প্রচ্ছদ রাজনীতি “আওয়ামী লীগ ছাড়া জনগণের পাশে আর কেউ কি আছে?”

“আওয়ামী লীগ ছাড়া জনগণের পাশে আর কেউ কি আছে?”

38
আওয়ামী লীগ ছাড়া জনগণের পাশে আর কেউ কি আছে?

*ডেঙ্গু ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার বিব্রত। বিভিন্ন সমালোচনায় প্রতিনিয়ত বিদ্ধ হচ্ছে সরকার। সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সময়ে তাদের অস্বস্তির কথা প্রকাশ করছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ছাড়া কেউই জনগণের পাশে নেই। ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছেন। খোদ আওয়ামী লীগের মধ্যে থেকেই তাদের নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। সরকারের কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতার কথাও বলা হচ্ছে।

*কিন্তু তারপরেও বাস্তবতা হলো যে সব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আওয়ামী লীগ চেষ্টা করছে। আজ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ডাক দিয়েছে। আগামীকাল থেকে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হচ্ছে। এছাড়াও আওয়ামী লীগ ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাংগঠনিকভাবে তৎপরতা শুরু করেছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের ত্রাণ তৎপরতা চোখে পড়ছে। যদিও তা পর্যাপ্ত নয়।

*এখন লক্ষ্যণীয় ব্যাপার হলো, বাংলাদেশে অনেক বড় বড় রাজনৈতিক দল আছে যারা বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্রের কথা বলে, জনগণের অধিকারের কথা বলে মাইক্রোফোন পর্যন্ত উত্তপ্ত করে ফেলে। তাদের কাউকেই এই ডেঙ্গু এবং বন্যা পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে পাওয়া যাচ্ছে না।

*বিএনপি: বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের পর অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল মনে করা হয় বিএনপিকে। বিএনপির নেতারা গতকাল একটি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং দুই মেয়রের পদত্যাগ দাবি করেছেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে আজ পর্যন্ত কোনো ডেঙ্গুরোগীর পাশে দাঁড়াতে, পরিচ্ছন্নতা অভিযানে কাজ করতে বা ডেঙ্গু মোকাবেলায় হাসপাতালগুলোতে কোনো সাহায্য সহযোগীতা করতে দেখা যায়নি। ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) নামে বিএনপির নেতৃত্বাধীন একটি চিকিৎসক সংগঠন রয়েছে। এখন পর্যন্ত তাদের কোনো তৎপরতা এমনকি বিবৃতিও আমাদের নজরে আসেনি।

*জাতীয় পার্টি: জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টি (জাপা) হলো প্রধান বিরোধী দল। জাপা’র নতুন চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে কোনো বক্তৃতা-বিবৃতি দিতে দেখা যায়নি। ঢাকা শহরে জাতীয় পার্টির দুজন এমপি কাজী ফিরোজ রশীদ এবং সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাও ডেঙ্গু নিয়ে কোনো তৎপরতা চালাচ্ছেন না। এমনকি ঢাকা মহানগর জাতীয় পার্টিতেও ডেঙ্গু নিয়ে কোনোরকম কর্মসূচি, কর্মতৎপরতা গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

*বাম মোর্চা; কথায় কথায় সরকারের সমালচনা করা, জনগণের সম্পদ লুন্ঠন হচ্ছে ইত্যাদি কথা বলে বামফ্রন্টের রাজনীতির ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। কিছুদিন আগেও তেল-গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে তারা হরতাল করেছে। কিন্তু ডেঙ্গু নিয়ে জনগণের পাশে নেই তারা। ডেঙ্গু নিয়ে কোন বক্তৃতা-বিবৃতি বা স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করে জনগণের পাশে যাওয়া জনগণকে সেবা প্রদান করার কোনো কর্মসূচি বামফ্রন্টের পক্ষ থেকেও লক্ষ্য করা যায়নি।

*জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট: মৃতপ্রায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা যতটা সংসদ নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন যতটা রাজনীতি কপচান জনগণের ব্যাপারে আগ্রহ ততটাই কম। ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহবায়ক ড. কামাল হোসেনের একটি বিবৃতিও কারো চোখে পড়েনি। ঐক্যফ্রন্টের অন্যান্য হেভিওয়েট নেতা যেমন আ স ম আবদুর রব, ব্যরিস্টার মইনুল হোসেন প্রমূখরা ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে কোনো রকম তৎপরতা দেখাচ্ছেন না এবং জনগণের পাশে দাড়ানোরও প্রয়োজন মনে করছেন না।

*সংকটকালই রাজনীতিবিদদের আসল পরীক্ষা। এই সংকটকালে দেখা গেল ভালো মন্দ যা-ই হোক না কেন আওয়ামী লীগ ছাড়া জনগণের পাশে দাঁড়ানোর মতো আর কেউ নেই। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের জনবিচ্ছিন্নতা এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে, জনগণের দাবি নিয়ে একটা বাক্য উচ্চারণ করতেও তারা ভুলে গেছেন।