প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য “তবে কি জিয়া হ*ত্যায় এরশাদ জড়িত?”

“তবে কি জিয়া হ*ত্যায় এরশাদ জড়িত?”

112
তবে কি জিয়া হ*ত্যায় এরশাদ জড়িত?

সাবেক স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে আরেক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান হ*ত্যার বিচার প্রসঙ্গটি আবার সামনে এসেছে। এই নিয়ে আইন-আদালত ও রাজনৈতিক অঙ্গনে রয়েছে নানা আলোচনা।

এদের মধ্যে বিএনপিপন্থীরা সরাসরি বলছেন, জিয়া হ*ত্যায় এরশাদ জড়িত ছিলেন। আর আওয়ামী লীগপন্থীরা সরাসরি এর সমর্থনে বা বিপক্ষে কিছু না বললেও প্রশ্ন তুলছেন। তারা বলছেন, এরশাদের পতনের পর বিএনপি পূর্ণাঙ্গ মেয়াদে দুবার সরকার পরিচালনা করেছে। জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন- কিন্তু তারা জিয়া হ*ত্যার বিচার তো করেননি, মামলা পর্যন্ত করেননি, কিন্তু কেন?

সেনা ছাউনি থেকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা জিয়াউর রহমান নিহত হয়েছিলেন সেনা অভ্যুত্থানে। জিয়া হ*ত্যায় আরেক সামরিক শাসক এরশাদ জড়িত বলে মত সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও জিয়াউর রহমানের সময়কার বিএনপি নেতা অলি আহমেদের। বর্তমান বিএনপিপন্থীরা তার এই মত ও ব্যাখ্যাকে সঠিক বলে মনে করছেন।

২০১৫ সালের ২৯ মে অলি অভিযোগ করেছিলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরাসরি জড়িত ছিলেন। বর্তমানে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ তার বাসভবনে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এ অভিযোগ তোলেন। কারণ দেখিয়ে তিনি বলেন, জিয়া হ*ত্যার দুই দিন আগে এরশাদ চট্টগ্রাম সফর করেন। জিয়াকে হ*ত্যার পর মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর, লে. কর্নেল মাহাবুব ও লে. কর্নেল মতিউর রহমানকে খুব ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে হ*ত্যা করা হয় এরশাদের নির্দেশেই। কারণ তারা বেঁচে থাকলে মূল ষড়যন্ত্রকারীর নাম প্রকাশ পেত।

এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, গোলাগুলির শব্দ পেয়ে রুম থেকে বের হওয়ার সময় খুব কাছ থেকে তাকে (জিয়াউর রহমান) গুলি করা হয়। ওই রুমে ছিলেন প্রেসিডেন্টের ডাক্তার তৎকালীন লে. কর্নেল মাহতাব উদ্দিন। তার কাছ থেকে এ তথ্য পেয়েছিলাম। ৩০ মে রাতের শেষভাগে জিয়াউর রহমানকে হ*ত্যা হয়।

স্মৃতিচরণ করে অলি আহমদ বলেন, জিয়াউর রহমানের শুধু সঙ্গেই ছিলাম না, এক রুমে ঘুমিয়ে ছিলাম। অলি আরও বলেন, জিয়ার হ*ত্যাকাণ্ডকে পুঁজি করে আরও ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা অফিসারকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানো হয়। এদের মধ্যে অনেকেই জিয়ার হ*ত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আদৌ জড়িত ছিলেন না। এরশাদ রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য যারা পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারেন, তাদের চিরতরে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেন। তখন অনেকেই চেষ্টা করেছেন ১১ জনকে ফাঁসি না দিয়ে যেন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। এই ১১ জন অফিসার বেঁচে থাকলেও হ*ত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারীর নাম প্রকাশ পেত।

তাছাড়া জিয়া হ*ত্যায় এরশাদ জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদও। ২০১৪ সালের ১৩ জুলাই রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তৎকালীন বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল সদরুদ্দিনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, জেনারেল মঞ্জুর সেটা প্রকাশ করে দিতে পারে এমন আশঙ্কায়ই এরশাদ মঞ্জুরকে হ*ত্যা করেছেন।

‘জিয়াউর রহমান রক্তপাতের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিলেন’ এরশাদের লেখা একটি কলামে ওই সময় এমন দাবির প্রেক্ষিতে রিজভী আহমেদ বলেছিলেন, নির্লজ্জ মিথ্যাবাদী এরশাদ বহু রক্তপাতকে পেছন থেকে উস্কে দিয়েছেন। এরশাদের জীবনই কেটেছে লোভ, হ*ত্যা-খু*ন আর র*ক্তপাতের মধ্য দিয়ে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সরকারের সাথে আঁতাত করে এরশাদ তার চাকরি করে গেছেন। তার স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার কারণে তিনি সেনাবাহিনীতে কখনোই সমাদৃত ছিলেন না।

সংবাদ সম্মেলনের আগেরদিন একটি পত্রিকায় এরশাদের লেখা প্রবন্ধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে রিজভী আহমেদ বলেন, এরশাদের ওই লেখায় তিনি ইতিহাস নিয়ে নির্জলা মিথ্যাচার করেছেন। তার লেখাটি পড়লে বুঝা যাবে যে লেখাটি প্রধানমন্ত্রী বরাবর তার অভিমানমূলক অভিযোগ পত্র। এতে বুঝা যায় যে, তাদের মধ্যে সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। ওই লেখায় এরশাদ কণ্ঠরুদ্ধ অভিমানে ফেটে পড়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ১২ জুলাই দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় ‘মাননীয় প্রধাণমন্ত্রী সমীপে আমার কিছু কথা’ শিরোনামে একটি কলামে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নিজেকে বৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছেন দাবি করে বলেন, আমি কখনোই বলি না যে- আমি গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় এসেছিলাম। তবে দ্ব্যর্থহীনভাবে একথা বলতে পারব যে- ক্ষমতা আমি দখল করিনি, ক্ষমতা আমাকে দেয়া হয়েছিল এবং আমার ক্ষমতা গ্রহণকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে এসেছি। ইতিহাস তার সাক্ষী। অন্যদিকে জিয়াউর রহমান রক্তপাতের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিলেন বলেও দাবি করেন এরশাদ।