প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত মাদ্রাসাগুলোতে ছাত্র-ছাত্র, ছাত্র-শিক্ষক সমপ্রেম ও সমকামের ঘটনা

মাদ্রাসাগুলোতে ছাত্র-ছাত্র, ছাত্র-শিক্ষক সমপ্রেম ও সমকামের ঘটনা

মুফতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ

474
মাদ্রাসাগুলোতে ছাত্র-ছাত্র, ছাত্র-শিক্ষক সমপ্রেম ও সমকামের ঘটনা

মাদ্রাসার অন্দরমহলের গল্প- ০১

হাজারীবাগের বটতলা মাদ্রাসায় আমার এক ক্লাস সিনিয়র ভাই ছিল কামাল। কামাল আমার এক ক্লাস জুনিয়র রফিকের সাথে প্রেম করতো। কওমি মাদ্রাসায় ছেলেতে-ছেলেতে প্রেম ছিল স্বাভাবিক। তখন আমার কাছে এটা অস্বাভাবিক মনে হতো। অবশ্য এখন বুঝ হওয়ার পর আমি পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে যেকোনো যৌনতাকেই সম্মানের চোখে দেখি। কামাল রফিকের সাথে নিয়মিত লাওয়াতাত (আরবি শব্দ, অর্থ: পুংমৈথুন) করতো যা সবাই জানে। আমরা অনেকবার কামালকে লাওয়াতাত করা অবস্থায় হাতেনাতে ধরার চেষ্টা করেছি, কিন্তু কামাল ছিল খুবই ধূর্ত। তার নাগাল পাওয়া খুব কঠিন।

একদিন শুধু আমার ক্লাসমেট নাসরুল্লাহ ও আমিরুল ইসলাম ভাই কামালকে মাদ্রাসার ছাদে রফিককে চুমু খেতে দেখেছে। হুজুরের কাছে নালিশ করার সাহস পায়নি। কারণ, অতিরিক্ত আমলদারী তথা দরবেশীর কারণে সে ছিল হুজুরদের অত্যন্ত প্রিয়পাত্র। নিয়মিত তাহাজ্জুদের নামাজ পড়া, সবসময় জোব্বা ও পাগড়ি পরিধান করা, পকেটে সবসময় মেসওয়াক এবং তসবিহ রাখা ইত্যাদি ছিল কামালের অভ্যাস। আমরা কামালকে পেছনে পেছনে ভিজা দরবেশ ডাকতাম।

এরপর কামালের প্রেমিকা রফিক আমি যখন কিতাবখানায় পড়ি তখন হেফজখানার ছাত্র ইমরানের সাথে প্রেম করতো, লাওয়াতাত করতো; এটাও সবাই জানে। ইমরান ছিল একটু মোটাসোটা ধরনের। কওমি মাদ্রাসায় মোটাসোটা ও নাদুসনুদুস ছেলেদের খুব কদর। দীর্ঘদিন চললো রফিক-ইমরানের প্রেমলীলা। কিছুদিন পর ইমরানের প্রতি ঝুঁকে গেলেন আমাদের শিক্ষক কিতাবখানার প্রধান হুজুর মাওলানা আব্দুল হামিদ। মোহাম্মদ যেরকম জয়নবকে তার ছেলের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছিল, মাওলানা আব্দুল হামিদও সেভাবেই রফিকের কাছ থেকে তার প্রেমিকা ইমরানকে ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। মাওলানা আব্দুল হামিদ ছিলেন অতিরিক্ত আমলদার। তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তেন নিয়মিত। সুন্নতের খুব পাবন্দ ছিলেন। ছাত্রদেরকে সুন্নতের উপর আমল করার জন্য জোর তাগিদ দিতেন।

বটতলা মাদ্রাসা থেকে উত্তরার বাইতুসসালাম মাদ্রাসায় ভর্তি হলো কামাল। এরপর আমিও তুলনামূলক ভালো পরিবেশ ও ভালো লেখাপড়ার জন্য উত্তরার বাইতুসসালাম মাদ্রাসায় ভর্তি হলাম। বাইতুসসালামে গিয়ে কামাল তার দ্বীনদারী ও পরহেজগারীর কারণে আবারো হুজুরদের নজর কেড়ে নিল। বাইতুসসালামের কুমিল্লা হুজুরের খাস খাদেম হয়ে গেল ইমরান। কওমি মাদ্রাসায় প্রত্যেক হুজুরের একজন খাস খাদেম থাকে। হুজুরের লোটা-বদনা এগিয়ে দেয়া, হুজুরের কাপড়চোপড় ধোয়া, হুজুরের হাত-পা টিপে দেয়া, হুজুরের বইপত্র গুছিয়ে দেয়া ইত্যকার সব দায়িত্ব পালন করতো হুজুরের খাস খাদেম। তাছাড়া ছাত্রদের ভেতরকার গোপন কথা হুজুরের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজও করতো খাস খাদেমরা। কওমি মাদ্রাসায় উস্তাদের প্রতি ভক্তি, উস্তাদের খেদমত ও তাদের আনুগত্য করার প্রতি উৎসাহ দেয়ার জন্য প্রতিদিন ছাত্রদের কোরআন-হাদিসের ও বুযুর্গানে দ্বীনের জীবন কাহিনি শোনানো হয়।

আমি যখন জীবনানন্দ দাশের কবিতার বই পড়তাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার বই পড়তাম, তসলিমা নাসরিনের বই পড়তাম, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের বই পড়তাম তখন সে সব কথা হুজুরদের কাছে পৌঁছে দিত আমাদের ভিজা দরবেশ কামাল। আমাদের ক্লাসেও একজন দরবেশ ছিল, তার নাম মাকসুদ। বাইতুসসালাম মাদ্রাসায় মাকসুদের প্রেমিকা ছিল জাহিদ, যেটা সবাই জানে। মাকসুদ ছিল বড় হুজুর তথা মুহতামিম (প্রিন্সিপাল) সাহেবের খাস খাদেম। এক গভীর রাতে ফ্লুরোসেন্ট বাল্ব জ্বালিয়ে আমি যখন তসলিমা নাসরিনের বই পড়ছিলাম লুকিয়ে লুকিয়ে, তখন মাকসুদ উঠেছিল তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে। আমার সন্দেহ হলো, মাকসুদ আমাকে দেখেছে। কিন্তু আমি সর্তকতা অবলম্বন করিনি, বইটা লুকিয়ে ফেলিনি। পরদিন হুজুররা আমার ট্রাঙ্ক সার্চ করে তসলিমা নাসরিনের বই পেয়েছিল। আমার বিরুদ্ধে হুজুররা তীব্রভাবে ক্ষেপে গেল। মুহতামিম সাহেবের কথা ছিল, ওকে বহিষ্কার করতে হবে। অবশ্য ঢাকার হুজুর ও ডেমরা হুজুরের সুপারিশে সে যাত্রায় আমি বেঁচে যাই। এ দু’জন হুজুর মুহতামিম সাহেবকে বোঝালো, ছেলেটার স্বভাব-চরিত্র ভালো, তাছাড়া ও ক্লাসের ফার্স্টবয়; তাই ওকে এবারের মতো ক্ষমা করে দেয়া হোক।

ওহে আমার ক্লাসমেট ভাইগণ, বলুন আমি কি সত্যি বলছি? এই ঘটনাগুলো কি সত্য? আমার ক্লাসমেট ক্বারী খালেদ সাইফুল্লাহ (আমার পোস্টে মাঝে মাঝে কমেন্ট করেন) আপনি কি আছেন? বলুন তো কথাগুলো সত্য কিনা?

# আজকের ছেলে-ধ*র্ষক হুজুর গতকাল নিজেও ছিল ধ*র্ষিত। কখনো কি ভেবে দেখেছেন, কেন চলে আসছে এই ধ*র্ষণের ধারাবাহিকতা? কখনো কি ভেবে দেখেছেন এই অপসিস্টেম, বদমায়েশি ও ইতরামির মূলে রয়েছে কারা?

…………………………………………………………………………………………….

মুক্ত মতামত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত ও মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। shompadak.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে shompadak.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।