প্রচ্ছদ স্পটলাইট “আ*পত্তিক*র ভিডিওটি মিন্নির নয়, প্রমাণ মিলেছে”

“আ*পত্তিক*র ভিডিওটি মিন্নির নয়, প্রমাণ মিলেছে”

78

আ*পত্তিকর একটি ভিডিও ক্লি*প। এ হাত ঘুরে ও হাতে। ছোট থেকে বড়, পরিবার থেকে পরিবারে, বন্ধু থেকে বন্ধুর কাছে। উ*দ্দেশ্যমূ*লকভাবে ভিডিওটি মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে রিফাত হ*ত্যা মা*মলা ভিন্ন খাতে প্রবাহের আরেকটি অ*পচেষ্টা চালানো হয়েছে। খু*নি চ*ক্র ও তাদের দো*সররা এই ভিডিও নি*হত রিফাতের স্ত্রী ও হ*ত্যা মা*মলার প্রধান সা*ক্ষী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির নামে চালানোর চেষ্টা করলেও তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি। কারণ ইতিমধ্যে প্রমাণ মিলেছে, ভিডিওটিতে যে নারীকে দেখা যাচ্ছে তিনি মিন্নি নন। ভি*ডিওটির পুরুষ চরিত্র, যাকে নয়ন বন্ড হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হয়েছে সেটাও অন্য কেউ।

এদিকে পুলিশ প্রশাসন থেকে গণমাধ্যমকে বলা হচ্ছে, রিফাতকে কু*পিয়ে হ*ত্যার নেপথ্যে ভিডিওটির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। আ*দালতে মিন্নির ১৬*৪ ধা*রার জ*বানব*ন্দির আলোকে একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, মোবাইল ফোন নিয়ে বিরোধের জের ধরেই এই খু*ন। মিন্নির এমন কিছু আ*পত্তিকর তথ্য জনৈক হেলালের মোবাইল ফোনে ছিল, যেটি খু*নের ঘটনার দুই দিন আগে রিফাত জো*র করে হেলালের কাছ থেকে ছি*নিয়ে নেয়।

আমাদের কাছে আসা ভিডিওটি নয়ন ও মিন্নির বলে চাল*িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছিল। ভিডিও থেকে স্থিরচিত্র তৈরি করে তা নয়নের পরিবারসহ অন্তত ১৫ জনকে দেখানো হয়েছে। তারা সবাই বলেছে যে ওই দুটি ছবির কেউই নয়ন কিংবা মিন্নি নয়।

আ*পত্তিকর এই ভিডিওটি ছড়িয়ে মিন্নির প্রতি বরগুনায় জ*নরো*ষের সৃষ্টি করা হয়েছে। রিফাতকে কু*পিয়ে হ*ত্যার ভিডিওটি দেখে মিন্নিকে যারা সাহসিকা বলেছিল, তাদের ফেসবুক মেসেঞ্জারে আ*পত্তিকর ভিডিওটি পাঠিয়ে মিন্নির বি*রুদ্ধে জনমত তৈরির চেষ্টা চালানো হয়। ফলে মিন্নির প্রতি জনমত পাল্টে যেতে থাকে। মিন্নির চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলতে মিডিয়ার কর্মীদের কাছেও সেটি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

বরগুনার জনগণ যখন মিন্নির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নে*তিবাচক ভাবছে, ঠিক সেই সময় রিফাত খু*নের আরো একটি ভিডিও উ*দ্দেশ্যমূ*লকভাবে মিডিয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়। সেটি ভাইরাল হওয়ার পর খু*নের সঙ্গে মিন্নির সম্পৃক্ততা জনগণের মুখে মুখে প্রচার হতে থাকে। সেই অবস্থায় হঠাৎ করেই নয়ন বন্ডের মা খু*নের জন্য মিন্নিকে দা*য়ী করে বক্তব্য দেন। পরদিন রাতে রিফাতের বাবা সংবাদ সম্মেলন করে হ*ত্যাকা*ণ্ডে মিন্নির স*ম্পৃক্ততার অ*ভিযোগ তুলে তাঁকে গ্রে*প্তারে*র দাবি তোলেন।

থানীয় এমপিপুত্র সুনাম দেবনাথ খু*নের ঘটনার পরই মিন্নিকে ইঙ্গিত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেছিলেন, মিন্নিই ভি*লেন। শুধু তাই নয়, মিন্নিকে ভি*লেন বানাতে বরগুনা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করা হয়। সুনাম দেবনাথ অনুসারীদের নিয়ে তাতে অংশ নিয়ে মিন্নিকে গ্রে*প্তারে*র জন্য বক্তব্য দেন। এর পরপরই রিফাত খু*নের মা*মলায় গ্রে*প্তারকৃ*ত আ*সামিদের শ*নাক্তকরণের কথা বলে প্রধান সা*ক্ষী মিন্নিকে পুলিশ বাসা থেকে নিয়ে যায়। পুলিশ লাইনসে টানা ১২ ঘণ্টা জি*জ্ঞাসাবা*দের পর মিন্নিকে তাঁর স্বামী হ*ত্যার মা*মলায় আ*সামি করা হয়। পরদিন আ*দালতে মিন্নির পক্ষে কোনো আ*ইনজীবী দাঁড়াননি। তার পরও পুলিশ মিন্নিকে পাঁচ দিনের রি*মান্ডে নেয়।

এমনকি মিন্নি রি*মান্ডে থাকা অবস্থায়ই পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, মিন্নি তাঁর স্বামী হ*ত্যার ঘটনায় প*রিকল্পনাকা*রী। খু*নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে মিন্নি পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। সে কারণেই তাঁকে জি*জ্ঞাসাবা*দের জন্য রি*মান্ডে নেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের পরদিন মিন্নি আ*দালতে স্বী*কারোক্তি দিয়েছেন। অবশ্য নি*র্যাতন করে স্বী*কারো*ক্তি আদায় করা হয়েছে এমনটি দাবি করে মিন্নির সেই জ*বানব*ন্দি প্র*ত্যাহারের জন্য আবেদন করার কথা তাঁর পরিবার জানিয়েছে।

বরগুনা শহরের প্র*ভাবশা*লী পরিবারের সন্তান এবং এমপিপুত্রের খুব কাছের লোক হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তির কাছ থেকে গত ১৬ জুলাই এই প্রতিবেদকের মেসেঞ্জারে ভিডিওটি পাঠানো হয়। তাঁর বক্তব্য, ‘মিন্নি একটা বা*জে মে*য়ে। তার কারণেই দুটি পরিবার তাদের একমাত্র সম্বল হা*রিয়েছে। আরো অন্তত ১৫টি পরিবার পথে বসার উপক্রম হয়েছে। সুতরাং মিন্নির মতো ন*ষ্ট চ*রিত্রের মেয়ের পক্ষ নেওয়া সাংবাদিকদের ঠিক হয়নি। সুনাম দেবনাথ খুব ভালো ছেলে। তবে তার আশপাশে যারা রয়েছে তাদের কেউ কেউ মা*দকে*র সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ কারণেই মিডিয়াগুলো তার পিছু নিয়েছে।’

এই প্রতিবেদকের প্রশ্ন ছিল—ভিডিওটি কার হাত ঘুরে আপনি পেলেন। জবাবে বললেন, ‘এটা তো ছোট-বড় সবার কাছে রয়েছে।’ ওই ঘটনার ১১ দিন পর গত শনিবার এই প্রতিবেদককে তিনি আবার ফোন করেন। ল*জ্জিত কণ্ঠে বলেন, ‘ভিডিওটিতে যে দুজনকে দেখা যাচ্ছে তাদের কেউ নয়ন কিংবা মিন্নি নয়। বিষয়টি এখন অনেকেই জানে। শুধু মিন্নিকে ফাঁ*দে ফেলতে এই ভিডিওটি সুনামের আশপাশে থাকা বন্ধুরাই ছড়*িয়েছে।’ কিভাবে ছড়ানো হয়েছে সে ব্যাপারে অবশ্য তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

নয়ন বন্ডের প্রতিবেশী একটি পরিবারের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তাঁরা বলেন, ওই ভিডিওতে যাকে নয়ন বলা হচ্ছে আসলে সে নয়ন নয়। মিন্নিকেও তাঁরা দেখেছেন। কিন্তু ভিডিওর ওই নারীর সঙ্গে মিন্নির চেহারার মিল নেই।

দুই মিনিট ২৫ সেকেন্ডের ভিডিওটি থেকে যাকে নয়ন বলা হচ্ছে, তার ছবি স্টিল করে ব্যাকগ্রাউন্ডসহ কেটে সেই স্থিরচিত্র নয়নের মা শাহিদা বেগমকে শনিবার রাতে দেখানো হয়। এক পলক দেখেই তিনি বলেন, এটি নয়নের ছবি নয়। এমনকি ব্যাকগ্রাউন্ডের লোকেশনও তিনি এর আগে দেখেননি। নয়নের মায়ের দাবি, নয়নের কক্ষে ওর বন্ধুরা নিয়মিত আড্ডা দিত। বিয়ের আগে মিন্নি প্রায়ই আসত। বিয়ের পর মাঝেমধ্যে আসত। তাঁর দাবি, মিন্নি ছাড়া তাঁর বাসায় নয়নের সঙ্গে অন্য কোনো নারী আসেনি। ওর কোনো বন্ধুও নারী নিয়ে তাঁর বাসায় আসেনি।

রপরও পুলিশের একাধিক কর্তাব্যক্তি একটি জাতীয় দৈনিকে বলেছেন, নয়ন যে কক্ষে থাকত সেখানে গো*পন ক্যা*মেরা লাগানো ছিল। নয়নের সঙ্গে তার কক্ষে ধা*রণকৃত অন্তত ১০টি মেয়ের আ*পত্তিক*র ভিড*িও তাঁরা উ*দ্ধার করেছেন। সেখানে মিন্নির সঙ্গে নয়নের আ*পত্তিক*র ভিডিও রয়েছে। ত*দন্তের স্বার্থে ভিডিওটি সি*আইড*িতে পাঠানো হয়েছে।

ওই গণমাধ্যমের এক কর্মী পুলিশের বরাত দিয়ে বলেন, ‘নয়ন মেয়েদের অ*জান্তেই আ*পত্তিক*র ভিডিও ধা*রণ করে তাদের ব্ল্যা*কমে*ইল করত। যারা নয়নের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করত তাদের ফাঁ*সানো*র জন্য পরে সেই ভিডিও বাইরে ছেড়ে দিত। মিন্নির সঙ্গে নয়নের একটি ভিডিও অনেকের হাতে রয়েছে বলে তারা (পুলিশ) জানতে পেরেছে।