প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত যেখানে বিজ্ঞান ভুল আর হাদিসগুলো সঠিক

যেখানে বিজ্ঞান ভুল আর হাদিসগুলো সঠিক

কায়সার আহমেদ

75
যেখানে বিজ্ঞান ভুল আর হাদিসগুলো সঠিক

(সহীহ বুখারী, নং- ২৯৭২, ৩১১৯, ৪৪৩৯, ৪৪৪০, ৬৯২৭, ৭৪৩৩, ৪৮০২, ৪৮০৩, সহীহ মুসলিম, নং- ২৯৬, ২৯৯) উল্লেখিত হাদীস গুলোতে বলা হয়েছে, “সূর্য চলতে থাকে এবং আল্লাহর আরশের নীচে গিয়ে সিজদায় পড়ে যায়। এরপর সে পুনঃউদিত হওয়ার অনুমতি চায় এবং আল্লাহ তাকে অনুমতি দেন।” অর্থাৎ প্রতিদিন যখন সূর্য অস্ত যায়, আল্লাহর নবীর বক্তব্য মতে, সূর্য তখন আরশের নিচে গিয়ে সিজদায় পড়ে থাকে এবং পরের দিন সকালে আল্লাহর অনুমতি পাওয়ার পরে আবার আকাশে উদিত হয়। আর এভাবেই দিন-রাত সংঘটিত হয়।
মুমিনদের মতে, বিজ্ঞানের আবিষ্কৃত অনেক তথ্যই ‘সঠিক’ নয়। আমি ওসব প্যাচালে না গিয়ে শুধু একটা রিকুয়েস্ট করবো বিজ্ঞান বিদ্বেষী মুমিনদের কাছে।

আপনারা যারা বাংলাদেশে থাকেন, তারা এই লেখাটি পড়েই আমেরিকায় কোনো বন্ধুর কাছে একটা ফোন দিন। জিজ্ঞেস করুন, সূয্যি মামা এখন কোথায়? যদি দেশে দুপুর ১২টা হয়, আমেরিকায় তখন রাত ১২টা হওয়ারই কথা। এক্ষেত্রে সূয্যি মামা থাকবেন বাংলাদেশের আকাশে। আবার বাংলাদেশে রাত ১২টা হলে আমেরিকায় হবে দুপুর ১২টা। সূয্যি মামা তখন আমেরিকার আকাশে। তাহলে তিনি কখন “আরশের নিচে গিয়ে সিজদায়” রাত কাটান? নাকি পৃথিবীর ২০০টি দেশের জন্য ২০০টি আলাদা সূর্য রয়েছে? যেগুলো দিনের শেষে আল্লাহর আরশের নিচে অস্ত যায়?

আমরা জানি সূর্য কন্সটেন্টলি আকাশে দেদীপ্যমান রয়েছে। গোলাকার পৃথিবী ঘুরে বলেই চব্বিশ ঘন্টায় সূর্যকে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে উদয়-অস্ত যেতে দেখা যায়। মুহতারাম মুমিনগণ, একটু কাইন্ডলি লন্ডন আমেরিকায় ফোন করে, বিজ্ঞানকে লাথি মেরে সরাসরি এই পরীক্ষাটুকু করুন। ঈমান হেফাজতের দায়িত্ব আবশ্যকীয়। প্রমাণ করুন, নবীজির বক্তব্য সঠিক অথবা সূর্য ২৪ ঘন্টা আকাশে সচল থাকে- এই তথ্য ভুল। অথবা ঘোষণা করুন, শ্রেষ্ঠ ঈমাম ‘সহীহ’ বুখারী ইহুদিদের দালাল।

লেখক: প্রবাসী।