প্রচ্ছদ স্পটলাইট মোমেন-প্রিয়ার ভাইরাল ছবির ক্যাপশন নিউজ

মোমেন-প্রিয়ার ভাইরাল ছবির ক্যাপশন নিউজ

111
মোমেন-প্রিয়ার ভাইরাল ছবির ক্যাপশন নিউজ

ওয়াশিংটনে একই ফ্রেমে বন্দি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা, মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস ও রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দিন। বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, প্রিয়া সাহা তার ধারে-কাছেও ছিল না। ছবি: সংগৃহীত।

প্রিয়া সাহার পৈতৃক বাড়িটি অগ্নিসংযোগ করে ধ্বংস করা হয়েছে- এটি সত্য

সাংগঠনিক পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কারণে প্রিয়া সাহাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রিয়া সাহার সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গতকাল সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রিডম হাউজের এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রিয়া সাহাকে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোন কোন মার্কিন গণমাধ্যমে আমাকে সংগঠনের সভাপতি আর প্রিয়া সাহাকে সাধারণ সম্পাদক উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আমি এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক। প্রিয়া সাহা সংগঠনের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রিয়ার অবস্থানকালে সাংগঠনিক পরিচিতি নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তির প্রেক্ষিতে এটিকে সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ড বিবেচনা করা হয়। যে কারণে গত ২৩শে জুলাই তাকে এই পরিষদ থেকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

প্রিয়া সাহা ঢাকায় ফেরার পর তার বক্তব্য শুনে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান তিনি। তবে তিনি কবে ফিরবেন এ ধরনের কোনো তথ্য নেই সংগঠনের নেতাদের কাছে।

প্রিয়া সাহার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া প্রসঙ্গে রানা দাশগুপ্ত বলেন, সাংগঠনিক কোনো সিদ্ধান্ত বা দায়িত্ব নিয়ে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাননি বা মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। যা করেছেন নিজের দায়িত্ব নিয়ে করেছেন। এর সঙ্গে সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে রানা দাশগুপ্ত বলেন, প্রিয়া সাহা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ (৩৭ মিলিয়ন) হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোক ‘ডিজএপিয়ার’ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন। ‘ডিজএপিয়ার’ বলতে কী বুঝাতে চেয়েছেন, তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। এটি যদি স্বাধীন বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের গুম বা নিখোঁজ অর্থে বলে থাকেন তবে তা অসত্য। সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তীব্র নিন্দা জানান রানা দাশগুপ্ত। বলেন, প্রিয়া সাহার পৈতৃক বাড়িটি অগ্নিসংযোগ করে ধ্বংস করা হয়েছে- এটি সত্য। গত মার্চ মাসে এটি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। প্রিয়া সাহা সরকারের দ্বারে দ্বারে গেছেন। কিন্তু বিচার পাননি। এ বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছেন প্রিয়া সাহা। কিন্তু এই বিষয়ে মন্ত্রী কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। ঘটনাটি তার সামনেই ঘটেছে দাবি করেন রানা দাশগুপ্ত।

প্রিয়া সাহার বক্তব্য নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা হচ্ছে দাবি করে রানা দাশগুপ্ত বলেন, ব্যক্তির বক্তব্যকে পুঁজি করে সম্প্রদায় বিশেষকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর যে ঘৃণ্য অভিসন্ধি- তা দুঃখ, দুর্ভাগ্যজনক।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৪৭ সনে পাকিস্তান সৃষ্টির পর পূর্ব পাকিস্তানে বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ২৯.৭ ভাগ ছিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। পাকিস্তান পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেব অনুযায়ী ১৯৫১ সালে তা নেমে আসে ২৩.১ ভাগে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেব অনুসারে ১৯৭৪ সালে ১৪.৬, ১৯৮১ সালে ১৩.৩, ১৯৯১ সালে ১১.৭, ২০০১ সালে ১০.৩, ২০১১ সালে ৯.৭ ভাগে। যার মধ্যে হিন্দু জনগোষ্ঠী ৮.৪ ভাগ। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেবে গত এক দশকে ৮.৪ ভাগ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০.৭ ভাগে। সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।