প্রচ্ছদ আইন-আদালত ‘ঘটনার তিন দিন পরেও আসামীরা কেন ধরাছোঁয়ার বাইরে?’

‘ঘটনার তিন দিন পরেও আসামীরা কেন ধরাছোঁয়ার বাইরে?’

21
ঘটনার তিন দিন পরেও আসামীরা কেন ধরাছোঁয়ার বাইরে?

হত্যার ভিডিও ফুটেজ থাকায় জড়িতদের শনাক্ত করতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি পুলিশের। ইতিমধ্যেই ১৩ জনকে শনাক্তও করা হয়ে গেছে। আসামিদের কেউ যেন দেশ ত্যাগ করতে না পারে, সে জন্য দেশের সব বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও নৌবন্দরে রেড অ্যালার্টও জারি করা হয়েছে। কিন্তু এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে মূল খুনিরা। এ ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ধরা পড়েনি মূল খুনি সাব্বির আহমেদ নয়ন, রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজী।
বরগুনার রাস্তায় প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার পর পেরিয়ে গেছে তিন দিন। বরগুনা জেলা পুলিশের পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), র‌্যাব এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ইউনিট আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে কাজ করছে। অথচ এখনও এই হত্যার সঙ্গে সরাসরি যারা জড়িত ছিল তাদের একজনকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
বরগুনার পুলিশ বলছে, অচিরেই মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। কিন্তু সেই ‘অচিরেই’টা কখন তা নিয়ে সন্দিহান বারগুনাবাসী। আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে রিফাত শরীফের পরিবার। হত্যাকারীরা যে কোনো সময় তাদের ওপরও চড়াও হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
রিফাত হত্যার পর গত বুধবার রাতেই রিফাতের বাবা আবদুল হালিম মামলা করেন। মামলায় দুলাল শরীফ নয়ন, রিফাত ফরাজী এবং রিশান ফরাজীসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়। আসামিরা হলো চন্দন, মো. মুসা, মো. রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রায়হান, মো. হাসান, রিফাত, অলি ও হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়। তাদের মধ্যে চন্দন ও হাসান ছাড়া নাজমুল হাসান নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এদের কেউই মূল আসামি নন।

এ হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ডের নামে মাদক, হামলা, ছিনতাই ও চুরির আটটি মামলা রয়েছে। রিফাত ফরাজীর নামেও চারটি মামলা রয়েছে বরগুনা থানায়। এসব মামলার পরও তারা কীভাবে প্রকাশ্যে অপরাধ করে বেড়ানোর সাহস পায় প্রশ্ন উঠছে সেটা নিয়েও। বলা হচ্ছে, এলাকার প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ছিল বলেই এই সন্ত্রাসীচক্রের বিরুদ্ধে পুলিশও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এজন্য খুনিচক্রের আশ্রয় প্রশ্রয়দানকারী মহলের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে এলাকাবাসী।

 সম্পাদক/এসটি