প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত ৬৫ মিলিয়ন বছরের পুরোনো ডাইনোসরের ডিমের ফসিল ও বাবা আদম

৬৫ মিলিয়ন বছরের পুরোনো ডাইনোসরের ডিমের ফসিল ও বাবা আদম

কায়সার আহমেদ

84
৬৫ মিলিয়ন বছরের পুরোনো ডাইনোসরের ডিমের ফসিল ও বাবা আদম

এ ধরনের আবিষ্কার মুমিনদের অন্তরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ৬৫ মিলিয়ন বছরের পুরোনো ডাইনোসরের ডিমের ফসিল পাওয়া গিয়েছে। চীনের এক বালক খেলতে গিয়ে এই ডিমগুলো আবিষ্কার করেছে। মুমিনরা এইধরনের আবিষ্কারের কথা শুনলে ভয়ে আৎকে উঠেন, কারণ তিনাদের কিতাবের তথ্যমতে, পৃথিবী এবং বাবা আদমের বয়স মাত্র ছয় হাজার বছর। পৃথিবীর বয়সই যদি ছয় হাজার বছর হয়, তাহলে ডাইনোসরের আন্ডা ৬৫ মিলিয়ন বছর কেমনে হয়? নিশ্চয়ই এটি নাসারা বিজ্ঞানীদের ষড়যন্ত্র এবং এই বালক ইহুদিদের দালাল। তাই ভুয়া ডাইনোসরের ডিম আবিষ্কার করে আমাদের ঈমান দুর্বল করছে।

কুরানে পৃথিবী নামের কোন গ্রহের উল্লেখ নেই

‘পবিত্র’ কুরানে ‘পৃথিবী’ নামক কোনো গ্রহের কথা আদৌ উল্লেখ নেই। তবে পৃথিবীর কথা যখনি এসেছে, পৃথিবীকে বলা হয়েছে ‘আরজু’ বা ‘জমিন’। ‘আরজু’ হলো গোলাকৃতির ঘূর্ণায়মান একটি গ্রহ, এই তথ্যটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে গ্যালিলিও দ্বারা, প্রায় তিনশো বছর পূর্বে। এমনকি কলম্বাসের সময় পর্যন্তও সবাই ভাবতো পৃথিবী ‘সমতল’ ভূমি। অবশ্য ক্রিস্টোফার কলম্বাস পৃথিবীকে ‘গোল’ ভেবেই আটলান্টিকে অভিযান চালিয়ে আমেরিকা আবিষ্কার করেন।

এছাড়া প্রাচীন গ্রিক বিজ্ঞানী পিথাগোরাস, এরিস্টটল, ইউক্লিডের মতো দার্শনিকগণ পৃথিবীকে ‘গোলাকার’ হিসাবে শুধু ধারণা করেছিলেন মাত্র।! পরে গ্যালিলিও-এর দূরবীন আবিষ্কারের মাধ্যমে পৃথিবীর সূর্যকে ঘূর্ণনের ব্যাপারটি সম্পূর্ণ প্রমাণিত হওয়ার পরেই ‘পৃথিবী’কে একটি গোলাকার ‘গ্রহ’ হিসাবে নিশ্চিত প্রমাণ করা হয়। কিন্তু ‘পৃথিবী’কে গ্রহ হিসাবে প্রমাণ করার পূর্ব পর্যন্ত সবাই এটাকে ‘চ্যাপ্টা জমিন’ হিসাবেই ভাবতো।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, কুরানের আধুনিক অনুবাদগুলোতে ‘আরজু’ বা ‘জমিন’-এর জায়গায় ‘পৃথিবী’ শব্দটি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আল্লাহ্পাক বলেছেন, “আমি আসমানকে জমিনের উপর (পৃথিবীর উপর নয়) খুঁটিবিহীন ছাদ হিসাবে তৈরি করেছি।”

আল্লাহ কুরানের সব জায়গাতেই ‘জমিনের উপর’ কথাটি বলেছেন, ‘পৃথিবীর উপর’ বলেন নি। কারণ ‘পৃথিবী’ তখনো ‘প্ল্যানেট’ হিসাবে ডিসকভারি হয়নি। অথচ মিথ্যুক অনুবাদকেরা ‘পৃথিবীর উপর’ কথাটি লিখে আল্লাহর বাণীর সাথে ‘প্রতারণা’ করে যাচ্ছেন। সুতরাং আল্লাহ ও নবী যেখানে পৃথিবীকে “সমতল জমিন” বলেছেন, সেখানে এটিকে গোলাকার গ্রহ ‘পৃথিবী’ বলার অধিকার মুমিনদের কে দিয়েছে? আর যারাই এটা করছেন, এরা ‘নাস্তিক’ বিজ্ঞানীদের অনুসারী। অবশ্যই এরা আল্লাহ-রসূলের দেওয়া তথ্যে ‘বিশ্বাসী’ মুমিন নয়।

কায়সার আহমেদ: প্রবাসী লেখক।