প্রচ্ছদ অর্থ-বাণিজ্য জিয়া পরিবারেরই ৫০০ কোটি টাকা সুইস ব্যাংকে

জিয়া পরিবারেরই ৫০০ কোটি টাকা সুইস ব্যাংকে

513
জিয়া পরিবারেরই ৫০০ কোটি টাকা সুইস ব্যাংকে

সুইস ব্যাংকে গত বছর বাংলাদেশিদের ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা জমা পড়েছে, এটা সবাই জানে। কিন্তু এই টাকা কাদের তা নিয়ে নানা আলোচনা এবং গুঞ্জন উঠেছে। গত বছর ছিল নির্বাচনের বছর। এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নির্বাচন উপলক্ষেই বিপুল পরিমান টাকার লেনদেন হয়েছে। সুইস ব্যাংকের মূলত চারটি ব্যাংকে এই টাকাগুলো গচ্ছিত রাখা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে- ইউএসবি ব্যাংক, ক্রেডিট সুইস, জুরিখ কন্টিনেটাল ব্যাংক ও এএফজি ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক। অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে যে, তারেক জিয়ার মেয়ে জাইমা রহমানের অ্যাকাউন্ট রয়েছে দুটি সুইস ব্যাংকে। এই দুটি অ্যাকাউন্টে বাংলাদেশি টাকায় অন্তত ২০০ কোটি টাকা জমা হয়েছে। তারেক জিয়ার স্ত্রী ড. জোবায়দা রহমানের নামে রয়েছে আরও দুটি অ্যাকাউন্ট। সেই অ্যাকাউন্টগুলোতে জমা পড়েছে ১৭৫ কোটি টাকা। প্রয়াত কোকোর স্ত্রী শর্মীলা রহমান সিঁথির একটি অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে ১২৫ কোটি টাকা।

ধারণা করা হচ্ছে যে, নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন বাণিজ্যের টাকাই সুইস ব্যাংকে জিয়া পরিবারের অ্যাকাউন্টগুলোতে জমা পড়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে যে, গত বছরের বিভিন্ন সময় শুধু জিয়া পরিবারের তিন সদস্যের নামেই প্রায় ৫০০ কোটি টাকা জমা পড়েছে। টাকাগুলো জমা পড়েছে জুলাই থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে। এতে করে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, মনোনয়ন বাণিজ্যের জন্যই এই টাকা জমানো হয়েছে।

শুধু জিয়া পরিবারের তিন সদস্যই নয়, সুইস বিভিন্ন ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট আছে বিএনপির অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং তার পুত্র তাবিথ আউয়ালের। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীরও একটি অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেছে। এছাড়া অ্যাকাউন্ট আছে, বিএনপির অন্যতম নেতা মোরশেদ খান এবং তার ছেলে ফয়সাল খানের নামেও।

এছাড়া শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনুসের গ্রামীন সোশ্যাল বিজনেস (সামাজিক ব্যবসা) এর নামেও সুইস ব্যাংকে দুটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। ওখানে তার একটা স্থায়ী আমানত আছে। নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়ে যে অর্থ তিনি পেয়েছিলেন তার পুরোটাই তিনি সেখানে জমা রেখেছেন বলে ধারণা করা হয়। ওই টাকা তিনি দেশে আনেননি। এছাড়াও ড. মুহাম্মদ ইউনুস বিভিন্ন দেশে যে সামাজিক যোগাযোগ ব্যবসা করছেন এবং বক্তৃতা দিচ্ছেন সেই টাকা সুইস ব্যাংকেই তিনি জমা রাখছেন বলে জানা যায়।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, লন্ডনে কঠোর নজরদারি থাকার কারণে তারেক জিয়ার পরিবার টাকা লেনদেনের নিরাপদ জায়গা হিসেবে সুইজারল্যান্ডকে বেছে নিয়েছে। কারণ এখানে গোপনীয়তা রক্ষা করা হয় এবং টাকা যিনি রাখেন তাকে সুরক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ব্রিটেনে থাকার কারণে এবং অবৈধ লেনদেনের কানেকশন থাকার কারণে তারেক জিয়া অর্থ ঠিকই তুলতে পারেন। এই অর্থগুলো দিয়েই তিনি লন্ডনে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সম্পাদক/এসটি