প্রচ্ছদ অর্থ-বাণিজ্য ‘জিয়া পরিবার মনোনয়ন বাণিজ্যের টাকাই পাচার করছে সুইজারল্যান্ডে’

‘জিয়া পরিবার মনোনয়ন বাণিজ্যের টাকাই পাচার করছে সুইজারল্যান্ডে’

36
‘জিয়া পরিবার মনোনয়ন বাণিজ্যের টাকাই পাচার করছে সুইজারল্যান্ডে'

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে যে বাংলাদেশীদের টাকা পাওয়া গেছে, তার বেশিরভাগই গেছে সিঙ্গাপুর থেকে। এ ব্যাপারে দূর্নীতি দমন কমিশন এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনুসন্ধান করছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী গত এক বছরে বাংলাদেশ থেকে এক হাজার তিনশ কোটি টাকা সুইজারল্যান্ডের অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। কিন্তু প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে যে, এই টাকা হুন্ডির মাধ্যমে প্রথমে গেছে সিঙ্গাপুরে। সিঙ্গাপুর হয়ে পরবর্তীতে গেছে সুইস ব্যাংকে।
এই টাকার বড় অংশই অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ থেকে গেছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। দেখা যাচ্ছে যে, অক্টোবর মাসেই ১৩০ কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। সেখান থেকে ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারের মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে জমা পড়েছে সেগুলো।
উল্লেখ্য যে, তারেক জিয়ার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান, তার মেয়ে জাইমা রহমান এবং কোকোর মেয়ে শর্মীলা রহমান এই তিনজনেরই সিঙ্গাপুরে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সিঙ্গাপুরে তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। শপিং মলসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের অংশীদার তারা।
গোয়েন্দা অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে যে, ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার মধ্যে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়ের মধ্যে পাচার হয়েছে ৯০০ কোটি টাকা। বাকি টাকা সারা বছরব্যাপী সুইস ব্যাংকে জমা পড়েছে। এর মধ্যে ১২৫ থেকে ১৩০ কোটি টাকা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের যা বাংলাদেশে আসেই নি। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বৈধ পথেই গেছে সেগুলো।
অন্যদিকে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিএনপি নেতা মোরশেদ খানের সিঙ্গাপুরের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে ১২০ কোটি টাকা। আবদুল আউয়াল মিন্টুর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাকাউন্ট থেকে সিঙ্গাপুরের অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে প্রায় শতাধিক কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে, বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরে যে টাকা পাচার হয়েছে সেগুলো হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করেছেন তারেক জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী অপু। তিনি বর্তমানে গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের একাধিক মামলা রয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে যে, নির্বাচনের সময় তারেক জিয়া বিভিন্ন ব্যক্তিতে কনোনয়ন দিয়ে টাকা নেন। সেই টাকাগুলো সংগ্রহ করেন অপু এবং আরও কয়েকজন বিএনপি নেতা। সেই সংগৃহিত টাকা হুন্ডির মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে পাচার করা হয়। সিঙ্গাপুর থেকে সেই টাকা সুইজারল্যান্ডে চলে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তারেক জিয়া যে সুইজারল্যান্ডের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই যাবতীয় খরচ নির্বাহ করছেন তার প্রমাণ পাওয়া যায় তারেক জিয়া এবং তার পরিবারের সাম্প্রতিক কেনাকাটা থেকে। গত ছয় মাসে তারেক জিয়ার স্ত্রী এবং সন্তানরা ইউবিএস ব্যাংক এবং ক্রেডিট সুইস এর দুটি আন্তর্জাতিক ডেবিট এবং ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে তাদের প্রতিদিনের খরচ নির্বাহ করেছেন। এটা থেকেই বোঝা যায় যে, সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকের টাকার মাধ্যমেই তারা জীবিকা নির্বাহ করছেন এবং ভরণপোষণ চালাচ্ছেন। আর এই টাকাগুলো অবৈধ পথে সুইজারল্যান্ডে এসেছে।

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কিনা জানতে চাওয়া হলে দুদকের একজন কর্মকর্তা বলেছেন যে তারা তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছেন। যাদেরই বিদেশে টাকা থাকুক না কেন, তারা সুইজারল্যান্ড সরকারের কাছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে এই টাকার উৎস সম্পর্কে জানতে চাইবে। এই টাকা উদ্ধারের জন্যেও যা যা করা দরকার সব তারা করবে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে যে, এই অর্থ পাচারের ঘটনায় তারেক জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী বর্তমানে গ্রেপ্তার আছেন। এছাড়াও যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। যারা টাকা পাচার করেছে তাদের সবাইকেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে গোয়ান্দা সংস্থাগুলো মনে করছে।

সম্পাদক/এসটি