প্রচ্ছদ রাজনীতি তৃণমূল চাঙ্গা করতে যেসব পরিকল্পনা বিএনপির

তৃণমূল চাঙ্গা করতে যেসব পরিকল্পনা বিএনপির

21
তৃণমূল চাঙ্গা করতে যেসব পরিকল্পনা বিএনপির

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বার্তা নিয়ে তৃণমূল চাঙ্গা করার মিশনে নেমেছে বিএনপি। দলটির টার্গেট, আগামী তিন মাসের মধ্যে তৃণমূল গুছিয়ে নভেম্বরের মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল করা। এর মধ্যে বেগম জিয়ার মুক্তি না হলে আন্দোলনের মাধ্যমেই বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে শক্ত কর্মসূচি দিয়ে রাজপথে থাকতে চায় দলটি। এ জন্যই দলকে একটি শক্ত ভিতের মধ্যে দাঁড় করানোর চেষ্টায় বিএনপি। এরই মধ্যে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ শুরু হয়েছে। তিন বিভাগীয় সমাবেশ শেষ হয়েছে।

তবে বন্যা পরিস্থিতির কারণে আর বিভাগীয় পর্যায়ে আপাতত সমাবেশ হচ্ছে না। সেপ্টেম্বরে বাকি সমাবেশগুলো সম্পন্ন হবে। বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ নিয়ে যেতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এরই মধ্যে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। দলীয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিএনপির তৃণমূল নেতারা বলছেন, জোট বা ফ্রন্ট ছাড়াই দলের একক কর্মসূচিতে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনা- এই তিন বিভাগীয় সমাবেশের মাধ্যমে তৃণমূল বিএনপিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যেও হতাশা কাটিয়ে এক ধরনের আস্থা ফিরে এসেছে। ভোটের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বা ২০ দলের সমাবেশে বিএনপি নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি কম ছিল। কিন্তু তিন বিভাগীয় সমাবেশে মাঠপর্যায়ে সর্বস্তরের জনতার ঢল নেমেছে। এ ছাড়া মাঠের নেতা-কর্মীরা কেন্দ্রকে একটি বার্তা দিয়েছেন, বিএনপির একলা চলা নীতিই ভালো। বিভাগীয় সমাবেশ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘তিনটি বিভাগীয় সমাবেশে বিএনপি নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছে। এতে বোঝা যায়, তৃণমূল বিএনপি এখনো চাঙ্গা। সাধারণ মানুষও বিএনপির পাশে আছে। তাই নানা প্রতিকূল পরিবেশেও বেগম জিয়ার মুক্তি দাবিতে সর্বস্তরের মানুষ সমাবেশে উপস্থিত হয়। সরকারকে একটি বার্তা দিতে চায় বিএনপি, অন্যায়ভাবে আটক করা বেগম জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।’

অবশ্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির চেয়েও জরুরি হয়ে গেছে এই সরকারের পতন। তাদের পতন হলে বেগম জিয়ার মুক্তি হবে, গণতন্ত্রের মুক্তি হবে, মানুষের জীবন নিরাপদ হবে।’ জানা যায়, বেগম জিয়ার অনুপস্থিতিতে দল গোছানোর উদ্যোগ নিয়েছেন লন্ডনে অবস্থান নেওয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি দলের স্থায়ী কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট সবার পরামর্শ নিয়ে অঙ্গ সংগঠন পুনর্গঠনের কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশের ৮১টি সাংগঠনিক জেলায় বিএনপির অসম্পূর্ণ কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওইসব জেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে অঙ্গ সংগঠনের কমিটিও পুনর্গঠনের কাজ চলছে। এরই মধ্যে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল, মৎস্যজীবী দল, তাঁতী দল, ওলামা দল ও মহিলা দলের কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিও শিগগিরই দেওয়া হবে। এ ছাড়া ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। গঠিত হয়েছে বিএনপির বিদেশবিষয়ক কমিটি (ফরেন অ্যাফেয়ার্স)। জাতীয়তাবাদী প্রকৌশলীদের সংগঠন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এ্যাব) নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

আগামী তিন মাসের মধ্যেই তৃণমূল বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কমিটি গঠনের কাজ শেষ করতে চায় বিএনপির হাইকমান্ড। এদিকে বন্যার কারণে ঈদের আগে বিভাগীয় সমাবেশ আর করছে না বিএনপি। উত্তরাঞ্চলে বন্যার কারণে এরই মধ্যে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় মহাসমাবেশ স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী মহানগর বিএনপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তবে বসে থাকবে না বিএনপি। একদিকে তৃণমূল পুনর্গঠনের কাজ করবে, অন্যদিকে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করে জনগণের কাছে ফিরে যেতে চায় বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করতে যাচ্ছেন দলের সিনিয়র নেতারা। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ হাইপ্রোফাইলের কেন্দ্রীয় নেতারা ত্রাণ বিতরণ কাজে অংশ নেবেন। আজ কেন্দ্র গঠিত ত্রাণ কমিটিকে সঙ্গে নিয়ে গাইবান্ধা যাবেন মির্জা ফখরুল। সেখানে ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি জনগণের উদ্দেশে কথাও বলবেন বিএনপি মহাসচিব।

আগামীকাল ২৮ জুলাই সিরাজগঞ্জে যাচ্ছেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। একই দিনে জামালপুর ও শেরপুরসহ ময়মনসিংহ বিভাগে ত্রাণ বিতরণ করবেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম। দলটির ত্রাণবিষয়ক কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সার্বিক বিষয় দেখভাল করছেন। এরই মধ্যে পাঁচ বিভাগীয় পাঁচটি ত্রাণ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র এক নেতা বলেন, ‘বিএনপির সামনে দুটি লক্ষ্য। একটি হলো দল গুছিয়ে বেগম জিয়াকে আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করা। আরেকটি হলো নতুন নির্বাচনের দাবি আদায় করা।’