প্রচ্ছদ রাজনীতি নাখোশ তারেক, ফখরুলকে শিগগির আপসারণ

নাখোশ তারেক, ফখরুলকে শিগগির আপসারণ

242
নাখোশ তারেক, ফখরুলকে শিগগির আপসারণ

খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ বিএনপির নেতৃত্ব দেওয়ার ব্যর্থতার কারণে লন্ডনে পলাতক বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বেজায় নাখোশ দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপর। লন্ডন থেকে গতকাল রোববার দলের সিনিয়র এক স্থায়ী কমিটির সদস্যের সাথে আলাপচারিতায় তারেক রহমান তার ক্ষোভ ব্যক্ত করেন মহাসচিবের উপর। এক পর্যায়ে তিনি স্থায়ী কমিটির ঐ নেতাকে বলেন, আপনারা যদি এই মহাসচিবকে দিয়ে কিছু না করাতে পারেন তাহলে তাঁকে চেয়ারে বসিয়ে কার স্বার্থ রক্ষা করছেন?

ক্ষুব্ধ তারেক এসময় বলেন, ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা নিয়ে মহাসচিব জলন্ত আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছেন। বিদ্রোহীদের সাথে আতাঁত করে বিএনপি অফিসে তালা ঝুঁলিয়েছেন এসব কার ইঙ্গিতে মহাসচিব করছেন? বেশ কিছু ঝাঁঝালো প্রশ্ন স্থায়ী কমিটির ঐ সদস্যকে করলে এক পর্যায়ে সিনিয়র ঐ সদস্য অনেকটা কাচুঁমাচু করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি ম্যাডামের সাথে কথা বলবো। তারেক রহমান অনেকটা রাগ হয়ে অপরপ্রাপ্ত থেকে ফোনের লাইন কেটে দেন।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, ফখরুল-তারেক দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন যাবতই চলে আসছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরে উপর বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা নিয়ে বরাবরের মতই প্রশ্ন ছিল তারেক রহমানের। বিশেষকরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাসচিবের উপর একক ভরসা রাখায় দলের চরম বিপর্যয় হয়েছে। তাছাড়া তারেক রহমান মনে করছেন, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগদানে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভ্রান্ত ধারণা দিয়েছেন সবাইকে। তাঁর ভ্রান্ত ধারণার কারণেই পরবর্তীতে নির্বাচনের মাঠে বিএনপির চরম বিপর্যয় হয়। এছাড়া নির্বাচনের পরে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এবং মোকাব্বির খান ধানের শীর্ষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার পরেও কিভাবে বিএনপি কিংবা ঐক্যফ্রন্টের অনুমতি না নিয়ে সংসদে যোগদান করলো সেটি নিয়ে তারেক রহমান প্রশ্ন তোলেন।

ক্ষুব্ধ তারেক রহমান লন্ডনে থাকা একাধিক নেতার সাথে আলাপচারিতায় মহাসচিবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে তীর্যক মন্তব্যও করেন। এসময় তারেক বলেন, দলের মহাসচিবের কথা কেউ শোনে না, তৃণমূল নেতাদের সাথে তাঁর কোন সমন্বয় নেই। বিএনপি চেয়ারপার্সনের মুক্তি আন্দোলন নিয়ে মহাসচিব সঠিক কোন কৌশল নিতে পারেন না। দলের স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য মির্জা ফখরুলের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের তেমন একটা সুর্স্পকও নেই। আর এসব বাস্তবতার কারণেই খালেদা মুক্তি আন্দোলন কোনভাবেই ত্বরান্বিত করা যাচ্ছে না। লন্ডনে থাকা সূত্রটি জানায়, সহসাই সিনিয়র এক আইনজীবির মাধ্যমে তারেক রহমান মা বেগম খালেদা জিয়াকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে চিঠি দেবেন। হয়তোবা সে চিঠিতেই তারেক রহমান মহাসচিব অপসারণের বিষয়টিও তুলে ধরবেন।

সম্পাদক/এসটি