেবীদের মূর্তি ভে’ঙ্গে আপনার পিতাকে বলেছিলেন, যে মূর্তি নিজেকেই রক্ষা করতে পারে না তাকে পুজা করো কেন? কাবাঘরের সামনে পকেটমারদের অত্যাচারে হাজি সাহেবরা লাব্বায়েক আল্লাহুমা (প্রভূ আমি হাজির) বলতে বলতে দেখে পকেটের ডলার, দরকারী কাগজপত্র হাপিশ! কাবাঘরের সামনে একটা পকেটমারকে যে ধরতে পারে না, তার ঘরের চারপাশে যারা আর্তস্বরে হাজির হবার ঘোষণা দিচ্ছে- তাদের যিনি নিরাপত্তা দিতে পারেন না, তাকে ডাকতে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে আসা কেন?
কাবাঘরের সামনে মাহিলা হাজিদের উপর পুরুষ হাজিদের যৌ’ন হ’য়রানী যিনি ঠেকাতে পারেন না, তিনি সর্বশক্তিমান কিভাবে? আপনার যুক্তি অনুযায়ী যে আল্লার তার হাজিদের পকেট পাহারা দিতে পারে না- তাকে ডেকে লাভ কি?…

*কি অবাক হচ্ছেন পকেটমারদের কথা শুনে? বাংলাদেশ পুলিশ জানাচ্ছে, পকেটমার চক্র দেশে ১০ মাস চুরি-ছি’নতাই করলেও হজের সময় এলেই আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা খরচ করে সৌদি চলে যায়। ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রতিবছরই তারা দুই মাসের জন্য সৌদি আরবে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে। এ বছরও তারা সৌদি আরবে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। দলটির মূল হোতা আপেলের নেতৃত্বে ১২ জনের সংঘবদ্ধ চক্রের প্রত্যেক সদস্যের পাসপোর্ট রয়েছে। হজে গিয়ে হাজীদের পকেট কেটে প্রত্যেকে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা নিয়ে দেশে ফিরে আসে’।

*ঘূর্ণিঝড় ফণির আঘাত থেকে পুরির মন্দিরের ধ্বজা ভগবান রক্ষা করতে পারে না। দেবতাকে কোলে করে কাঁটাতার পেরুতে গিয়ে হাত-পা ছিঁড়ে রক্ত বের হওয়া বোকা মানুষগুলো একবারও ভাবে না- যে দেবতাকে রোজ ফুল-ফল দিয়ে পূজা দেয়ার পরও নিজের দেশটাকে ভাগ হওয়া ঠেকাতে পারে না- তাকে ডেকে কি লাভ? শ্রীলঙ্কায় সেদিন গির্জাতে তিনশোর মত মানুষ খুন হয়ে গেলো ঈশ্বর কিংবা তার পুত্র তো তাদের রক্ষা করতে আসেনি?

*কাবার সামনে ক্রেন ভেঙ্গে শ’দুয়েক হাজি যখন মার্ডার হয়ে গেলো আল্লাহ তখন ঘুমিয়ে ছিলো? কাবাঘরকে না তিনি নিরাপদ ঘোষণা করেছিলেন? তিনি তো কাবাঘরের উপর কবুতরের বিষ্ঠা ত্যাগই থামাতে পারেন না। কাবাঘরে হাঁটু পানি, কাবাঘরে আগুন- কিছুই ঠেকাতে পারেনি ‘ঠুটো’ আল্লাহ! আরবের মোহাম্মদ নামের এক রাখাল আপনার মূর্তি ভাঙ্গার গল্প বলে পৌত্তলিকদের ঈশ্বর যে নিরর্থক- তা প্রমাণ করতে রসিয়ে রসিয়ে বলত। ১৪০০ বছর ধরে তার অনুসারীরাও সেই গল্প বলে অন্যদের অপদস্ত করতে রসিয়ে রসিয়ে বলে যাচ্ছে। কিন্তু তাদেরকে সেই একই কথা মনে করিয়ে দিলে সেটা বিদ্বেষ! ধর্মানুভূতিতে আঘাত!

……………………………………………………………………………………….

মুক্ত মতামত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত ও মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। shompadak.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে shompadak.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।