প্রচ্ছদ আইন-আদালত মিন্নির মুখ চেপে ধরেন দুই নারী পুলিশ

মিন্নির মুখ চেপে ধরেন দুই নারী পুলিশ

578
মিন্নির মুখ চেপে ধরেন দুই নারী পুলিশ

স্বামী রিফাত শরীফ হ*ত্যা মা*মলায় শুক্রবার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেওয়ার পর কারাগারে নেওয়ার সময় কিছু বলতে চেয়েছিলেন মিন্নি। কিন্তু সে সময় আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির মুখ চেপে ধরেন দুই পুলিশ সদস্য।

বরগুনা পুলিশ মিন্নিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিলেও দুই দিনেই তা শেষ করে শুক্রবার বিকেলে বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে নিয়ে যায়।

মা*মলার তদন্ত কর্মকর্তা বরগুনা থানার পরিদর্শক হুমায়ুন কবীর বলেন, পাঁচ দিনের জন্য হেফাজতে নেওয়া হলেও মিন্নির কাছে আমাদের যা জানার ছিল তা জানা হয়ে গেছে। তাই শুক্রবারই তাকে আদালতে পাঠানো হয়। তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতে তিনি কী বলেছেন সে সম্পর্কে আমি কিছু জানি না।

এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিন্নিকে যখন আদালত থেকে বের করা হচ্ছিলেন, তখন তাকে পুলিশের দুজন নারী সদস্য ধরে ছিলেন। ছোট পিকআপে তোলার সময় মিন্নি কিছু একটা বলার জন্য উদ্ধত হয়েছিলেন। কিন্তু পাশে থাকা নারী পুলিশ সদস্য এ সময় মিন্নির মুখ চেপে ধরেন।

এ দিকে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে মিন্নির বাবা মোজ্জাম্মেল হোসেন আদালত প্রাঙ্গণে আসেন। এ সময় তিনি চিৎকার করে বলছিলেন, তাঁর মেয়ে অসুস্থ, গতকাল রাতে একজন পুলিশ সদস্য তাঁর বাসায় গিয়ে চিকিৎসাপত্র নিয়ে এসেছেন। আজকে জোর জবরদস্তি ও নির্যাতন করে তাঁর মেয়ের কাছ থেকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।

মোজ্জাম্মেল হোসেন আরও বলেন, ‘মেয়ে আমার জীবন বাজি রেখে তার স্বামীকে রক্ষা করতে গেছে। এটাই তার অপরাধ? এসব কিছুই শম্ভু বাবুর (স্থানীয় সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু) খেলা। তাঁর ছেলে সুনাম দেবনাথকে সেভ করার জন্য আমাদের বলি দেওয়া হচ্ছে।’

এর আগে মঙ্গলবার মিন্নিকে প্রায় ১৩ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ এই মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার দেখায়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির মিন্নিকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।