প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত “এবার ‘জাতীয় সংগীত’কে অপমান নোবেলের ও ফেসবুকে প্রতিবাদ”

“এবার ‘জাতীয় সংগীত’কে অপমান নোবেলের ও ফেসবুকে প্রতিবাদ”

467
এবার ‘জাতীয় সংগীত’কে অপমান নোবেলের ও ফেসবুকে প্রতিবাদ

*এটাই প্রথম না, আগেও একাধিকবার ভুল করেছিলেন মাঈনুল আহসান নোবেল। এবার তার একটি লাইভ সাক্ষাৎকারে তিনি জাতীয় সঙ্গীতের স্পষ্টত অপমান করেছেন।
তিনি বলেছেন, ‘রবীন্দ্রনাথের লেখা জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ যতটা না দেশকে এক্সপ্লেইন করে তারচেয়ে কয়েক হাজার গুণে এক্সপ্লেইন করে প্রিন্স মাহমুদ স্যারের লেখা ‘বাংলাদেশ’ এই গানটা।’

*প্রিন্স মাহমুদ বাংলাদেশের কিংবদন্তিতুল্য ব্যান্ড মিউজিশিয়ান। কিন্তু তাঁর লেখা ‘বাংলাদেশ’ গানের সূচনাটাই হয়েছে রবি ঠাকুর লাইন থেকে। ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি…’ এমন লাইন রবি ঠাকুরের কাছ থেকেই নেওয়া। এক গান থেকে জন্ম নেওয়া আরেক গানকে নোবেল কয়েক হাজার গুণ ওপরে তুলতে গিয়ে জাতীয় সঙ্গীতকে কয়েক হাজার গুণ নিচে নামিয়ে দিচ্ছেন- এটা ধৃ’ষ্টতা। এটা অজ্ঞতা।

*নোবেল ফাইনাল রাউন্ডে এই গানের কম্পোজার হিসেবেও নাম ভুল বলেছেন। এই গানের কম্পোজার মানাম আহমেদ। আপনার বয়স কম, ধীরে-সুস্থে কথা বলেন। সামনে অনেকটা পথ এখনো বাকি আছে।

*প্রসঙ্গত, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জি বাংলার গানের প্রতিযোগিতা ‘সারেগামাপা’য় একের পর এক গান গেয়ে আলোচনায় এসেছেন মাঈনুল আহসান নোবেল। এই মঞ্চে গান গেয়ে বাংলাদেশ ও ভারতে প্রচুর ভক্ত তৈরি হয়েছে তাঁর। এ জনপ্রিয়তা পাওয়ার পেছনে আছে দুই বাংলার সুপারহিট কিছু গান। ভক্তদের কাছে তিনি ‘নোবেলম্যন’ নামে পরিচিত। জনপ্রিয় গানগুলো নতুন আয়োজনে নোবেল উপস্থাপন করেছেন ‘সারেগামাপা’র মঞ্চে। নোবেল এই প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছেন।ফেসবুক প্রতিবাদী কিছু মন্তব্য তুলে ধরা হলো:

*Anik Nandy Nill: ধি’ক্কার নোবেল, ধি’ক্কার… নিজের প্রতিও লজ্জা আসছে তোমার মতো এক মৌলবাদী’কে সমর্থন করে! ছিঃ…
কত বড় স্পর্ধা, “আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের অবমা’ননা”! তোমার কাছে জাতীয় সঙ্গীতের থেকে প্রিন্স মাহমুদের গান হাজার গুণ শ্রেষ্ঠ হলো! প্রিন্স মাহমুদ এবং জেমস্ ভাইয়ের গানটি আমারও যথেষ্ট ভালো লাগে। এই গানের এলবাম” পিয়ানো” ক্যাসেট পর্যন্ত সংগ্রহে রেখেছিলাম। তাই বলে জাতীয় সঙ্গীতের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব বলা! প্রশ্নই আসে না।
বাঙালির হৃদয়ের স্পন্দন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনবদ্য সৃষ্টি আমাদের জাতীয় সঙ্গীত। আর তুমি সেই সঙ্গীতের অবমাননা কর! ধিক্কার নোবেল…

*Anik Nandy: নোবেলের ভক্তরা তো ওর কথাকে সমর্থন করতে মরিয়া। প্রতিবাদ করায়, হিন্দু বলে গালিগা’লাজ পর্যন্ত খেতে হচ্ছে! ভারতীয়, দেশদ্রো’হী, মালুর বাচ্চা কত কী ট্যাগ খাইলাম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’কেও ছাড়লো না! তাজ্জব বনে গেলাম নোবেলের মহান মহান ভক্তদের কার্যকলাপ দেখে…

*Susupto Pathok: এই নোবেলের দাড়ি দেখে প্রথম থেকে আমার সন্দেহ ছিলো দাড়িটা ফ্যাশান নাকি ইসলামিক? আজকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা জাতীয় সংগীত বাতিল করে প্রিন্স মাহমুদ আর জেমসের করা বাংলাদেশ গানটাকে জাতীয় সংগীত করার আবদার শুনে নিশ্চিত হয়েছি মালটি কে! এটা অবশ্য ঠিক যে ক্রিকেটের মাধ্যমে যে বাংলাদেশী প্রজন্মের চেতনাকে আমরা জানছি, সলিমুল্লাহ-কলিমুল্লাহদের মত বুদ্ধিজীবীরা যে দেশে প্রধান চিন্তক- সেদেশের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ এখন আর যায় না। সেখানে থার্ডক্লাশ কথা ও সুরে, পলিট্রিক্যাল ব্যালেন্স আর সুবিধাবাদী কথার কোন গানই মানানসই!

নোবেলের সাক্ষাৎকার, ভিডিও:

কত বড় স্পর্ধা নোবেলের, আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা করে!

কত বড় স্পর্ধা নোবেলের, আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা করে! ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জি বাংলার গানের প্রতিযোগিতা ‘সারেগামাপা’য় একের পর এক গান গেয়ে আলোচনায় এসেছেন মাঈনুল আহসান নোবেল।

Posted by Sompadak.com on Wednesday, July 31, 2019