প্রচ্ছদ শিক্ষাঙ্গন “৬ শিশুর ‘ধর্ষক’ মাদ্রাসা শিক্ষকের কুকর্মের তথ্য স্বীকার”

“৬ শিশুর ‘ধর্ষক’ মাদ্রাসা শিক্ষকের কুকর্মের তথ্য স্বীকার”

72
৬ শিশুর 'ধর্ষক' মাদ্রাসা শিক্ষকের কুকর্মের তথ্য স্বীকার

নেত্রকোনার কেন্দুয়া পৌর শহরের বাদে আঠারবাড়ী ‘মা হাওয়া (আ.) কওমি মহিলা মাদ্রাসা’র ৬ শিশু ছাত্রীকে ‘ধর্ষণ’ ও ‘যৌন হয়রানি’র অভিযোগে আটক মাদ্রাসার মুহতামিম আবুল খায়ের বেলালীর বিরুদ্ধে পৃথক দু’টি মামলা করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে তার বিরুদ্ধে নির্যাতিত শিশু ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও ‘শিশু নির্যাতন’ দমন আইনে মামলা করেন।

সূত্র জানায়, কিছুদিন আগে নেত্রকোনার কেন্দুয়া পৌর শহরের বাদে আঠারবাড়ী ‘মা হাওয়া (আ.) কওমি মহিলা মাদ্রাসা’র মুহতামিমের দায়িত্ব দেওয়া হয় মাওলানা আবুল খায়ের বেলালীকে। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলার সোনাকানি গ্রামের ইব্রাহিম বেলালীর ছেলে। মাওলানা আবুল খায়ের বেলালী কেন্দুয়া পৌর শহরের দরগাহ মোড় জামে মসজিদের খতিবেরও দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়া তিনি একজন ওয়াজ-মাহফিলের জনপ্রিয় বক্তা ছিলেন। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে ওই মহিলা মাদ্রাসার শিশু ছাত্রীকে (১১)  ‘ধর্ষণে’র দায়ে মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আবুল খায়ের বেলালী (৩২) কে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে স্থানীয় জনতা। পরে আরো এক ছাত্রী (৮)কে একই কায়দায় ‘ধর্ষণে’র কথা প্রকাশ হয়। এ ঘটনায় শিশু ছাত্রীর (১১) বাবা ও অপর ছাত্রীর (৮) চাচা বাদী হয়ে নারী ও ‘শিশু নির্যাতন’ দমন আইনে পৃথক দুইটি মামলা দায়েরের পর পুলিশ ৩ দিনের রিমান্ড আবেদন করে গতকাল নেত্রকোনা আদালতে সোপর্দ করেছেন।

এদিকে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাওলানা আবুল খায়ের বেলালী গত একবছরে ৬ জন ছাত্রীর সঙ্গে অনুরূপ কুকর্মের কথা স্বীকার করেছে। এসব ছাত্রীর বয়স ৮ থেকে ১১ বছর।

কেন্দুয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবুল খায়ের বেলালী বিভিন্ন প্রলোভনে ও ভয় দেখিয়ে ওই ছাত্রীসহ ৬ জন ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা জানিয়েছে। তার বিরুদ্ধে নির্যাতিত শিশুদের অভিভাবকরা বাদী হয়ে নারী ও ‘শিশু নির্যাতন’ আইনে পৃথক দু’টি মামলা করেন। অন্যরা অভিযোগ দিলে তাদের মামলাও নেওয়া হবে।

তিনি জানান, গত এক বছর ধরে তিনি কেন্দুয়া পৌর শহরের বাদে আঠারবাড়ী ‘মা হাওয়া (আ,) কওমী মহিলা মাদ্রাসা’র মুহতামিমের দায়িত্ব নেন। মাদ্রাসায় প্রায় ৩৫ জন শিশু ছাত্রী রয়েছে। এদের ১৫ জন থাকে আবাসিক। মাওলানা আবুল খায়ের বেলালীও সেখানে আবাসিক বাসিন্দা হন। সময় সুযোগ বুঝে তার পছন্দমতো কোমলমতি ছাত্রীকে ডেকে আনতো তার খাসখামরায় এবং তার গা-হাত-পা টিপে দেওয়ার জন্য হুকুম দিতেন। একপর্যায়ে বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে এই অবুঝ শিশুদের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতেন তিনি। কাজ শেষে ওই অবুঝ শিশুদের হাতে কোরআন শরীফ তুলে দিয়ে- হুজুরের সাথে বেয়াদবি করা যাবে না, হুজুর যা বলে তাই করতে হবে। হুজুরের কথা অমান্য করলে বেহেশতে যাওয়া যাবে না, অমান্য করলে আল্লাহ্‌ তোমাকে দোযখের আগুনে পোড়াবেনসহ আরো অনেক ভীতিকর শপথ করাতেন।

হুজুরের এই ভয়ানক শপথের বাধা অতিক্রম করে শুক্রবার সকালে ওস্তাদের অনৈতিক আচারণ ও যন্ত্রণার মুহূর্তগুলো ‘নির্যাতনে’র শিকার ছাত্রী তার বড়বোনসহ বাড়ির অন্যদের বলে দেয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করে পুলিশে দেয়া হয়।

সম্পাদক/এসটি

ভিডিও:

ছাত্রীকে একজন শিক্ষকের দৈহিক সম্পর্কের প্রস্তাব ফাঁস

ছাত্রীকে একজন শিক্ষকের দৈহিক সম্পর্কের প্রস্তাব ফাঁস। “ধর্ষণ” যুদ্ধকালীন এক আতংক, যা বর্তমান সমাজে বিকৃত মস্তিষ্কের পুরুষের কাছে একটি খেলা।আমরা এক অদ্ভুত সমাজে বাস করি। যে সমাজে নারীর জীবন নানান সমস্যায় জর্জরিত। আর নানান সমস্যার মধ্যে হালে নারী জীবনের সবচাইতে বড় সমস্যা হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে ধর্ষণ।ধর্ষণ এমন এক আতংক যা পৃথিবীর ইতিহাসে একেবারেই নতুন নয়। পৃথিবীর আদি হতে নানান ক্ষেত্রে এটি একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে, এখনও হচ্ছে। আদিকাল থেকে পারিবারিক কলহ হতে শুরু করে রাষ্ট্র ব্যবস্থার দখলদারিত্বে- এই অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। যুদ্ধের সময়ে সময়ে আতংক বাড়ানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে নারীকে ধর্ষণ করা হতো, এবং এখনও হচ্ছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে। যুদ্ধের একটা কৌশলই হলো এই শব্দটি।যুগে যুগে শরীরের শুদ্ধতা দিয়েই নারীকে বিচার করা হয়, এখনও হচ্ছে। তাই নারী’র শরীরের উপর তথাকথিত কলংকের কালি লেপনের মাধ্যমে পুরুষ এক আতংক তৈরি করার চেষ্টা করেছে বিভিন্ন সময়। সফলও হয়নি যে তা নয়।আমাদের যুদ্ধকালীন বহু নারী এরকম শারীরিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে গেছে। আর পরবর্তীতে তার প্রভাব কী ছিলো, কেমন ছিলো তা আমাদের অজানা নয়। এই প্রভাবে নারী ঘর হারিয়েছে, তথাকথিত ‘ইজ্জত’ হারিয়ে হয়েছে দিশেহারা। আর দিশেহারা জীবনের দায় নারীকেই একা বহন করতে হয়েছে। পাশে পরিবার পরিজনকে কমই পাওয়া গেছে, পাচ্ছে।সময় বদলেছে। শিক্ষার হার বেড়েছে। মানুষ ভদ্র হতে ভদ্রতার শিখরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু বদলে যাওয়া সময়ে পুরুষের মস্তিষ্কের খুব বেশি উন্নয়ন হয়েছে কিনা তা গবেষণার বিষয়।

Posted by Sompadak.com on Saturday, July 6, 2019