প্রচ্ছদ বিনোদন “নায়িকা হতে গিয়ে পদে পদে প্রতারণার শিকার যারা”

“নায়িকা হতে গিয়ে পদে পদে প্রতারণার শিকার যারা”

113
নায়িকা হতে গিয়ে পদে পদে প্রতারণার শিকার যারা

কেস স্টাডি- ১: রঙিনপর্দার নায়িকা হওয়া স্বপ্ন নিয়ে দুই বছর আগে ঘর ছেড়েছেন সাভারের কলেজছাত্রী আঁখি আক্তার (১৭)। ২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর সকালে সাভার শাহীবাগ এলাকায় স্বরবর্ণ মাল্টিমিডিয়া অফিসে আসার পর থেকে খোঁজ নেই মেয়েটির। আঁখি ছিলেন সাভার সিএফএম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। তিনি রাজফুলবাড়িয়ার কালিনগর এলাকায় বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতেন। দরিদ্র পরিবারের ওই মেয়েকে নায়িকা বানানোর কথা বলে নিখোঁজ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছিল স্বরবর্ণ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার অজয় রায়ের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা জানাজানির পর পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়ে অজয় রায় এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। মেয়েকে ফিরে পেতে আঁখির মা সাভার মডেল থানায় সাধারণ ডায়রি (নং-১০১৬) করেন। এদিকে নিখোঁজ আঁখির বাবা নবীনগর র‌্যাব ক্যাম্পেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ বলেন, এত বছর পর কে কোথায় আছে কি করে বলবো। তাছাড়া ওইসব কাগজপত্র কোথায় জানি না। নিশ্চয় মেয়েটিকে পাওয়া গেছে, তা না হলে তো মামলা হতো।

কেস স্টাডি- ২: টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বড় পর্দার নায়িকা বানানোর প্রলোভন দিয়ে ১৯ বছর বয়সী এক কলেজছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আকাশ ওরফে ফারুক শিকদারকে আটক করে পুলিশ। ধর্ষক আকাশ ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানার মাইটকুমরা গ্রামের কাইয়ুম শিকদারের ছেলে। গত ১৪ এপ্রিল রাতে গোপালপুর উপজেলার ভোলারপাড়া গ্রামবাসী ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে অভিযুক্ত ধর্ষককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

জানা গেছে, গোপালপুর সরকারি কলেজের অর্নাস প্রথমবর্ষের ওই ছাত্রী গত ২১ জানুয়ারি সকালে কলেজে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সংবর্ধনা ও নবীন বরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। অনুষ্ঠান শেষে থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওই ছাত্রীকে রাস্তা থেকে মাইক্রোবাসযোগে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে নিয়ে যায় আকাশ। সেখানে একটি বাসায় রেখে সিনেমার নায়িকা বানানোর কথা বলে প্রায় তিনমাস টানা ধর্ষণ করে।

এদিকে ধর্ষিতার সঙ্গে সুকৌশলে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তার বড় বোন। বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাদের টাঙ্গাইলের গোপালপুরের ভোলারপাড়া গ্রামে নিয়ে আসা হয়। এই সুযোগে স্থানীয়রা ধর্ষক আকাশ ওরফে ফারুক শিকদারকে গণধোলাই দিয়ে ওই ছাত্রীসহ দু’জনকেই পুলিশে সোপর্দ করে।

কেস স্টাডি- ৩: ছদ্ম নামধারী মায়ার মিডিয়াতে যাত্রা শুরু ২০০০ সালে। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজে মডেল হওয়ার সুবাধে বেশকিছু বন্ধুও তৈরি হয় তার। বন্ধুদের অনুপ্রেরণায় তিনি একদিন এক চলচ্চিত্র প্রযোজকের সঙ্গে দেখা করেন। সেই প্রযোজক আবার হোটেল সোনারগাঁও ছাড়া দেখা করেন না। সেখানে যেতে মায়ার মনে ভয় কাজ করে। তবুও যান। বাসা থেকে কাউকে না বলেই তিনি ওই প্রযোজকের সঙ্গে দেখা করেন।

এ প্রসঙ্গে মায়া বলেন, প্রযোজক আমাকে দেখার পর পছন্দ করে ‘সাইনিং মানি’ হিসেবে ২০ হাজার টাকা দেন এবং পরের সপ্তাহে লোকেশন দেখার জন্য কক্সবাজারে যেতে বলেন। আমি তখন এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছি মাত্র। জীবনে কেউ প্রথম এভাবে এত টাকা আমার হাতে দিলো। বুঝতে পারছিলাম না কি করব। এরপর এক বান্ধবীর বাসায় যাবো মাকে বলে ওই প্রযোজকের সঙ্গে আমার এক বান্ধবীসহ বেরিয়ে যাই। বান্ধবী সঙ্গে যাবে বলে মনে তেমন ভয় কাজ করেনি। তবে কক্সবাজারে যাওয়ার পর ওই বান্ধবীকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে ফেলেন প্রযোজকের এক বন্ধু। সেই রাতের কথা আমি ভুলবো না। আমাকে খাবারের মধ্যে কিছু মিশিয়ে খাওয়ানো হয়েছিল। আমি বুঝতে পারিনি সেদিন। জোরপূর্বক আমার সঙ্গে কি কি করা হয়েছে তা আর মুখে বলতে চাই না।

তারপরও চলচ্চিত্রে কাজ করতে চেয়েছিলেন মায়া। তার মনে জেদ জন্ম নিয়েছিল। তবে শেষমেশ জানতে পারেন সেই প্রযোজক দেশের বাইরে চলে গেছেন। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তিনি কোনও চলচ্চিত্রের প্রযোজকই না। এতকিছুর পরও নায়িকা হওয়ার নেশাটা তারমধ্যে ঠিকই ছিল। মায়া বলেন, এতকিছুর পর আরও একবার এক প্রযোজককে বিশ্বাস করেছিলাম। তিনিও চলচ্চিত্রে নেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে সেই চলচ্চিত্রে আমাকে ছোট্ট একটা চরিত্রে কাজ করতে বলেন। আমি কাজটা দু’দিন করে চলে এসেছিলাম। কারণ বুঝতে পারছিলাম, আমাকে ঠকানো হচ্ছে। নায়িকা হওয়ার জন্য কতকিছুই না করেছি। তারপরও নায়িকা আর আমার হওয়া হয়নি। এখন আমি বিবাহিতা। আমার ঘরে দুই সন্তান রয়েছে। আমি তাদের নিয়ে সুখেই আছি। আমার স্বামী একজন ব্যবসায়ী।

কেস স্টাডি- ৪: নায়িকা হওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন ঢাকার যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা লোপা। লোপার মনে নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন। পরিবারে মাও চাইতেন মেয়ে নায়িকা হোক। অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ার সময়ে লোপা একদিন বনানীর এক ডিজে পার্টিতে যান।
লোপা জানান, ২০০৭ সালের কথা। তখন ফ্যাশন শো’র পাশাপাশি ডিজে শো প্রচুর ছিল। আর এসব পার্টিতে যাবার জন্য বাসায় মিথ্যা কথা বলে বের হতাম। সমাজের উচ্চশ্রেণির মানুষরাও ডিজে অনুষ্ঠানগুলোতে আসতেন। বনানীতে সে রকম একটি অনুষ্ঠানে দেখা হলো একজন চলচ্চিত্র পরিচালকের সঙ্গে। তিনি আমাকে নায়িকা বানাবেন বলে ওয়াদা দিলেন। বাসায় যাবার জন্য বার বার অনুরোধ করলেন। এক পর্যায়ে আমি রাজি হয়ে গেলাম। কিন্তু গিয়ে দেখি বাসায় কেউ নেই। তিনি একা থাকেন। আমি ভয়ে পালিয়ে এসেছি।

তিনি বলেন, অবশ্য চলচ্চিত্রে কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছে। ১০টির মতো চলচ্চিত্রে কাজও করেছি। নাটকেও অভিনয় করেছি। তবে প্রধান চরিত্রে আমাকে কেউই নেয়নি। বারবার পরিচালক-প্রযোজকরা প্রতিশ্রুতি দিয়েও কথার বরখেলাপ করেছেন। এরমাঝে আমার চোখের সামনে অনেকেই নায়িকা হয়েছেন। আমাকেও অনেক নায়ক ভালোবাসার প্রস্তাব দিয়েছেন। আমিও নিজের অজান্তে তাদের মিষ্টি কথায় গলে গিয়েছি। কিন্তু আমি আজও চলচ্চিত্রের এক্সট্রা শিল্পী হিসেবেই পরিচিত। এখন আর তেমন এফডিসিতে যাই না। একটা বিয়েও হয়েছিল আমার। সেটাও টিকেনি।

লোপা বলেন, চলচ্চিত্রে থেকে অনেক কিছু হারিয়েছি। যেটুকু পেয়েছি সেটা আর বলার মতো না। তবে দোষটা আমারই। পরিবারের কথা না শুনে সেই যাত্রাবাড়ী থেকে এসে এফডিসিতে সারাদিন পড়ে থাকতাম। এখন এলাকায় ছোট্ট একটা বেকারির দোকান আছে আমার। সেখানে আমার ছেলে বসে। আমিও মাঝে মাঝে বসি। এই তো।

লাইট! ক্যামেরা!! অ্যাকশন!!! রঙিন দুনিয়া, রঙিন স্বপ্ন নিয়ে আশায় বুক বাঁধছে হাজারো যুবক-যুবতী। বড়পর্দায় ভেসে উঠবে তার মুখ। দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনে হয়ে উঠবেন দেশসেরা সেলিব্রেটি। কিন্তু সবার সেই স্বপ্ন কি আর পূরণ হয়? অনেক ক্ষেত্রে হারিয়ে যান সঠিক পথটি খুঁজে না পেয়ে। অথবা ভুল পথে পা বাড়িয়ে শিকার হন প্রতারণার।

ডিজিটাল চলচ্চিত্রের নামে সম্প্রতি প্রতারণার মাত্রা বেড়ে গেছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে মিডিয়া হাউস। নামে-বেনামে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠান সোশ্যাল মিডিয়াসহ নানা মাধ্যমে প্রচার করছে চটকদার বিজ্ঞাপন। কাছে গেলেই দিচ্ছে মিষ্টি কথার প্রতিশ্রুতি। এতে সহজেই আগ্রহী হয়ে উঠছেন তরুণ প্রজন্ম। আর এই আগ্রহকে পুঁজি করে নতুন নায়ক-নায়িকা হতে ইচ্ছুকদের সঙ্গে বাড়ছে প্রতারণা। দেশের সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা তরুণীরাই বেশি শিকার হচ্ছেন এমন প্রতারণার। এমনটিই অভিযোগ করেছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলচ্চিত্রে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা কোনও চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত নয়। তারাই নতুনদের সঙ্গে প্রতারণায় যুক্ত। যারা নতুন কাজ করতে চান, তারা সহজে এসব প্রতিষ্ঠানের ফাঁদে পা দেন। এর বাইরে আবার কিছু লোক আছেন পেশাদার প্রতারক। তারা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়ে চলচ্চিত্র তারকাদের সঙ্গে ছবি তুলে নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন। মূলত তারা নিজেদের চলচ্চিত্রের লোক হিসেবে প্রমাণ করতে চান। তারপর ফেসবুকে বিভিন্ন ছেলে-মেয়েকে চলচ্চিত্রে কাজ করার প্রস্তাব দেন। রাজি হয়ে গেলেই শুরু হয় প্রতারণার ফাঁদে ফেলা। ছেলেদের সঙ্গে এক ধরনের আর মেয়েদের ক্ষেত্রে হয় আরেক ধরনের প্রতারণা।

এ প্রসঙ্গে চলচ্চিত্রের সহশিল্পী মিজান বলেন, প্রতারকদের মূল শিকার হন মেয়েরা। তারা প্রায় সবাই মফস্বলের সাধারণ পরিবারের মেয়ে। চলচ্চিত্রে কাজ দেয়ার নাম করে তাদের ঢাকায় নিয়ে আসে। অভিনয়, ফাইট, ড্যান্স শেখানোর নামে তাদের ক্লাস করানো হয় কয়েকদিন। একটু বিশ্বাস তৈরি করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। তারপর শুরু হয় তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন। চলচ্চিত্রে কাজ পাওয়া ও নায়িকা হওয়ার স্বপ্নের কারণে মুখ বুজে তারা সব সহ্য করে। যখন তারা বুঝতে পারে তারা ভুল জায়গায় এসেছে, তখন তাদের ফিরে যাওয়ার পথ থাকে না।

মিজান আরও বলেন, প্রতারণা করে প্রথমেই মেয়েদের আপত্তিকর কিছু ভিডিও ক্লিপ ও ছবি নিয়ে নেয়, যেন মেয়েটি তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে না পারে। এই কারণে মেয়েটি হয় আত্মগোপনে চলে যায়, না হয় তাদের সাথে মিশে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়।

বিষয়টি নিয়ে কেউ অভিযোগ না করা প্রসঙ্গে মিজান বলেন, ছেলে-মেয়েরা কার সঙ্গে কাজ করছে এটা যেমন জানে না, তেমনি কোথায় অভিযোগ করতে হবে সেটাও তাদের জানা নেই। আর প্রতারকচক্র এমনভাবে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে, তারা জিম্মি হয়ে যায়। নানা কারণে আর নিজের এলাকাতেও ফিরতে পারে না। তাদের বেশিরভাগেরই জীবন নষ্ট হয়ে যায়। তবে চলচ্চিত্র সহশিল্পী সমিতিতে আসলে এসব প্রতারণার বিহিত আমরা করার চেষ্টা করি।

প্রতারণা প্রসঙ্গে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বলেন, সাধারণ মানুষের অতি আগ্রহ, আর অজ্ঞতার কারণেই এসব ঘটনা ঘটে। নতুন কেউ কাজ করতে চাইলে বা কেউ কাজের প্রস্তাব দিলে আগে আমাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ করা উচিত। তাহলে কেউ তার সঙ্গে প্রতারণার সুযোগ পাবে না। নতুন যারা কাজ করতে চান তাদের বলব, আপনারা সরাসরি এফডিসির শিল্পী সমিতিতে চলে আসুন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব।

তিনি বলেন, নতুনদের মনে রাখতে হবে সব কাজের মতো অভিনয়টাও একটা কঠিন কাজ। ফেসবুকে একজন বললো, আপনি খুব সুন্দর, নায়িকার মতো লাগছে, অভিনয় করবেন কি-না, আর আপনি চলে গেলেন- বিষয়টি আসলে এতো সহজ নয়। অভিনয় এত সস্তা নয়। দুদিন ট্রেনিং করেই নায়ক-নায়িকা হওয়া যায় না। এজন্য নতুনদের আরও সচেতন হতে হবে। আর সচেতনতাই পারে এ ধরনের প্রতারণা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে।

শুধু এই ধরনেরই নয়, প্রতারণার রকমফের আছে চলচ্চিত্রের ভেতরে-বাইরে। অনেকে চলচ্চিত্রের প্রধান নায়িকা হতে এসেও শিকার হয়েছেন প্রতারণার কিংবা ফিল্ম পলিটিক্সের। সে কারণে তারা আজীবন রয়ে গেছেন দ্বিতীয় নায়িকা, অতিরিক্ত শিল্পী কিংবা আইটেম গার্ল হয়ে। প্রতিষ্ঠিত প্রধান নায়িকা, পরিচালক, প্রযোজক, সহশিল্পী এবং পলিটিয়াশনদের কারণে তারা পৌঁছাতে পারেন না তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে। এসব পরিস্থিতির যারা শিকার তাদের সেক্ষেত্রে মেধা, শ্রম ও নিষ্ঠাও কাজে লাগে না। যুগের পর যুগ তারা যেটা দিয়ে শুরু করেছেন সেটাই করে যেতে হয়।

এমন অবহেলার শিকার একজন অতিরিক্ত শিল্পী নাসরিন। তিনি নব্বই দশকের শুরুর দিকে চলচ্চিত্রে আসেন প্রধান নায়িকা হওয়ার জন্য। কিন্তু সুযোগের অভাবে তাকে শুরু করতে হয় অতিরিক্ত শিল্পী হিসেবে। অভিনয়ের আজ তিন দশক হতে চললেও নাসরিন আর প্রধান নায়িকা হতে পারেননি।

এ প্রসঙ্গে নাসরিন বলেন, আমি মূলত প্রধান নায়িকা হতে পারিনি দিলদার ভাইয়ের কারণে। তার সাথে জুটিবেঁধে কৌতুক অভিনয় করায় আমাকে আর কেউ প্রধান নায়িকার সুযোগ দেয়নি। আবার মাঝে মাঝে ভাবি, দিলদার ভাই না হলে তো আমি এত পরিচিতিও পেতাম না। নায়িকা হওয়ার চিন্তায় বসে থাকলে আবার হারিয়েও যেতে পারতাম।

নাসরিন আরও বলেন, প্রধান নায়িকা না হতে পারি, সহনায়িকা তো হয়েছি। আলেকজান্ডার বো, সোহেল, মেহেদীসহ অনেকের সঙ্গেই দ্বিতীয় নায়িকা হয়েছি। কাহিনির কারণে কখনও কখনও কাঞ্চন ভাই, মান্না ভাইয়েরও নায়িকা হয়েছি। এরপরও অনেক কষ্ট আর অবহেলার কথা মনে হলে কান্না পায় আমার। যেমন- একবার ‘সাম্পানওয়ালা’ সিনেমার শুটিং চলছে। সাদা একটা ড্রেস পরেছি আমি। হঠাৎ করেই নায়িকা মৌসুমী বললেন, আমিতো সাদা পরব। তুই এ ড্রেসটা খুলে ফেল। খুলে আমি লাল কালারের ড্রেস পরি। শুটিংয়ে শট দেয়ার জন্য গাড়িতে উঠবো- এমন সময় মৌসুমী আবার বলেন, আমি লাল ড্রেস পরব, তুই অন্য কালারের ড্রেস পর। আমি ড্রেস পরে এসে দেখি আমাকে রেখেই শুটিংয়ের গাড়ি চলে যায়। এরপর টিয়ে কালারের একটি ড্রেস পরে শুটিং করতে হলো আমাকে। ‘গোলাপজান’ সিনেমার শুটিংয়ে আমাকে দেখে তো মৌসুমী ভীষণ রেগে গেলেন। আমি থাকলে তিনি শুটিংই করবেন না। কথাগুলো মনে হলে এখনও কান্না পায় আমার।

নাসরিনের মতোই আরেকজন বিপাশা কবির। তিনিও চলচ্চিত্রে আসেন প্রধান নায়িকা হওয়ার জন্য। কিন্তু ভালো নাচ জানার সুবাধে তার সুযোগ হয় প্রথম আইটেম গার্ল হিসেবে। শতচেষ্টা করেও আর প্রধান নায়িকা হতে পারেননি। তবে সম্প্রতি তিনি একটি চলচ্চিত্রে প্রধান নায়িকার সুযোগ পেয়েছেন অনেক কষ্ট করে ও শর্তের বিনিময়ে।

এ প্রসঙ্গে বিপাশা কবির বলেন, আমি চলচ্চিত্রের প্রধান নায়িকা হওয়ার জন্যই এসেছিলাম। এ জন্য জাজ মাল্টিমিডিয়ায় একটি সিনেমায় লেডি অ্যাকশন চরিত্রের জন্য অডিশন দিয়েছিলাম। কিন্তু অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। গত চার বছর ধরেই বেশ ক’বার নায়িকা হওয়ার জন্য চেষ্টাও করছিলাম। অনেক প্রতিবন্ধকতা জয় করে অবশেষে সুযোগ মিলেছে প্রধান চরিত্রে কাজ করার।

বিপাশা কবির আরও বলেন, আমি চলচ্চিত্রে হারিয়ে যেতে আসিনি। আইটেম গার্ল থেকে প্রধান নায়িকা হতে আমাকে অনেক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে। তবুও আমি টিকে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু হার মানবো না। আমি যেভাবেই হোক নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবো।

নায়িকা হতে আসার পেছনে অনেক পরিচালক ও প্রযোজক আমাকে তাদের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কে জড়ানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আমি এসবকে কোনওভাবেই পাত্তা দেয়নি। তবে আমি দেখেছি, যারা এ ধরনের প্রস্তাব দেয় তারা মূলত এক-দুই দিন শুটিং করে উধাও হয়ে যাওয়ার মতো পরিচালক। প্রতিষ্ঠিত পরিচালকরা এমন ধরনের প্রস্তাব কখনও দেন না।

সম্পাদক/এসটি