প্রচ্ছদ Uncategorized “প্রসঙ্গ: হজে গিয়েও ‘যৌ*ন নিপীড়নে’র শিকার নারী”

“প্রসঙ্গ: হজে গিয়েও ‘যৌ*ন নিপীড়নে’র শিকার নারী”

আবু হোজ্জা

237

যে ধর্মে বলা হয় নারী হলো তোমাদের জন্য শস্য ক্ষেত্র, তোমরা সেখানে যেমন ইচ্ছা চাষ করো। আর যে ধর্মের পয়গম্বর একটা হামাগুড়ি দেওয়া দুধের শিশুকে দেখে বিয়ে করার অভিলাষ পোষণ করে- সেই ধর্মের অনুসারীদের ধ*র্ষক হওয়া থেকে বিরত রাখা যায় না। নারী যাদের কাছে গনিমতের মাল এবং শুধুমাত্র যৌ*নতার সামগ্রী বিশেষ, তারা শুধু হজে যেয়ে নারীদের যৌ*নহয়রানি করা কেন- সুযোগ পেলে কাবা শরীফের মধ্যে ঢুকেও তারা নারীদেরকে ধ*র্ষণ করবে।

হজে যেয়ে নারী হাজিরা পুরুষ হাজীদের দ্বারা যৌ*ননির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, এই ঘটনা এই প্রথম ঘটেছে ভাবলে ভুল হবে। এই ঘটনা হয়তো সবসময়ই ঘটতো, কিন্তু মুসলিম নারীরা সংস্কার এবং সমাজের ভয়ে এগুলো নিয়ে মুখ খুলেনি।

ইসলাম ধর্মের আর একটি অত্যাবশ্যকীয় এবং অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর ঐতিহাসিক মিথ্যাচার। ছোট থেকে শুনে এসেছি হজে গেলে মানুষ নাকি অন্যরকম হয়ে যায়, সেখানের পরিবেশ নাকি কেয়ামতের ময়দানের মত, কার গায়ে কাপড় আছে, কে কি করছে, এগুলো দেখার নাকি কারোর কোন সুযোগ ইচ্ছা কিংবা ওই ধরনের মানসিকতা কিছুই থাকে না। এই সমস্ত গাল ভরা মিথ্যা শুনতে শুনতে বড় হয়েছি, আর আজ দেখি হজে যেয়েও নারীরা যৌ*নহয়রানির হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। অনেক নারী হাজী মক্কা শরীফের মধ্যেও যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন।

চকলেট ললিপপের লোভ দেখিয়ে মোল্লারা শিশুদের ধরে ধরে মসজিদের ভিতর নিয়ে রেপ করছে, মাদ্রাসার মধ্যে ধরে ধ*র্ষণ করছে। রেপ করে আবার কোরআন শপথ করানো হচ্ছে যাতে করে এটা বাহিরে প্রকাশ না পায়। প্রতিদিন এই সমস্ত খবর জাতীয় দৈনিকগুলোতে আসছে। এদের কোথাও কোন কিছু করতে আটকায় না। আর এই ঐতিহাসিক মিথ্যাচারের দোসরেরা পৃথিবীর সমস্ত অন্যায় অপকর্ম করে দোষ চাপিয়ে দিবে শয়তানের ঘাড়ে। শয়তান বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব না থাকলেও, এই সমস্ত অপকর্ম কারীরাই যে মানুষ রুপি মূর্তিমান শয়তান এ বিষয়ে আমার বিন্দুমাত্র কোন সন্দেহ নেই। কেননা কল্পিত শাইতানের সকল বৈশিষ্ট্য আপনি এদের মধ্যে দেখতে পাবেন।

মুসলমান হল পৃথিবীর এমন একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়, যারা কোন দোষ করে না। পৃথিবীর সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে অন্যায়-অপরাধ থাকলেও- এরা সকল অন্যায় থেকে মুক্ত। কেননা যা কিছু করে সব শয়তান করে, নতুবা সবকিছু ইহুদী-নাছারার ষড়যন্ত্র বলে এরা চালিয়ে দেয়। সেদিন দেখলাম মুফাসসিল ইসলামও তার পেজে লিখেছে, সে নাস্তিক হয়েছিল নাকি শয়তানের প্ররোচনায়!

অন্যায় করে যাদের কোনো অনুতাপ নেই, শুধরাবার ইচ্ছা নেই, আত্মসমালোচনার কোন অবকাশ নেই, কেবলমাত্র সবকিছুই শয়তান আর ইহুদী-নাছারার ষড়যন্ত্রের নাম দিয়ে চালিয়ে দিতে পারলে যাদের হয়ে যায়- এরাই নারীর প্রতি নির্যাতনে, এক কথায় নারীর পোশাককে দায়ী সাব্যস্ত করে ঘৃণিত অন্যায়কে ন্যায় বলে ঘোষণা করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। এদের কাছে শুধু অন্য নারীরা কেন, এদের নিজের ঘরের নারীরাও ওদের থেকে নিরাপদ নয়।

৯ মাসের বাচ্চা যখন ধ*র্ষিত হয়, তখন এরা সেখানেও কিন্তু খোঁজার চেষ্টা করে। তৃতীয় চতুর্থ শ্রেণিতে পড়া শিশুরা যখন ধ*র্ষণের শিকার হয়, তখন তাদের পোশাকের সমালোচনা করতে না পেরে তাদের মায়েদের পোশাকের সমালোচনায় এরা লিপ্ত হয়। হিজাব বোরকা পরা কোন মেয়ে ধ*র্ষিত হলে এরা বলে ওই হেজাব ইসলামসম্মত নয়। নির্যাতনের শিকার নারী হাজিরা এখন প্রশ্ন তুলছেন, বলছেন- আমরাতো ইসলাম সম্মত পোষাক পড়েই হজ করতে গিয়েছি, তাহলে আমরা কেন যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছি! এ প্রশ্নের কি উত্তর খুঁজে রেখেছেন মডারেট মুসলিমরা?

আমরা বারবার বলে আসছি, নারীর প্রতি যৌ*ননির্যাতন ধ*র্ষণের মতো ঘটনাগুলোর জন্য পোশাক কোন অবস্থাতেই দায়ী নয়। এর জন্য দায়ী সমাজের পুরুষদের নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি। যতদিন পর্যন্ত সেই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন না হবে, নারীকে বস্তার মধ্যে পুরে রাখলেও এ সমস্যার সমাধান হবে না। আর কবিরাজ ইসলামকে চিকিৎসা করতে এখানে ডেকে কোন লাভ নেই, কেননা ইসলাম কখনই মানুষের নৈতিক চরিত্র সংশোধনের কোন পথ তৈরি করিনি। ইসলাম দিয়ে যদি সত্যি মানুষের নৈতিক চরিত্রের পরিবর্তন ঘটানো যেত, তাহলে অন্তত পক্ষে কাবা শরীফের মধ্যে এই ধরনের ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ড কখনোই সংঘটিত হতো না।

………………………………………………………………………………………….

মুক্ত মতামত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত ও মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। shompadak.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে shompadak.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।