প্রচ্ছদ খেলা ক্রিকেট “ম্যাচ হেরে ক্যাসিনোতে জুয়ায় ব্যস্ত সুজন”

“ম্যাচ হেরে ক্যাসিনোতে জুয়ায় ব্যস্ত সুজন”

33
ম্যাচ হেরে ক্যাসিনোতে জুয়ায় ব্যস্ত সুজন

*শ্রীলঙ্কা ঘরের মাঠে সিরিজ জিতেছে টানা ৪৪ মাস পর। বাংলাদেশ টানা চার ওয়ানডে হেরেছে ২০১৭ সালের পর এবার। যখন বাংলাদেশ দল অতিক্রম করছে ক্রিকেট ক্যারিয়ারের অন্যতম বাজে সময়, সেখানে টাইগার কোচ সুজনকে দেখা গেল শ্রীলঙ্কার এক ক্যাসিনোতে জুয়ায় ব্যস্ত।
বিশ্বকাপ শেষে স্টিভ রোডসের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করে বিসিবি। এরপর শ্রীলঙ্কা সফরের আগে অন্তর্বতী কোচ করা হয় বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজনকে। যদিও সুজন বলেছিলেন, দীর্ঘমেয়াদী কোচ না বানালে দায়িত্ব নিবেন না তিনি। প্রথম দুই ম্যাচে নাকানি-চুবানি খেয়ে সিরিজ হেরেছে বাংলাদেশ। ৩১ তারিখ শেষ ম্যাচে হোয়াইটওয়াশের সম্ভাবনাও প্রবল। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে সুজন ব্যস্ত কলম্বোর বেলিস ক্যাসিনোতে।

*ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, সুজন নিজের এটিএম কার্ড দিচ্ছেন ক্যাসিনোর এক নারী ওয়েটারকে। সেখানে সুজনের সাথে দেখা গেছে আরো বেশকিছু মানুষকে।
সাকিব-মাশরাফির অনুপস্থিতিতে এই সিরিজে আগে থেকেই পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। তবে দুর্বল লঙ্কানদের বিপক্ষে এরকম অসহায় আত্মসমপর্ণ আশা করেনি কেউই। বাজে ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিংয়ে এই বাংলাদেশ যেন দশ বছর আগেরকার বাংলাদেশ।
বিশ্বকাপ হতাশা শেষ করতে যেখানে তড়িঘড়ি করে যাওয়া হল শ্রীলঙ্কা সিরিজে, সেখানে বাড়লো আরো বেশি হতাশা। এদিকে প্রধান কোচ এখনো খুঁজে পায়নি বিসিবি।

*মুস্তাফিজদের বিশ্বের এক নম্বর বোলার বানাবেন ল্যাঙ্গেভেল্ট

*চার্ল ল্যাঙ্গেভেল্ট। দক্ষিণ আফ্রিকার এক প্রিজনের প্রহরী থেকে সুযোগ করে নিয়েছিলেন প্রোটিয়া জাতীয় দলে। এরপর খেলেছেন বহু ম্যাচ। হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের বোলিং কোচ। সেখান থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন আফগান দলের হয়েও। এবার মিশন বাংলাদেশ। টাইগার পেসাররা যখন ইতিহাসের সবথেকে বাজে সময় পার করছে, তখনই দায়িত্ব কাঁধে চাপালেন ল্যাঙ্গেভেল্ট।

*নাজমুল হাসান পাপন পেস বোলিং কোচের নাম প্রকাশ করেছেন কদিন আগে। সাবেক কোচ কোর্টনি ওয়ালসের ব্যর্থতার ফল ভুগতে হয়েছে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের পুরোটা সময়। তবে ল্যাঙ্গেভেল্ট জানিয়েছেন টাইগারদের নিয়ে তাঁর লক্ষ্যের কথা। জনপ্রিয় ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মুস্তাফিজ-রুবেলদের নিয়ে কিভাবে কাজ করবেন তাও জানিয়েছেন খোলাখুলিভাবে।

*ল্যাঙ্গেভেল্ট বলছেন, নতুন বলে বাংলাদেশের পেসারদের ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনতে চান তিনি, ‘সব ফরম্যাটেই আপনাকে নতুন বলে ধারাবাহিক হতে হবে। ধারাবাহিকভাবে ভালো লেন্থে বল করে যেতে হবে। কমপক্ষে চার-পাঁচটি বল এমন জায়গায় ফেলতে হবে যেন ব্যাটসম্যানের মনে প্রশ্ন জাগে। বেশিরভাগ সময় ঘরের মাঠে বাংলাদেশ দুইজন পেসার নিয়ে খেলে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া গেলে তিনজন পেসার নিতে হতে পারে। আমাকে এমন পেসার বাছাই করতে হবে যারা ফিট ও একই সাথে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ভালো লেন্থে বোলিং করে যেতে পারে।’

*সাফল্য পেতে হলে ধারাবাহিকতার বিকল্প নেই, মানছেন ল্যাঙ্গেভেল্ট, ‘যদি আপনি সেরাদের মাঝে থাকতে চান, তাহলে নতুন বলে ধারাবাহিক হতে হবে। মোস্তাফিজ দারুণভাবে বলের গতি কমাতে পারে, কিন্তু সেটা নতুন বলে করা কঠিন। পিচ আপনার পক্ষে নাও থাকতে পারে। সিম পজিশনটা ঠিক রাখতে হবে। সে অনেক কাটার দেয়। তবে আমার মতে ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের ক্ষেত্রে ইনসুইং ও বাহাতি ব্যাটসম্যানদের ক্ষেত্রে আউটসুইং করানোটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

*২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই সময় প্রোটিয়াদের বোলিং কোচ ছিলেন ল্যাঙ্গেভেল্ট। ওই সিরিজে ২-০ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সিরিজে বাংলাদেশের পেসাররা সব মিলিয়ে নিয়েছিলেন মাত্র নয় উইকেট।

*বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পেসারদের পারফরম্যান্সের উন্নতি করানোই ল্যাঙ্গেভেল্টের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য, ‘এটা আমার জন্য ভালো একটা চ্যালেঞ্জ। কয়েক বছর আগে আমি দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং কোচ ছিলাম। ওই সময় বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছিলাম আমরা। সেবার আমাদের পিচে বাংলাদেশের পেসারদের পারফরম্যান্স খুব ভালো দেখিনি, তাঁরা লাইন-লেন্থে ধারাবাহিকতা খুঁজে পায়নি। এই জায়গাটায় উন্নতি করতে হবে। যখন আপনি দেশের বাইরে খেলবেন, তখন আপনার ভালো পেসার থাকতে হবে দলে। ভারত এত ভালো করছে দেশের বাইরে, এটার বড় কারণ তাদের পেস বোলিং। তাদের দুর্দান্ত স্পিনার আছে, সাথে দারুণ পেসারও আছে। আমি চাই বাংলাদেশ থেকে বেশ কিছু ভালো পেস বোলার বের হয়ে আসুক ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালো করুক।’

*বোলারদের সাথে আলোচনা করেই তাদের সমস্যার সমাধান করতে চান ল্যাঙ্গেভেল্ট, ‘আমি প্রথমে বোলারদের কাছে গিয়ে ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা করব। সে কী ভাবছে এটা জানার চেষ্টার করবো। এরপর আমি নিজের কোচিং পদ্ধতি অনুযায়ী তাঁকে সমাধান দেবো। তাঁকে বলবো, সে যদি বিশ্বের এক নম্বর বোলার হতে চায় তাহলে তাঁকে এটা করতে হবে। কীভাবে তাঁকে সাহায্য করতে পারি? এটা আসলে টেকনিকাল ব্যাপার। তবে যেকোনো কিছু করার আগে আমার সাথে তাঁর কথা হবে। এরপর বাকি কাজ হবে।’