প্রচ্ছদ রাজনীতি “আ’লীগে অনুপ্রবেশকারী জামায়াত বিরোধী শুদ্ধি অভিযান”

“আ’লীগে অনুপ্রবেশকারী জামায়াত বিরোধী শুদ্ধি অভিযান”

46
আ'লীগে অনুপ্রবেশকারী জামায়াত বিরোধী শুদ্ধি অভিযান

মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন। যে সংগঠনটি আজীবন মৌলবাদ সাম্প্রদায়িকতা এবং প্রতিক্রিয়াশীলদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে বিকশিত হয়েছে। একাত্তরের পর থেকেই যে দলটি স্বাধীনতা বিরোধী এবং যুদ্ধাপরাধীদের ব্যাপারে স্পষ্ট অবস্থানে ছিল। যে দলটি ২০০৯ সালে স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থানের কারণেই ২০০৯ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, সেই দলটি এখন তার ভিতরে ঢুকে পড়া স্বাধীনতা বিরোধী এবং যুদ্ধাপরাধীদের আত্মীয় স্বজনদের খোঁজে তদন্তে নেমেছে।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, আগামী কাউন্সিলের আগেই নিষ্কলুষ হতে চায়। দলের ভিতর স্বাধীনতা বিরোধী এবং যুদ্ধাপরাধী যারা ঢুকে পড়েছে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগের ২০০৯ সাল থেকে টানা ক্ষমতায় থাকার কারণে অনেক সুবিধাবাদী স্বাধীনতা বিরোধীদের আত্মীয় স্বজন বেশকিছু তৃনমূলের ঢুকে পড়েছেন বলে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড মনে করছে। যার কিছু আলামতও আওয়ামী লীগ বিভিন্ন ঘটনায় পেয়েছে। এ কারণেই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের সাধারণ সম্পাদকসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে সেই সমস্ত স্বাধীনতা বিরোধীদের খুঁজে বের করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই দিয়েছিলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নানা রকম ব্যস্ততা, পরবর্তীতে দলের সাধারণ সম্পাদকের অসুস্থতার কারণে বিষয়টি ততদূর এগোয়নি। কিন্তু এখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলের আগেই এবং নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযানের শুরুতেই এ তালিকা তৈরীর উদ্যোগ নিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক বলেছেন, ২০০৯ সালের পর, বিশেষ করে ২০১৪-১৫ সালে প্রচুর পর্যায়ে স্থানীয় পর্যায়ের বিএনপি জামাতের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আওয়ামী লীগে প্রবেশ করেছিল। তিনি আরো জানান যে, প্রবেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল ২০১৩-১৪তে তারা যে বিএনপির হয়ে সারাদেশে সহিংসতা এবং নাশকতা করেছিল। এমনকি দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার রায়ের পরে জামাত শিবির সারাদেশে যে তাণ্ডব করেছিল সেগুলোতে যারা অভিযুক্ত, মূলত তারাই মামলার দায় থেকে বাঁচাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দর দ্বারস্থ হয় ও আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। আবার অনেক স্থানে তৃনমূলের কাছে কোনঠাসা হয়ে পড়া এমপি মন্ত্রীরা তাদের প্রভাব প্রতিপত্তি বিস্তারের জন্য বিএনপি-জামাতের কর্মীদের আওয়ামী লীগে প্রবেশ করান। যে কারণে গত দশ বছরে একটা বড় সংখ্যক জামাত এবং বিএনপি আওয়ামী লীগে প্রবেশ করেছে বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের আরেকজন সাংগঠনিক সম্পাদক বলেছে, আওয়ামী লীগে যে জামাত শিবিরের অনুপ্রবেশ ঘটেছে সেটার প্রমাণ পাওয়া যায় ছাত্রলীগে। বর্তমানে ছাত্রলীগে এত বাছ-বিচারের পরও যখন কমিটি গঠন করা হয়েছে, তখন দেখা যাচ্ছে অনেকেই জামাত শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না থাকলেও তার পরিবারের কেউ না কেউ জামাত শিবিরের সঙ্গে আছে।

আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, পঁচাত্তরে বা ২০০৭ সালে আদর্শগতভাবেই আওয়ামী লীগকে পরাজিত করা যায়নি। সেজন্য আওয়ামী লীগকে পরাজিত করতে স্বাধীনতা বিরোধীরা সুপরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগে ঢুকেছে এবং তারাই বিভিন্ন ঘটনা ঘটিয়ে আওয়ামী লীগের ঘাড়ে বদনাম চাপানোর চেষ্টা করছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন। আওয়ামী লীগের বদনাম করার জন্য এরাই বিভিন্ন অপকর্ম করছে। এজন্যই আওয়ামী লীগ সভাপতি দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। যারা জামাত শিবির, তাদেরকে খুঁজে বের করে একটি তালিকা তৈরীর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনে তাদের দল থেকে বের করে দেওয়া হবে এবং আগের অবস্থানে নিয়ে যাওয়া হবে আওয়ামী লীগকে।

সম্পাদক/এসটি