প্রচ্ছদ জীবন-যাপন “মসজিদের ভেতরেই শিশুকে ‘ধ*রষণ’ করল ইমাম”

“মসজিদের ভেতরেই শিশুকে ‘ধ*রষণ’ করল ইমাম”

627
মসজিদের ভেতরেই শিশুকে ধরষণ করল ইমাম

কক্সবাজারের উখিয়া ও মহেশখালী উপজেলায় পৃথক দুটি ‘ধরষণে’র ঘটনা ঘটেছে। উখিয়ায় ধরষণের ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দুপুরে মসজিদের ভেতরে। সাত বছরের একটি শিশুকে মসজিদ ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে ‘ধরষণ’ করেছেন ‘ইমাম’ হাফেজ নুরুল আমিন।

‘ধরষণে’র অন্য ঘটনাটি ঘটেছে মহেশখালী দ্বীপের কালারমার ছড়া ইউনিয়নের চালিয়াতলী এলাকায়। এক চাকরিজীবী তরুণীকে অপহরণের পর ১৪ বখাটে তাঁকে সংঘবদ্ধভাবে ‘ধরষণ’ করে। এই বর্বর ঘটনা গত ৭ জুলাই ঘটলেও গত পাঁচ দিন ‘ধরষিতা’কে অবরুদ্ধ করে রেখে ঘটনা চাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায় প্রভাবশালী ধরষকের দল ও স্থানীয় কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য। গতকাল শুক্রবার খবর পেয়ে পুলিশ ওই তরুণীকে উদ্ধার করেছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের ডেইলপাড়া গ্রামে বৃহস্পতিবার মসজিদের ভেতরে শিশু ‘ধরষণে’র ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশুটি ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে ডেইলপাড়া জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ নুরুল আমিন মসজিদ ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে মসজিদের ভেতরে ডেকে নিয়ে ‘ধরষণ’ করেন। শিশুটি পরে মসজিদ থেকে কান্নাকাটি করে বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের ঘটনা জানায়। তারা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারের শরণাপন্ন হলে তিনি সালিস করে ইমামকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন, কিন্তু ততক্ষণে ‘ধরষক’ ইমাম পালিয়ে যান। শিশুটি ওই ইমামের কাছে সকালবেলা আমপারা শিক্ষা নিত।

উখিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল ইসলাম মজুমদার ও উপপরিদর্শক মিল্টন জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মসজিদের ভেতর এক শিশুকে ‘ধরষণে’র খবর পেয়ে ‘ধরষক’কে আটকের জন্য পুলিশ অভিযান চালালেও মসজিদের ইমামের দায়িত্ব পালনকারী ওই ‘ধরষক’ পালিয়ে যান। রাতেই ‘ধরষণে’র শিকার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশুটিকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। পরে ধরষক হাফেজ নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

অন্যদিকে মহেশখালী দ্বীপে সংঘবদ্ধ ‘ধরষণে’র শিকার ওই তরুণী চট্টগ্রাম শহরে একটি বেসরকারি কম্পানিতে চাকরি করেন। তাঁর মা থাকেন মাতারবাড়ীতে। মাকে দেখার জন্য তিনি চট্টগ্রাম শহর থেকে ৭ জুলাই সন্ধ্যায় মহেশখালী দ্বীপে এসে কালারমার ছড়া ইউনিয়নের চালিয়াতলী এলাকায় দুর্বৃত্তের কবলে পড়েন।

কালারমার ছড়া ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার লিয়াকত আলী বলেন, ওই গ্রামের ১১ যুবক এবং মাতারবাড়ী এলাকার তিন যুবক ওই তরুণীকে জবরদস্তি চালিয়াতলী পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে পাহাড়ের একটি ঘরের বাসিন্দাদের বের করে দিয়ে এই ১৪ দুর্বৃত্ত বখাটে সারা রাত ধরে পালাক্রমে তাঁকে ‘ধরষণ’ করে। পরদিন সকালে স্থানীয় নারী ইউপি মেম্বার খতিজা বেগম ঘটনা জানতে পেরে ধরষিতাকে মাতারবাড়ীতে অন্য নারী মেম্বার শামীমার বাড়িতে পৌঁছে দেন। সেখানে ওই তরুণীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই ফাঁকে ‘ধরষকে’র দলটি ইউপি মেম্বারদের ঘিরে ঘটনা পুলিশকে না জানানোর জন্য চাপ দেয়। সেই সঙ্গে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলে ‘ধরষিতা’কে ইউপি মেম্বারের ঘর থেকে বাইরে যেতে বাধা দেয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ‘ধরষক’দের ‘হুমকি-ধমকি’র মুখে চুপচাপ থাকতে বাধ্য হন।

অবশেষে ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে গতকাল বিকেলে মহেশখালী থানার একদল পুলিশ মাতারবাড়ী গিয়ে নারী মেম্বার শামীমা বেগমের ঘর থেকে ‘গণধরষণে’র শিকার তরুণীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। একই সঙ্গে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় মেম্বার শামীমা বেগমকেও।

মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদুল্লাহ জানান, তিনি গতকালই ঘটনাটি শুনেছেন।মহেশখালী থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন, ইউপি মেম্বার লিয়াকত আলী তাঁর স্থানীয় অফিসে গত বুধবার ধর্ষকদের নিয়ে ঘটনাটি মীমাংসার জন্য বৈঠক করেন। মেম্বার ‘ধরষক’ ১৪ জনের কাছ থেকে টাকাও নেন ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য। ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় জড়িত তিন ইউপি মেম্বারের মধ্যে শামীমা বেগম হচ্ছেন ‘ধরষিতা’র আশ্রয়দাতা। তিনি ‘ধরষিতা’কে সঙ্গে নিয়ে গত রাতে থানায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

ওসি জানান, লিয়াকত আলী মেম্বার ‘ধরষক’দের নাম-পরিচয় পুলিশকে জানাতে চাননি। তিনি পালিয়ে গেছেন। অন্য নারী মেম্বার খতিজা বেগমও ‘ধরষক’দের রক্ষার জন্য ঘটনা ধামাচাপা দিতে কাজ করেছেন। এমনকি এই দুই মেম্বার তরুণীকে থানায় না যাওয়ার জন্য নানাভাবে চেষ্টা চালান। ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার তৎপরতায় দুই ইউপি মেম্বার লিয়াকত আলী ও খতিজা বেগম পুরোপুরি জড়িত থাকার বিষয় নিশ্চিত করলেও তাঁদের আসামি করা হবে কি না ওসি তা জানাননি।

ওসি প্রভাষ চন্দ্র আরো জানান, ধরষিতা ঘটনার সময় একে অন্যকে ডাকাডাকির মধ্যে তিনজনের নাম জানতে পেরেছেন। তারা হলো ওসমান, আদালত খাঁ ও কামাল। তবে পুলিশ ‘ধরষক’দের মধ্যে চারজনের পরিচয় জানতে পেরেছে। তারা হলো মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের চালিয়াতলী গ্রামের মৃত আবুল হাছির ছেলে আমির সালাম, মোসতাক আহমদের ছেলে এনিয়া, স্থানীয় নলবিলা দরগাহপাড়ার মোকতার আহমদের ছেলে আদালত খাঁ ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ওসমান গনি। ঘটনায় জড়িত অন্যদের নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।