প্রচ্ছদ রাজনীতি সরকারের কাছ থেকে নিয়মিত প্যাকেট পান ফখরুল?

সরকারের কাছ থেকে নিয়মিত প্যাকেট পান ফখরুল?

114
সরকারের কাছ থেকে নিয়মিত প্যাকেট পান ফখরুল?

দুই সপ্তাহ আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ‘প্যাকেজ’ আন্দোলনের কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে। কিন্তু দুই সপ্তাহ গড়ালেও কোন ‘প্যাকেজ’ আন্দোলন তো দূরের কথা, আন্দোলনের নামে কোন কর্মসূচী গ্রহণ করতে পারেনি বিএনপি। এনিয়ে বিএনপির শীর্ষ মহলে নানা রকম কানাঘুষা চলছে। এনিয়ে সন্দেহের তীর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দিকে। স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য মনে করছেন যে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সরকারের গোপন আঁতাত রয়েছে। তিনি সরকারের কাছ থেকে নিয়মিত প্যাকেট পান। প্যাকেট পেয়েই তিনি প্যাকেজ আন্দোলনের কর্মসূচী বন্ধ করে দিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেছেন, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনের কর্মসূচি তৈরী করা হবে। এজন্য একগুচ্ছ প্যাকেজ আন্দোলনের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্দোলনের কর্মসূচী এবং সময়সূচী নির্ধারনের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপর দুই সপ্তাহ পেরুলেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কোন কর্মসূচী ঘোষণা করেননি বা কোন আন্দোলনের দিন তারিখও দিতে পারেননি। কেন দিতে পারেননি এ ব্যাপারে বিএনপির একাধিক সদস্য বলেছেন যে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারকে চাপ দেওয়ার কৌশল হিসেবেই এই প্যাকেজ আন্দোলন কর্মসূচী করতে চেয়েছিলেন। যখনি তিনি সরকারের কাছ থেকে ‘উপঢৌকন’ পেয়েছেন তখনই তিনি আন্দোলনের কর্মসূচী থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন যে, প্যাকেজ আন্দোলন করি আর যে আন্দোলনই করি, আমাদের আন্দোলন করতে হবে। আন্দোলন ছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আর কোন পথ খোলা নেই। কিন্তু এটা বোঝার পরও আমাদের নেতারা কেন আন্দোলনের মতো কোন কর্মসূচী দিচ্ছেন না সেটা আমাদের বোধগম্য নয়। তিনি এটাও স্বীকার করেন যে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে একগুচ্ছ প্যাকেজ আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়েছিল। প্যাকেজে কি কি আন্দোলনের ঘোষণা করা হয়েছিল জানতে চাওয়া হলে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ওই বৈঠকে আমরা বলেছিলাম অবস্থান কর্মসূচী, বিক্ষোভ মিছিলসহ ধাপে ধাপে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচী আমরা পালন করবো। সরাদেশে স্বাক্ষর অভিযান করবো, সারাদেশে মানববন্ধন করবো এবং আন্দোলনকে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু দলের মহাসচিব কেন কর্মসূচী গ্রহণ করছেন না তা তার বোধগম্য নয় বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, জাতীয় সংসদে বিএনপির ৬ জন সদস্যর অংশগ্রহণের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে বৈধতা দিয়েছে বিএনপি। একইসঙ্গে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির পর যখন বাম মোর্চা থেকে হরতাল এবং কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়, সেই হরতাল এবং কর্মসূচী গ্রহণ করার জন্য বিএনপির একাধিক নেতার পক্ষ থেকে চাপ ছিল। সেই চাপে অস্বীকৃতি জানিয়ে মির্জা ফখরুল ওই কর্মসূচিকে সমর্থন দেননি। বরং তিনি ওই কর্মসূচিতে সহমত পোষণ করেছে। বিএনপির মত একটি রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন কর্মসূচি বিহীন। এটা বিএনপির মধ্যে একটি অস্বস্তির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।

বিএনপির অন্যতম নেতা মেজর অব. আবদুল হাফিজ বলেছেন যে, বিএনপি আন্দোলন করতে পারছে না কেনো এটার বিশ্লেষণ হওয়া দরকার। আন্দোলন করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পদত্যাগ করা উচিৎ বলেও তিনি মনে করেন। তিনি মনে করেন যে, বর্তমান নেতৃত্বের পরিবর্তন না হলে বিএনপির মধ্যে আন্দোলন করার কোনো সম্ভাবণাই নাই। এদিকে আন্দোলনকে অন্যখাতে প্রবাহিত করার জন্যই হঠাৎ করেই কাউন্সিলের কথা বলা হয়েছে বলে একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা মনে করছেন। যদিও এখন পর্যন্ত কাউন্সিলের কোনোরকম উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না। বিএনপির শীর্ষস্থানীয় অন্তত দুজন নেতা বলেছেন যে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেটাই চাইছেন যেটা সরকার চাইছে। সরকারের নির্দেশেই এখন বিএনপি পরিচালিত হচ্ছে। যদিও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবী করেছেন, তিনি যা কিছু করছেন তা সবকিছুই খালেদা জিয়ার নির্দেশেই করছেন কিন্তু বিএনপির সিনিয়র নেতারা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ক্রমশই অবিশ্বাস করছে এবং মনে করছে যে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কারণেই বিএনপি ক্রমশ একটি নিষ্ক্রিয় রাজনৈতিক দলে পরিণত হচ্ছে। এরকম পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, আন্দোলন কোনোটাই সম্ভব হচ্ছে না। বিএনপি আসলে কি চায় এই প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা।

ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন সম্প্রতি এক বৈঠকে বলেছেন যে, আমরা যদি আন্দোলন করতে না পারি তাহলে আমরা সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করি। কিন্তু কিছু না করার মধ্যদিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক রহস্য পুরুষে পরিণত হয়েছেন বিএনপির কাছে। এই মুহুর্তে বিএনপিতে দলের সবচেয়ে অজনপ্রিয় ব্যক্তিটি হলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করছেন যে, বিএনপি সঠিক পথেই আছে এবং যখন সময় হবে তখনই আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।