প্রচ্ছদ খেলা ক্রিকেট শ্রীলঙ্কার কাছে টাইগারদের হারার পাঁচটি কারণ

শ্রীলঙ্কার কাছে টাইগারদের হারার পাঁচটি কারণ

18
শ্রীলঙ্কার কাছে টাইগারদের হারার পাঁচটি কারণ

*এক ম্যাচ বাকি থাকতেই শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সিরিজ হেরে বসে আছে বাংলাদেশ৷ এমন ফলাফলে অনেকেই হতাশ৷ কিন্তু এ মুহূর্তে পরাজয় কি একেবারে অপ্রত্যাশিত? অন্তত পাঁচটি সত্য তো আমরা অস্বীকার করতে পারি না৷ সেই সত্যিগুলোই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের সবচেয়ে বড় কারণ৷

*১. দেশের বাইরে অতীত রেকর্ড: গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেট যে অনেক এগিয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই৷ দেশ-বিদেশের প্রায় সব ক্রিকেটবোদ্ধাই তা স্বীকার করছেন৷ তবে উন্নতির গ্রাফটাকে বেশি উঁচুতে তুলেছে মূলত দেশের মাটিতে পাওয়া বেশ কিছু সাফল্য৷ ভুলে গেলে চলবে না, দেশের বাইরে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ আসরে কিছু উল্লেখযোগ্য জয় পেলেও দ্বিপাক্ষিক সিরিজে বড় সব সাফল্যই দেশে পেয়েছি আমরা৷ বাংলাদেশ প্রথম ওয়ানডে সিরিজটি জিতেছিল ২০০৫ সালে, জিম্বাবোয়ের বিপক্ষে৷ সেই থেকে এ পর্যন্ত মোট ২৪টি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে টাইগাররা৷ ২৪টির মধ্যে মাত্র পাঁচটি জয় এসেছে দেশের বাইরে৷ সেই পাঁচটিতে প্রতিপক্ষ ছিল কেনিয়া, জিম্বাবোয়ে (দুই বার) এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ (দুই বার)৷ জিম্বাবুয়ে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষের সাফল্যগুলো যে তাদের ক্রিকেটে বিপর্যয় নামার পরে এসেছে তা না বললেও চলে৷এর বাইরে দুটো ট্রাই সিরিজও জিতেছে বাংলাদেশ৷ ২০০৬-৭ মৌসুমে ক্যানাডায় অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের তৃতীয় দলটি ছিল বারমুডা৷ সেখানেও ক্যানাডার সঙ্গে প্রথম ম্যাচে কিন্তু হার মানতে হয়েছিল৷ ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টটাই শুধু দাপট দেখিয়ে জিতেছে মাশরাফির দল৷

*শ্রীলঙ্কায় জয়ের আশা করা যেতেই পারে৷ তবে অতীত রেকর্ড পক্ষে ছিল না তা মানতেই হবে৷ ভাঙা দল নিয়ে তামিম ইকবাল নতুন ইতিহাস গড়লে সেটাই হতো বিস্ময়ের৷
২. সাকিবের অনুপস্থিতি: বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলেছেন সাকিব৷ অলরাউন্ড পারফর্ম্যান্সে তার ধারে-কাছেও ছিলেন না কেউ৷ সেই সাকিব র বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে বিশ্রামে৷ তাই তার অভাব পূরণ করতে না পারলে যা হবার তাই হয়েছে৷ প্রথম দুই ম্যাচে দাঁড়াতেই পারেনি তামিমের দল৷

*৩. পঞ্চপাণ্ডবদের দুরবস্থা: সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ এবং মাশরাফি— গত কয়েক বছরে মূলত এই পাঁচজনের হাত ধরেই এগিয়েছে্ বাংলাদেশের ক্রিকেট৷ সাকিব বিশ্রামে, তামিম, মাহমুদুল্লাহর ফর্ম নেই, ফর্ম হারানো মাশরাফিও এই সিরিজে নেই ফিটনেস-সমস্যার কারণে৷ প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাট হাতে একা লড়েছেন মুশফিক৷ তাতে কি আর সবসময় জয় আসে!

*৪. চাপে থাকা ‘অনিচ্ছুক’ অধিনায়ক: এই প্রথম পুরো একটা সিরিজে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পেলেন তামিম ইকবাল৷ কিন্তু সুযোগটা এসেছে এমন সময়ে যখন অধিনায়ক হওয়া তার কাছে আর সম্মানের বিষয় নেই৷ গত ফেব্রুয়ারিতেই ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বাঁ-হাতি এই ব্যাটসম্যান বলেছিলেন, ‘‘দেখুন, অধিনায়কত্ব এমন একটি ব্যাপার, যা নিয়ে আমি মোটেও মাথা ঘামাই না৷ মোটেও না৷ এর অন্যতম কারণ হলো, যে সময় আমি অধিনায়কত্ব নিয়ে ভাবা শুরু করতাম, যখন আমি প্রথম সহ-অধিনায়ক হই, তখন নিজেকে নিয়ে ভাবতে পারতাম, ‘আমি ভবিষ্যতে অধিনায়ক হলে কিভাবে কি করব’–তখনই অকারণে বেশ কিছু ঘটনা ঘটে যায়৷ আমার খুব খারাপ লাগে৷ কারণ, আমি মনে করি না, কোনো ভুল তখন করেছিলাম৷ ” তারপরও সুযোগ এসেছে৷ বার কয়েক সহ-অধিনায়ক হয়েছেন৷ কিন্তু মূল অধিনায়কের অনুপস্থিতিতে সহ-অধিনায়কই দেবেন নেতৃত্ব— অলিখিত এই নিয়ম তারপরও অনুসরণ করা হয়নি৷ তাই তামিম বাধ্য হয়ে আরো বলেছিলেন, ‘‘অধিনায়কত্ব নিয়ে আমার আগ্রহ মরে গেছে৷ এখনো দেখবেন, ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার সময়ও দলের কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়ে প্রথম যে কথাটি বলি, তা হলো, আমি অধিনায়কত্ব চাই না৷ মাঠে সব করবো, সেটি ভিন্ন ব্যাপার৷ কিন্তু অধিনায়ক হতে চাই না৷ কারণ, আমি একটা এমন ছেলে, যে কিনা এসব নিয়ে ভাবি না৷ আমার জীবনে অধিনায়কত্ব গুরুত্বপূর্ণ কিছু না৷” তামিম যে দেশের দিকে তাকিয়ে আপাতত অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন তা তো বোঝাই যায়৷ এই পরিস্থিতিতে নিজেকে অনুপ্রাণিত করাই খুব কঠিন৷ পাশাপাশি সতীর্থদের কাছ থেকেও সেরাটা আদায় করার চেষ্টা করছেন তামিম৷ অথচ বাজে ফর্মের কারণে সবার সমালোচনার তির ছুটছে তার দিকে৷

*৫. ফাঁকা পাইপলাইন: পঞ্চপাণ্ডবদের শুন্যস্থান পূরণ করার মতো খেলোয়াড় না পেলে বাংলাদেশের ক্রিকেটে বিপর্যয় নামতে বাধ্য৷ সেই বিপর্যয় এড়ানোর কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না৷ ঘুরেফিরে ১৭-১৮ জন খেলোয়াড়ই খেলছেন জাতীয় দলে৷ ব্যর্থ হয়ে কেউ বাদ পড়ছেন, সেই জায়গায় যিনি আসছেন তিনি আরো ব্যর্থ হওয়ায় আবার ফিরছেন আগেরজন৷এই তো চলছে! এমনকি খেলোয়াড় সংকটের কারণে শাস্তির মেয়াদ কমিয়েও ফেরাতে হয়েছে

*আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অতি সাধারণ কোনো পারফর্মারকে৷ এভাবেই চলছে বাংলাদেশের ক্রিকেট৷ ফলে চমকে দেয়া সাফল্য আরো হয়ত আসবে কালেভদ্রে, তবে ধারাবাহিক সাফল্য, বিশেষ করে দেশের বাইরে সাফল্য আশা করার আগে পাইপলাইনে খেলোয়াড় বাড়ানোর উদ্যোগ নিতেই হবে৷ সেই উদ্যোগ কি আছে? থাকলে তার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না কেন? দেশের মাটিতে আফগানিস্তান ‘এ’-র কাছে নাস্তানাবুদ হয়েছে বাংলাদেশ ‘এ’৷ শিগগির সুদিন আসার ইঙ্গিত কোথায়?