প্রচ্ছদ আইন-আদালত ‘নয়ন বন্ড একদিনে তৈরি হয়নি: হাইকোর্ট’

‘নয়ন বন্ড একদিনে তৈরি হয়নি: হাইকোর্ট’

415
'নয়ন বন্ড একদিনে তৈরি হয়নি: হাইকোর্ট'

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত নয়ন বন্ড একদিনে তৈরি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার রিফাত হত্যা মামলার প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হলে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ কথা বলেন।হাইকোর্ট বলেছেন, আমরা বিচারবহির্ভূত হত্যা পছন্দ করি না। নয়ন বন্ড একদিনে তৈরি হয়নি। কেউ পেছন থেকে লালন পালন করেছে, ক্রিমিনাল বানিয়েছে। আদালতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।
বরগুনা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের দাখিলকৃত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, রিফাত হত্যার সঙ্গে জড়িত এজাহারভুক্ত এখন পর্যন্ত পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার আছেন আরো চারজন।
এতে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন আসামি ধরতে অভিযান চালানোর সময় পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালালে পুলিশ আত্মরক্ষায় গুলি করতে বাধ্য হয়। গোলাগুলি থেমে গেলে পুলিশ সেখান থেকে নয়ন বন্ডের লাশ শনাক্ত করে।
এর আগে, গত ২৭ জুন, রিফাত হত্যার বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছিলের হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারে সেজন্য সীমান্তে অ্যালার্ট জারি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়শা আক্তার মিন্নি হামলাকারীদের বাধা দিয়েও স্বামীকে রক্ষা করতে পারেননি। গুরুতর আহত রিফাতকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ওই দিন বিকেলে তিনি মারা যান।

যারা ছেলেকে বন্ড বানিয়েছে তাদের বিচার চায়: নয়নের মা

রিফাত খুনের আসামী নয়ন বন্ডের ক্রসফায়ারে নিহত হবার পর তার মা সাহিদা বেগম বলেন বলেন, ‘কোথায় আজ এমপি পুত্র? যে কথায় কথায় বলত, আন্টি আপনার ছেলের কিছু হবে না। কোথায় আজ থানা-পুলিশ? যারা আমার লাজুক নয়নকে আজকের নয়ন বন্ড বানিয়েছে? থানা পুলিশ প্রতিদিন আসত আমার বাড়িতে, তারা সারারাত নয়ন আর রিফাত ফরাজী ও রিসান ফরাজীর সাথে আড্ডা দিত। রাতভর নেশা করত। হেরোইন-ইয়াবা সেবন করত।মাঝে মাঝে মেয়ে নিয়ে আসত আমার বাড়িতে, সারারাত ফূর্তি করত, কোথায় আজ সেইসব পুলিশ? আমি মা হয়েও ছিলাম অসহায়, একবার আমি নিজে থানায় অভিযোগ করছিলাম, পরে পুলিশ তা নয়নকে জানিয়ে দেয়, তারপর নয়ন আমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। আমি তিনদিন বাড়িতে আসতে পারিনি।’

নয়নের মা বলেন, ‘মিন্নীকে নয়ন ডিস্টার্ব করত- একথা ৪ মাস আগে মিন্নী নিজেও আমাকে বলছিল। আমি মিন্নীকে বলছিলাম, একটা ভাল ছেলে দেখে বিয়ে করে নাও, তাহলে হয়তো আর ডিস্টার্ব করবে না। রিশান ফরাজী আর রিফাত ফরাজীর মাদক ব্যাবসা আর ছিনতাই-চাঁদাবাজি আমার নয়ন শুধু দেখাশুনা করত। তারা দুজনই আগে রিফাতকে কুপিয়েছে, কই তাদের একজন তো গ্রেফতার হয়েছে কিন্তু আমার নয়নের মত ক্রসফায়ার দেওয়া হয়নি। তাদের খালু জেলা চেয়ারম্যান বলে? যেই পুলিশ আমার নয়নকে সন্ত্রাসী বানিয়েছে তারাই আমার নয়নের বিরুদ্ধে আজ কথা বলছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি নয়নের মৃত্যুতে কোন অভিযোগ করব না কিন্তু যে পুলিশেরা আমার লাজুক নয়নকে আজকের নয়নে পরিণত করেছে, আমি তাদের বিচার চাই। তাদের বিচার না-হলে ঘরে ঘরে এরা নয়ন জন্ম দিবে। রিফাতকে খুন করার দুদিন আগের রাতেও দুজন পুলিশ আমার ঘরে নয়নের সাথে আড্ডা দিয়েছিল ৩ ঘন্টা।আমি অসুস্থ শরীর নিয়েও তাদের জন্যে খাবার বানিয়ে ছিলাম। তারা আমার সামনেই মদ খেয়েছে।’

সম্পাদক/এসটি