প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য জয়ের নামটি ঠিক করে রেখেছিলেন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান

জয়ের নামটি ঠিক করে রেখেছিলেন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান

24
জয়ের নামটি ঠিক করে রেখেছিলেন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান

স্বপ্ন তো সবাই দেখে, কিন্তু ক’জন পারে সেই স্বপ্ন জয় করতে? স্বপ্ন তো সবাই দেখে, কিন্তু ক’জন পারে সেই স্বপ্ন দিয়ে একটা দেশকে বদলে দিতে? সজীব ওয়াজেদ জয় হলেন এমনই একজন তরুণ। তিনি স্বপ্ন দেখেছেন, স্বপ্ন দেখিয়েছেন এবং সেই স্বপ্ন জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বদলে দেওয়ার মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন।

সজীব ওয়াজেদ জয় বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন যিনি অসাধারণ দূরদৃষ্টির অধিকারী। যখন তথ্য প্রযুক্তির বিষয়টি শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বেই কম আলোচিত এবং কমচর্চিত বিষয় ছিল, তখন সজীব ওয়াজেদ জয় এই বিষয়ের ওপর পড়াশুনা শুরু করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তিনি যখন আইসিটির ওপর পড়াশুনা করেন তখন বাংলাদেশ তো এই বিষয়ে অন্ধকারে ছিলই, সারা বিশ্বেও তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে তেমন কোনো চর্চা ছিল না। এজন্যই সজীব ওয়াজেদ জয় একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন তরুণ কারণ তিনি বুঝেছিলেন যে, ভবিষ্যতের পৃথিবী তথ্য প্রযুক্তির দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হবে। তিনি এটাও বুঝতে পেরেছিলেন যে, তথ্য প্রযুক্তিতে যে সমস্ত জাতি উন্নতি করতে পারবে তারাই শ্রেষ্ঠত্বের পথে এগিয়ে যাবে। সেজন্যই তিনি নিজেকে আগামী দিনের বিশ্বের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। একই সঙ্গে নিজের দেশকে নিয়েও স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেই দেশটি ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে সারা বিশ্বের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তৃতা থেকেই জানা যায় যে, তিনি কম্পিউটারের হাতেখড়ি পেয়েছিলেন তার শিক্ষক সজীব ওয়াজেদ জয়ের কাছ থেকে। প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটার শিখেছেন এবং তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপারে উৎসাহিত হয়েছেন সজীব ওয়াজেদ জয়ের মাধ্যমে।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ যখন দিন বদলের সনদ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলেছিল, তখন সবার কাছেই ধারণাটা ছিল অস্পষ্ট।। কীভাবে বাংলাদেশ ডিজিটাল হবে তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিল। অনেকে এটা নিয়ে রসিকতা করতেও ছাড়েনি। এই ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণাটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের। তিনিই আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এটা বুঝিয়েছিলেন যে, তথ্য প্রযুক্তির উন্নতি না করলে কোনো উন্নতিই টেকসই হবে না। তথ্য প্রযুক্তিক্ষেত্রে উন্নতি ছাড়া বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া যাবে না।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসে তখন তথ্য প্রযুক্তিকে সারাদেশের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কার্যক্রম শুরু করে। ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন, ইন্টারনেটের মূল্য কমানো, থ্রি জি-ফোরজি সেবা চালুসহ নানারকম প্রনোদণার মাধ্যমে বাংলাদেশ আজ তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর কথা নয়, এটা বাস্তবতা। ২০২১ সালের আগেই ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। এর স্বপ্নদ্রষ্টা হলেন সজীব ওয়াজেদ জয়।

বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের ধারার একটি বড় অনুষঙ্গ হলো তথ্য প্রযুক্তি। বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা এভাবে এগিয়ে যেত না যদি দেশের উন্নয়নের সঙ্গে তথ্য প্রযুক্তি সম্পৃক্ত না হতো। তথ্য প্রযুক্তি সম্পৃক্ত হওয়ার কারণেই বাংলাদেশ আজ টেকসই উন্নয়নের রোল মডেল। সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লব এক বিস্ময়। আর এটা সম্ভব হয়েছে সজীব ওয়াজেদ জয়ের কারণেই।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা। তেমনি আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার হলেন রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তি বিপ্লবের রূপকার হলেন সজীব ওয়াজেদ জয়। স্বপ্নজয়ের এই কারিগরের ৪৯তম জন্মদিন আজ। ১৯৭১ সালের আজকের দিনে ঢাকায় পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়া ও শেখ হাসিনা দম্পতির ঘর আলো করে জন্ম নেন জয়।

জয় দেশে থাকলে প্রতি বছর তার জন্মদিনে মা শেখ হাসিনা নিজে রান্না করে খাওয়ান তাকে। পাশাপাশি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে কেক কেটে তার জন্মদিন পালন করা হয়। কিন্তু এবার প্রধানমন্ত্রী চোখের চিকিৎসার কারণে লন্ডনে রয়েছেন। জয়ও যুক্তরাষ্ট্রে। এ কারণে দেশে তার জন্মদিনের কোনও আনুষ্ঠানিকতা নেই।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পৃথিবীতে আসা জয়ের নামটি তার জন্মের আগেই ঠিক করে রেখেছিলেন তার মাতামহ জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান। জয় বাংলার প্রতীক হলেন সজীব ওয়াজেদ জয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্বপ্নজয়ের প্রতীকও তিনি। স্বপ্নবাজ এই তরুণের জন্মদিনে শুভ কামনা।