প্রচ্ছদ রাজনীতি “আগামী নির্বাচনে ২ মেয়রকেই ঝেড়ে ফেলতে চায় আওয়ামী লীগ”

“আগামী নির্বাচনে ২ মেয়রকেই ঝেড়ে ফেলতে চায় আওয়ামী লীগ”

155

*ডেঙ্গু মোকাবিলায় ব্যর্থ দুই মেয়র যে আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মনোয়ন পাচ্ছেন না তা মোটামুটি নিশ্চিত করে বলা যায়। আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দর সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই দুই মেয়রের ব্যর্থতার দায়ভার আওয়ামী লীগ নিতে চায় না। সেজন্যই আওয়ামী লীগ নতুন মেয়রকে দিয়ে আগামী ডিসেম্বরে দুই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের পরিকল্পনা চুড়ান্ত করেছে। এ ব্যাপারে লন্ডনে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের একাধিক সিনিয়র নেতাকে বার্তা দিয়েছেন বলে দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছেন। মেয়র পদে আনিসুল হকের মতো কোন চমক জাগানোর কথাই ভাবছে আওয়ামী লীগ।

তবে সে প্রার্থী কে তা এখন পর্যন্ত চুড়ান্ত হয়নি। তবে আওয়ামী লীগের দুজন নেতা যারা এ বিষয়টা নিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তারা ইঙ্গিত করেছেন যে চমক আসছে। এখানে আওয়ামী লীগের অন্য একজন নেতা বলেছেন, এবারের মেয়র নির্বাচনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ৫টি মৌলিক বিষয় বিবেচনা করবে।

প্রথমত, যিনি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত, দলের নেতাকর্মী ও সংগঠনকে সংঘবদ্ধ করতে পারবেন যেকোন ইস্যুতে এরকম ব্যক্তিকে ঢাকার মেয়র পদে রাখাটা যৌক্তিক মনে করছে দলটি। কারণ দেখা যাচ্ছে দলের সঙ্গে সম্পর্কহীন ব্যক্তিরা মেয়র হলে দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরী হয়। দলের সহযোগিতা বঞ্চিত হয়ে তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে না।

দ্বিতীয়ত, মেয়র পদে খোঁজা হচ্ছে এমন ব্যক্তিকে যারা উদ্ভাবনী কর্মঠ এবং জনগনের জন্য সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করতে পারবেন। বর্তমান যে দুই মেয়রকে দেখা গেছে সেই দুই মেয়রেরই সৃষ্টিশীল উদ্ভাবনীর অভাব আছে এবং জনগনকে সম্পৃক্ত করে কাজ করার দুর্বলতা সুস্পষ্টভাবে পরীলক্ষিত হয়েছে।

তৃতীয়ত, দেখা হবে সৎ এবং জনগনের মধ্যে স্বচ্ছ ইমেজের অধিকারী কোন ব্যক্তিকে মেয়র করা হবে যিনি জনগণের কাছে সহজেই গ্রহণযোগ্য হবেন। চতুর্থ, যিনি দুর্নীতি এবং ক্লিন ইমেজের অধিকারী হবেন। পঞ্চমত, তরুণরা যার প্রতি আকৃষ্ট হবেন।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, আনিসুল হকের এক্সপেরিমেন্ট যেমন সফল ছিল তেমনি আতিকুল ইসলামের এক্সপেরিমেন্ট সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন কোনো ক্ষেত্রেই তেমন সফলতা অর্জন করতে পারেননি। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বারবার তাগাদা দেয়ার পরও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। আজ আওয়ামী লীগ যে সংবাদ সম্মেলন করেছে সেই সম্মেলনে কোন মেয়রকেই ডাকা হয়নি।

এমনকি ঢাকা মহানগরীর উত্তর এবং দক্ষিণ দুটি কমিটির নেতৃবৃন্দও মেয়রদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অনাস্থা জানিয়েছে। তাঁরা ঢাকা শহরকে আবর্জনা মুক্ত করা এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযানে দুই মেয়রকেই বাইরে রেখে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। এইরকম বাস্তবতায় দুই মেয়রকে যে যেতেই হচ্ছে তা নিশ্চিত। দুই মেয়রের বদলে কারা নতুন মেয়রের মনোনয়ন পাবেন।
উল্লেখ্য যে, আগামী ডিসেম্বরে এই দুই মেয়রের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। অক্টোবরের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন নতুন মেয়র নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করবেন।