প্রচ্ছদ আইন-আদালত “পার্থ গোপালের স্ত্রী ৫০ লাখ টাকা পাশের বাসার ছাদে ফেলে দেন”

“পার্থ গোপালের স্ত্রী ৫০ লাখ টাকা পাশের বাসার ছাদে ফেলে দেন”

69
পার্থ গোপালের স্ত্রী ৫০ লাখ টাকা পাশের বাসার ছাদে ফেলে দেন

*চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সাবেক ও সিলেটের বর্তমান ডিআইজি (প্রিজন) পার্থ গোপাল বণিককে ৮০ লাখ টাকাসহ আটক করা হয়েছে। এ টাকা তার বাসা থেকে উদ্ধার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গতকাল বিকালে ধানমন্ডির ভূতের গলিতে পার্থ গোপাল বণিকের নিজ ফ্ল্যাট থেকে টাকাগুলো উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য। তবে ডিআইজি প্রিজন পার্থের দাবি, ৮০ লাখ টাকা তার বৈধ আয় থেকে অর্জিত। এর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা শাশুড়ি দিয়েছেন। বাকি ৫০ লাখ টাকা সারা জীবনের জমানো টাকা।

*অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া দুদক পরিচালক মুহাম্মদ ইউসুফ বলেছেন, দুদক বাড়িটিতে যাওয়ার পর পার্থ গোপাল বণিকের চিকিৎসক স্ত্রী রতনমণি সাহা পাশের ভবনের ছাদে ৫০ লাখ টাকাভর্তি বস্তা ছুড়ে মারেন। পরে বাড়ির দরজা খোলার পর ভেতরে গিয়ে দলটি ৩০ লাখ টাকা পায়। আর পাশের ভবনের ছাদ থেকে ৫০ লাখ টাকা তুলে আনা হয়।

*জানা গেছে, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে গতকাল সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পার্থ গোপাল বণিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদক কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের সাবেক সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিককেও জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। ঘুষ ও দুর্নীতির কয়েক লাখ নগদ টাকা পার্থের বাসায় রয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে তার বাসায় অভিযান শুরু করে। আজ মামলা দায়ের শেষে পার্থকে গ্রেফতার দেখানো হবে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

*দুদক পরিচালক মুহাম্মদ ইউছুফ বলেছেন, পার্থ গোপাল বণিকের ঘোষিত আয়কর ফাইলে এ টাকার ঘোষণা নেই। আমাদের মনে হয়েছে এ টাকা অবৈধ আয় থেকে অর্জিত। উদ্ধারকৃত টাকা জব্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। মামলা দায়ের করার পর তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে।

*প্রসঙ্গত, ডিআইজি প্রিজন পার্থ কুমার বণিক ২০১৬ সালের ৮ আগস্ট চট্টগ্রামের ডিআইজি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালের গত ২৬ অক্টোবর নগদ ৪৪ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ও প্রায় পাঁচ কোটি টাকার নথিপত্রসহ ভৈরব রেলওয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন চট্টগ্রামের জেলার সোহেল রানা বিশ্বাস। গ্রেফতারের পরপরই পুলিশের কাছে জেলার সোহেল রানা দাবি করেন, উদ্ধার করা টাকার মধ্যে ৫ লাখ টাকা তার এবং বাকি ৩৯ লাখ টাকা কারা বিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি পার্থ কুমার বণিক ও চট্টগ্রাম কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিকের।